১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:১৯

নতুন-পুরনোতে জমকালো উদ্বোধন

 

স্পোর্টস ডেস্ক : মাঝে মাঝেই ধাঁধা লেগেছে। আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী সংস্কৃতি কী করে চলে এলো গোল্ড কোস্টে! নাচ-গান, অঙ্গভঙ্গি সবেতে এত্ত মিল। তখনই মনে পড়ে গেল, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরুর বার্তাটি। কারারা স্টেডিয়ামে এক আদিবাসী মেয়ে তার স্মার্ট ফোন-বার্তায় সবাইকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছে, ‘বিশ্বের বেঁচে থাকা সবচেয়ে পুরনো সংস্কৃতিতে স্বাগত।’

এ সংস্কৃতি ৬৫ হাজার বছরের পুরনো। যখন অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম মনুষ্য বাস শুরু হয়েছিল। সেই সময়ের আদিবাসী ও টরেস স্ট্রেট দ্বীপের মানুষ এবং তাদের জনগোষ্ঠীর গল্প দিয়েই শুরু হয় গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এখানকার আদিবাসীদের মধ্যে বৈচিত্র্য এত বেশি যে ছয় শরও বেশি ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ আছে। তাদের মধ্যে ইয়োগেমবেহ ভাষাভাষীর মানুষগুলো এখনো নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখে বসবাস করছে গোল্ড কোস্টের টুইড রিভার এবং লগান রিভার এলাকায়। তাদের মতো করে নাচে, তাদের মতো করে গায় এবং কথা বলে। সেই তাদেরই (ইয়োগেমবেহর) প্রতিনিধি হয়ে এসে টেড উইলিয়ামস দিয়ে গেলেন সম্প্রীতির বার্তা, ‘পুরনোকে নতুন করে ফিরিয়ে আনা। ঐতিহ্যকে তুলে ধরা, অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার প্রথম জাতিসত্তাকে সম্মানিত করার মধ্য দিয়েই পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়ে, সৌহার্দ্য স্থাপিত হয়। এই বার্তাটাই দিচ্ছে এবারের গোল্ড কোস্টের আয়োজন।’ তাই অস্ট্রেলিয়ার পতাকার পাশাপাশি উড়েছে ইয়োগেমবেহ ও টরেস স্ট্রেট আইল্যান্ডের পতাকা।

এই অনুষ্ঠানে হয়েছে সব অদ্ভুত আয়োজন। যেমন ‘ধোঁয়া নৃত্য’, মুখে ধোঁয়া উড়িয়ে নেচেছে এক আদিবাসী গ্রুপ। তাদের বিশ্বাস, আগুন এবং ধোঁয়া নাকি মানুষকে বিশুদ্ধ করে। মেলালে অনেক মিলই ধরা পড়বে আমাদের আদিবাসী সংস্কৃতির সঙ্গে। আদি-অকৃত্রিম ভাবধারার মধ্যে বিশ্বের সর্বত্রই যেন অবিশ্বাস্য এক ঐক্য আছে। তাদের ভাষা ভিন্ন হলেও চিন্তার জগত্টা এক। এখনকার হানাহানির দুনিয়ায় সেই ঐক্যটা বেশ জরুরি হয়ে পড়েছে। অথচ এই গেমসের মধ্যে একটা অন্তর্গত শোষণের কাহিনি আছে। লুকিয়ে আছে ব্রিটিশ শাসনের দোর্দণ্ড প্রতাপ। বিশ্বের অনেক জায়গায় একসময় ব্রিটিশ রাজত্ব ছিল, ছিল তাদের ঔপনিবেশিক শাসন। সেই ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাধারণ মানুষের যন্ত্রণা। ব্রিটিশ শাসন ফুরোলেও শাসকরাজের অন্য রকম দাপট এই কমনওয়েলথ গেমস দিয়ে। পুরনো কলোনিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে খেলা। প্রথমে ছিল ব্রিটিশ এম্পায়ার গেমস, এই নামেও ছিল সরাসরি ব্রিটিশ আভিজাত্যের ছাপ। এরপর কয়েক দফা নাম বদলে এখনকার অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। তবে নামে ব্রিটিশ ছোঁয়া না থাকলেও এখনো গেমসের শুরু ব্রিটিশ রাজপরিবারের পরশ থাকতেই হবে। তাই প্রিন্স চার্লসের হাতেই হয়েছে ১১ দিনব্যাপী গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।

৭১টি দেশের ছয় হাজার ছয় শ ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছে এই আসরে। তাঁদের মার্চপাস্টে উঠে দেশগুলোর নাম লেখা ছিল সার্ফ বোর্ডে। এখানে সার্ফিং বেশ জনপ্রিয়, স্টেডিয়ামের মাঠেও আলো-ছায়ার খেলায় সার্ফিংয়ের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। মন জয় করা সেই দৃশ্যের পর হাসিখুশি মুখে মার্চপাস্টে দেখা গেছে বাংলাদেশ দলকেও। অথচ বাংলাদেশি অফিশিয়ালের খামখেয়ালিতে রিংয়ে নামার আগেই ঝরে গেছে দেশের দুই বক্সার। এখানে এলেও তাঁরা আজ অংশ নিতে পারবেন না নিজেদের ইভেন্টে। এমন কেলেঙ্কারির পরও বেশ হাসিখুশি দলটি! অদ্ভুত এক ক্রীড়া জাতি। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, ঘটন-অঘটনেও হাসতে পারে বাংলাদেশ!

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/৫ই এপ্রিল, ২০১৮ ইং/সকাল ১০:১৫