২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:২৬

আদালতে স্ত্রী হত্যার দায়স্বীকার করলেন স্বামী মজিদ

 

শামসুল ইসলাম সহিদ,মির্জাপুর,মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গৃহবধূ ফুলমতি হত্যার দায় আদালতে স্বীকার করলেন স্বামী মুক্তার হোসেন ওরফে মজিদ ওরফে মডেল (৩৫)।বৃহস্পতিবার রাতে জামালপুরের ইসলামপুরের মলমগঞ্জ বাজার থেকে মির্জাপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আদালতের বিচারক নওরিন মাহবুব তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন বলে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শ্যামল কুমার দত্ত জানিয়েছেন।

পুলিশ গত ১৮ মার্চ রোববার সকালে মির্জাপুর উপজেলার মীর দেওহাটা গ্রামের নয়া মিয়ার বাড়ির একটি টিনের ঘর থেকে ফুলমতির মৃতদেহ উদ্ধার করে। এরপর থেকেই ফুলমতির স্বামী মজিদ মিয়া পলাতক ছিলেন। ঘটনার পর ফুলমতির ভাই আব্দুল বারেক বাদী হয়ে ভগ্নিপতি মুক্তার হোসেন ওরফে মজিদ ওরফে মডেলকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। জবানবন্ধিতে পরকীয়ায় জড়িত থাকার অপরাধে সে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে বলে আদালতের বিচারককে জানিয়েছে মজিদ।

গ্রেপ্তারকৃত মুক্তার হোসেন ওরফে মজিদ ওরফে মডেল সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার চন্দনঘাতি কালিবাড়ি গ্রামের ছামাদ মিয়ার ছেলে।ফুলমতি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার উত্তর নামাজের চর গ্রামের বাসিন্দা। গত তিন মাস আগে স্বামী মজিদের সঙ্গে মির্জাপুর উপজেলার মীর দেওহাটা গ্রামের নয়া মিয়ার বাড়ি ভাড়া নিয়ে একই এলাকায় ইউসূফের ইটভায় দিনমজুরের কাজ করতো তারা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানা পরিদর্শক শ্যামল কুমার দত্ত জানান, স্ত্রী হত্যার পর ঘরে তালা দিয়ে দাড়ি কেটে, টুপি খুলে ও পোশাক পরিবর্তন করে নিজে আতœগোপনে চলে যায়।এই সময়ের মধ্যে সে কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতে থাকে। সর্বশেষ তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে বৃহস্পতিবার জামালপুরের ইসলামপুরের মলমগঞ্জ বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শনিবার টাঙ্গাইল আদালতে হাজির করা হলে সেখানে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

প্রসঙ্গত, মুক্তার ওরফে মজিদ ওরফে মডেল তার নাম ঠিকানা পরিবর্তন করে একাধিক বিয়ে করেছে। ফুলমতি তার তিন নম্বর স্ত্রী। তাদের ঘরে ছয় বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। এগারো বছর আগে নাম পরিচয় গোপন রেখে ফুলমতিকে বিয়ে করে মজিদ। বিয়ের পর এই দীর্ঘ সময়ে একবারের জন্যও ফুলমতিকে বাবার বাড়ি যেতে দেয়নি। গত তিন মাস আগে মির্জাপুর উপজেলার মীরম দেওহাটা গ্রামে ইউসূফের ইটভায় দিনমুুজুরের কাজ নেয় মজিদ। সেসখানে ফুলমতি রান্নার কাজ করতো এবং পাশে নয়া মিয়ার বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতো।

কিউএনবি/রেশমা/১লা এপ্রিল, ২০১৮ ইং/দুপুর ১:০২