২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৪৩

খালিয়াজুরীর হাওরপারের কৃষকরা ফসল তোলার স্বপ্ন

 

শান্তা ইসলাম,নেত্রকোনা প্রতিনিধি : গত বছরের ফসল বিপর্যয়ের ফলে হাওরপারের নিঃস্ব কৃষক এবার ঘুরে দাড়ানোর স্বপ্ন দেখছে। শত প্রতিকুলতার মাঝে তারা বেরো ধান আবাদ করার পর এখন মাঠজুড়ে আধা পাকা ফসল হাওয়ার কাঁপনে নিজেরাও আনন্দে দুলছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলা ভুমি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মুহুর্তেই দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

নেত্রকোনার হাওর দ্বীপ হিসেবে খ্যাত খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আগে রোপন করা হয়েছে এমন জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় হাওরে বোরো ফসল গত বছরের চেয়ে ভাল হয়েছে বাজার মূল্য ভাল থাকলে এবার ৩৬৫ কোটি টাকার ধান উৎপাদনের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খালিয়াজুরী কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার খালিয়াজুরী উপজেলায় ছোট বড় ৭৯ টি হাওর রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫১ টি প্রকল্পের মাধ্যমে হাওরের ফসল রক্ষার জন্য প্রায় ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। দুই দফায় সময় বাড়িয়ে অবশেষে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ কোনমতে শেষ করেছে।

খালিয়াজুরী হাওরের কৃষক রফিকুল ইসলাম ছোটন বলেন, অনেক আশা আর স্বপ্ন নিয়ে জমি চাষ করেছি আমরা। কিছু কিছু জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরুদমে ধান কাটা শুরু হবে। নেত্রকোনা হাওর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি স্বাগত সরকার শুভ বলেন, অনেক স্বপ্ন ও আশা নিয়ে ধার দেনা করে হাওর কৃষকরা জমি আবাদ করেছে। এখন হাওরে সবুজ ধান হলদে রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় কিছু কিছু ধান কাটা পরেছে। বছর ভাল হলে এবার বাম্পার ফলন হবে।

খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, খালিয়াজুরীতে এ বছর প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বোরো ধান আশানুরূপ ফসল হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে গত বছরের বন্যার ক্ষতি কৃষক পুষিয়ে উঠতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার আবদুলাহ আল মামুন বাবু বলেন, আমি নিজেও হাওরে গিয়ে দেখেছি ফসলী মাঠ সবুজ ধান হলুদাভ আভায় রূপ নিয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় বোরো ধান কাটার খবর পেয়েছি। তবে আগামী ১০ দিনের মধ্যে ধান কাটা পুরোধমে শুরু হবে।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৩রা এপ্রিল, ২০১৮ ইং/বিকাল ৪:১২