১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:২৩

এগুলো ডায়নোসরের পায়ের ছাপ!

 

বিবিধ ডেস্কঃ বহুদিনের পুরনো অদ্ভুত কিছু গর্ত ছিল স্কটল্যান্ডের সমুদ্র উপকূলে। শক্ত শিলার ওপর সে গর্তগুলো কিসের তা নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয় এক শিক্ষার্থীর। তিনি বিষয়টি আরো কয়েকজনকে জানান। এরপর বিষয়টি ভালোভাবে অনুসন্ধান করে জানা যায়, এগুলো ডায়নোসরের পায়ের ছাপ।

সম্প্রতি গবেষকরা স্কটল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপহ্রদটির সেই ছাপগুলো পরীক্ষা করে জানিয়েছেন এগুলো জুরাসিক যুগের মধ্যভাগের এক ডায়নোসরের পায়ের ছাপ। এ ছাপগুলো অন্যান্য ডায়নোসরের ছাপের তুলনায় যথেষ্ট স্পষ্ট।স্পষ্ট এই ছাপ থেকে ডায়নোসরদের জীবনযাপন সম্পর্কে আরও জানা যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। ব্রাদার্স পয়েন্ট নামের এলাকায় পাওয়া যায় পায়ের এই ছাপগুলো।

ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরা ও চায়নিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষকরা ১৭ কোটি বছরের পুরনো ৫০টি পায়ের ছাপ চিহ্নিত করেছেন। উত্তর-পশ্চিম স্কটল্যান্ডের আইল অব স্কাই নামের দ্বীপসংলগ্ন হ্রদে পাওয়া গেছে এসব প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শন।গবেষকরা ধারণা করেন, দুটি ডাইনোসরের পায়ের ছাপ আছে এর মধ্যে। এর একটি হলো লম্বা-গলার সরোপড ডাইনোসর, অন্যটি টাইরানোসরাস রেক্সের একেবারেই কাছাকাছি প্রকৃতির দাঁতাল থেরোপড।

গবেষণার সহ-লেখক স্টিভ ব্রাসেট বলেন, ২০১৬ সালে আইল অব স্কাইয়ে ভ্রমণে এসে এসব পায়ের ছাপ আবিষ্কার করে এক শিক্ষার্থী। ভাটার সময়ে পানি সরে গেলে এসব ছাপ চোখে পড়ে। এরপর ওই গবেষক দল ড্রোন ব্যবহার করে এলাকাটির ছবি নেন। সব মিলিয়ে ৫০টি পায়ের ছাপ শনাক্ত করতে পারেন তারা। দেখে মনে হয় দুটি ডাইনোসর পাশাপাশি হেঁটে গেছে কিছু দূর।

এক জোড়া পায়ের ছাপ ছিল গাড়ির টায়ারের মতো বড়। এটা সরোপডের পায়ের ছাপ বলে জানিয়েছেন ব্রাসেট। সরোপড ছিল ১৫ মিটার দীর্ঘ। এর ওজন ছিল ১০ টনের মতো।ওই হ্রদে থেরোপডের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়াটাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। এই আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় যে, অবসর সময়ে হ্রদ এলাকায় ঘুরে বেড়াত এসব মাংসাশী প্রাণী।

স্কটিশ জার্নাল অব জিওলজির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

 

 

কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/০৬.০৪.১৮ রাত ১১.৪৫