১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৪:১৬

স্কুল রুমে শিক্ষিকাকে ছাত্রলীগ নেতার ধর্ষণের চেষ্টা!

 

ডেস্ক নিউজ : ভোলার মনপুরায় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে স্কুল রুমে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের নাম এনাম হাওলাদার। সে উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

এছাড়া ওই ছাত্রলীগ নেতা স্কুলের চিলিকোঠায় দখল করে গত দেড় বছর অবস্থান করছে বলে জানান স্কুলের শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার। বর্তমানে ছাত্রলীগ নেতার ভয়ে শিক্ষিকা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

জানা গেছে, গত শনিবার (০১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের সরকারি হারিচ রোকেয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে এ ঘটনা ঘটে।

এ দিকে সোমবার অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বিচারের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানা প্রশাসন, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা। 

এর আগে রোববার ঘটনায় অভিযোগকারী শিক্ষিকা শিউলি রাণী দাস অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্ঠার অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও ইউপি চেয়ারম্যান কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে শিক্ষিকা শিউলী রাণী জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টার সময় তিনি স্কুলের লাইব্রেরীতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা এনাম হাওলাদার বিস্কুট নেওয়ার কথা বলে লাইব্রেরীতে প্রবেশ করে তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। পরে লাইব্রেরী থেকে চলে যেতে বললে ছাত্রলীগ নেতা দরজা বন্ধ করে ধাক্কা দিয়ে তাকে মেঝেতে ফেলে দেয়। এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

এসময় শিক্ষিকার ডাক-চিৎকার দিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে ঝাপটা দিয়ে ফেলে দিয়ে বের হয়ে আসেন। এবং নিচে এসে স্কুলের গেটে তালা মারা দেখতে পায়। এসময় স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের কান্নাকাটির শব্দ শুনে এলাকার একজন এসে ছাত্রলীগ নেতাকে স্কুল থেকে বের করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ওই ছাত্রলীগ নেতা এ ঘটনায় কারো কাছে বলতে নিষেধ করেন। এমনকি শিক্ষাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়।

পরে শিক্ষিকা শিউলী রাণী তার সহকর্মী শিক্ষক মতিন ও মিজান আসলে তাদের ঘটনাটি অবহিত করেন। এবং তাদের পরামর্শে প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানান। এদিকে ছাত্রলীগ নেতার পিতা ঘটনা শুনে সুরাহা করে দিবেন বলে শিক্ষিকাকে আশ্বাস দেয়।

অভিযোগে আরও জানায়, ছাত্রলীগ নেতা এনাম হাওলাদার গত দেড় বছর যাবত স্কুলের ছাদের চিলিকোঠা দখল করে রাত্রি যাপন করে আসছে। এমনকি তার ভয়ে স্কুলের কেউ কথা বলতে পারে না।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা এনাম হাওলাদারের মুঠোফোন গত দুই দিন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ছাত্রলীগ নেতার পিতা দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর মেম্বার জানান, কথা কাটাকাটি হয়েছে অন্য কিছুই হয়নি। আমি বিষয়টি সুরাহা করে দিবো বলে শিক্ষিকাকে বলেছি। তবে তিনি স্কুল দখল করে অবস্থান নেওয়ার ব্যাপারটি এড়িয়ে যান।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুদ্দিন সাগর জানান, ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এব্যাপারে অভিযোগকারী শিক্ষিকার স্বামী এ্যাডভোকেট নীলোৎপল দাস জানান, ছাত্রলীগ নেতার হুমকিতে তার স্ত্রীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। তিনি এই ঘটনার বিচারের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা অফিসারসহ সকল দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনোয়ারা বেগম জানান, এই ঘটনা শিক্ষক সমাজ মর্মাহত। আমরা এই ঘটনায় বিচারের দাবীতে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানা অফিসার ইনচার্জ, শিক্ষা অফিসে স্মারকলিপি দিয়েছি। এতে ব্যবস্থা নেয়া না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মনপুরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান জানান, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ছাত্রলীগ নেতার কাছ থেকে স্কুল দখল মুক্ত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল আজিজ ভূঁঞা জানান, শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগ ও শিক্ষক নেতাদের স্মারকলিপি পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিতভাবে মনপুরা থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন খান বলেন, ঘটনাটি শিক্ষিকার কাছ থেকে মৌখিক শুনেছি। এছাড়াও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখিতভাবে জানিয়েছেন। শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আজ বুধবার মনপুরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৪ঠা এপ্রিল, ২০১৮ ইং/রাত ১০:০৭