১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:২৬

মুরাদনগরে ঘটতে পারে যে কোনো অপ্রিতিকর ঘটনা

 

সারাদেশঃ অফিসে ডবল তালা ঝুলিয়ে গত ১৫ দিন লাপাত্তা কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। প্রতিদিন জনপ্রতিনিধি ও ঠিকাদার তার অফিসের ফটকে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। টিআর কাবিটা ও ত্রাণের ব্রিজের বিল না দিয়ে লাপাত্তা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তা বিরুদ্ধে। কেউ কেউ সারাক্ষণ বাসা ও অফিসে চোখ রাখছে কখন সে আসে। তাকে ঘিরে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাই তাকে পেলে যে কোনো অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে এই উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে টিআর,(টাকা) কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পে সরকারী বরাদ্দ সাড়ে পাঁচ কোটি, অতি দরিদ্রদের ৪০ দিনের কর্মসূচির প্রকল্পে পাঁচ কোটি টাকা ও গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। প্রথম পর্যায়ের এই বরাদ্ধের টাকার কাজ অধিকাংশ শেষ হলেও বিল পরিশোধ হয়নি এখনো। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ের বরাদ্ধের টাকার কাজ করার প্রক্রিয়ার সময় অতিক্রম হচ্ছে। ফলে প্রথম পর্যায়ের প্রায় ১০ কোটি টাকা যথাসময়ে বিতরণ না হলে সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরৎ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের ১৫৯টি প্রকল্পের প্রকল্প সভাপতিরা কাজ সম্পূর্ণ করে বিলের জন্য সকাল-বিকাল হাজির হচ্ছেন প্রকল্প কর্মকর্তার অফিসে। কর্মকর্তাকে না পেয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ সঞ্চার হয়েছে।

উপজেলা যুবলীগ নেতা সবুজ বলেন, ‘আমি ত্রাণের একটি ব্রিজের কাজ করছি। কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ব্রিজের ছাদ ঢালাই করার জন্য গত পাচঁ দিন ধরে অপেক্ষা করে মিস্ত্রিদের বিল দিচ্ছি শুধু শুধু। বৃষ্টি বাদলের দিন আসছে তাই টেনশনে আছি। স্যারকে (পিআইও) ফোন দিলে বলে ছুটিতে আছি। কবে আসবে তাও তিনি বলে না। এদিকে অফিস ও বাসায় তালা ঝুলতে দেখে অনেকেই মনে করছেন তিনি চলে গেছেন আর আসবেন না।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ঠিকাদার হেলাল উদ্দিন মজনু বলেন, ‘আমার ত্রাণের পাঁচটি ব্রিজের প্রায় দেড় কোটি টাকা পিআইও সাহেব আটকে রেখেছেন। গত এক মাসে এক দিনও তাকে পাইনি। আমি জেলা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাব।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ২০ জন প্রকল্প সভাপতি বলেন, প্রতি প্রকল্প থেকে পিআইও তার অধিনস্থ প্রকৌশলি হান্নানকে দিয়ে টেন পারসেন্ট করে টাকা নিয়েছেন। যা কিনা প্রায় অদ্য লক্ষ্য টাকা। কিন্তু আমাদের প্রকল্পের টাকা পরিশোধ না করে তিনি কেন গা ঢাকা দিলেন তা অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে।

মুরাদনগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলাম সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি সিলেট জেলার ছাতক উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) থাকা অবস্থায় সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়। সরকারের অতি দরিদ্রের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি ২০১০-১১ অর্থবছর প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়ে) ৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দুদক সিলেটের সহকারি পরিচালক মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। এ ঘটনায় এক বছর তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলায় বদলি হয়ে এসে কিছু দিন চাকরি করার পর সেখান থেকে পালিয়ে আসেন তিনি। ওই অফিসের দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিয়ে না আসায় ওই জেলার ত্রাণ ও পূনবার্সন শাখা থেকে কুমিল্লা জেলার ত্রাণ ও পূনবার্সন কার্যালয়কে অবিহত করলে কুমিল্লা জেলার ত্রাণ কর্মকর্তা মো. মনিরুল হক একটি চিঠির মাধ্যমে (স্মারক নং ৫১.০০.০০০০.৪১০.১৯.০০৫.১৬-৩০৯) দায়িত্বভার হস্তান্তর করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন এ কে এম নজরুল ইসলাম কে।

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের মুঠোফোন এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ছুটিতে আছি। কতদিনের ছুটি? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন তা বলা যাবে না।’অফিস সহকারী নজরুল ইসলামের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্যার অফিসে আসেন না। ফোনে বলেছেন ছুটিতে আছেন। তবে কবে নাগাদ আসবেন তাও বলেন না। এদিকে চেয়ারম্যান ও মেম্বার ও ঠিকাদাররা সকাল বিকাল অফিসে আমাকে নানান কথা শুনাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিতু মরিয়ম বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসছে। এ বিষয়ে উধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 

 

 

কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/০২.৪.১৮/ দুপুর ১২.২০