১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১০:৩৪

আজ আত্মসমর্পন করছে তিন বনদস্যু বাহিনী : আত্মসমর্পনের পরও থেমে নেই দস্যুতা

 

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট : আসত্মসমর্পন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনী সংখ্যা দিনে- দিনে বৃদ্ধি পেলেও থেমে নেই দস্যুতা।

এই অবস্থায় র‌্যাব-৮ এরপ্রচেষ্টায় সুন্দরবনের জেলে ও বনজীবীদের কাছে মুর্তিমান আতংকআরও ৩ বনদস্যু বাহিনীর সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আজ (রবিবার) আত্মসমর্পন করবে। বাগেরহাট শহরের স্বাধীনতা উদ্যানে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ তুলে দিয়ে তারা আত্মসমর্পন করবে। বনদস্যু বাহিনী গুলো হলো, ডনবাহিনী, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী ও সুমনবাহিনী।

র‌্যাব-৮ (বরিশাল) এর কমান্ডিংঅফিসার (সিও) উইং কমান্ডার হাসান ইমন আল রাজিব এবং র‌্যাব-৬ এর কমান্ডিং অফিসার খোন্দকার রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়া ও আইনশৃঙ্খলার ক্ষাকারী বাহিনীর উদ্ধতন কর্তকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে সুন্দরবনে গত ৩ বছরে ১৭টি বনদস্যু বাহিনীর ২শত ২৭ সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পন করলে ও এখন ও থামেনি জেলে-বনজীবীদের মুক্তিপনের দাবীতে অপহরন বানিজ্য।

আত্মসমর্পন করাবা বন্দুকযুদ্ধে নিহত বাহিনী গুলোর দলছুট সদস্যরা নতুন নামে নতুন বাহিনী গঠন করে নেমে পড়ছে জেলে-বনজীবীদের অপহরন বানিজ্যে।সম্প্রতিক সময়ে বাগের হাটের পূর্ব সুন্দরবনসহ উপকুলীয় এলাকায় জেলে বহরে হানা দিয়ে মাছ লুট ও অপহরনের ঘটনায় নতুন করে আতংক দেখা দিয়েছে।

শুধু মার্চ মাসে বনদস্যুদের হাতে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জেলেদের মুক্তি পনের দাবীতে একাধিক অপহরনের ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে গত ২৮ মার্চ পূর্ব সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ছোট্ট বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা তিন জেলে মুক্তিপণ দিয়ে ৬দিন পর ছাড়া পেয়েছেন। জেলেদের মহাজনরা বিকাশের মাধ্যমে ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৪ মার্চ রাতে পূর্ব সুন্দরবনে চাঁদ পাই রেঞ্জের ভাই জোড়াখালে স্মার্ট প্রেট্রোলিংটিমের সাথে অজ্ঞাত বনদস্যুদের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে।প্রায় আধঘন্টা গুলি বিনিময় শেষে ঘটনাস্থল থেকে বনদস্যুদের ব্যবহৃত ১টি নৌকা ও ২টি মোবাইল সিম উদ্ধার করে স্মার্ট টিমের সদস্যরা।

গত ৩মার্চ বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনেবন রক্ষী ও কোষ্টগার্ডের যৌথ অভিযানে ৭ জেলে, ৩টি ফিশিংট্রলার ১টি নৌকা উদ্ধার হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে শরণ খোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের গাতার খাল এলাকায় বনদস্যু মামা-ভাগ্নেবাহিনীর জিম্মিদশা থেকে ওই জেলেদের উদ্ধার করা হয়।একইদিন দুপুরে কটকাবনরক্ষী এবং ওই বনদস্যু বাহিনীর মধ্যে প্রায় আধ ঘন্টা ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় বনরক্ষীরা বনদস্যুদের কবল থেকে ৬ জেলে ও ৪টি মাছ ধরা নৌকা উদ্ধার করেন।

এ নিয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৩ জেলে, ৩টি ইঞ্জিনচালিত ফিশিংট্রলার ও ৫টি মাছধরা নৌকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারহওয়া ১৩ জেলের বাড়ি খুলনার দাকোপ, সাতক্ষীরার কয়রা, বরগুনার পাথরঘাটা ও বাগেরহাটের ফরিকহাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রাামে।

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১লা এপ্রিল, ২০১৮ ইং/সকাল ১১:৫৯