১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:২৫

অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন বাবুল মিয়া

 

ডেস্ক নিউজ : হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের আলোচিত কিশোরী বিউটি আক্তার (১৪) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাবুল মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন বলে জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেটের র‍্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান র‍্যাব ৯-এর পরিচালক ক্যাপ্টেন মনিরুজ্জামান।

এর আগে আজ ভোর ৫টার দিকে বিয়ানীবাজার থেকে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণে সম্পৃক্ততার বিষয়ে বাবুল মিয়া বিভিন্ন সময় বিভিন্নজনের নাম বলেছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন র‍্যাবের সন্দেহভাজনদের তালিকায় রয়েছেন এবং একইসঙ্গে তাঁরা গত কয়েকদিন ধরে পলাতক। তবে বাবুল মিয়া অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন বলেও জানায় র‍্যাব।

ক্যাপ্টেন মনিরুজ্জামান বলেন, ‘তার সঙ্গে এ পর্যন্ত যতটুকু আমাদের কথাবার্তা হয়েছে তাতে আমরা যেটুকু বুঝতে পারছি সে সত্যি কথা বলছে না, সে মিথ্যা কথা বলছে বিভিন্ন সময়ে। আমাদের কাছে যে ব্যাকগ্রাউন্ড ইনফরমেশন রয়েছে এই ইনফরমেশনের ভিত্তিতে তাঁর দেওয়া তথ্যগুলো মিলছে না। এবং সে অনেক মিথ্যা কথা বলছে এবং তাঁকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন রয়েছে।’

এর আগে বিউটিকে অপহরণের পরে বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয় বলে জানান এই র‍্যাব কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সে সময় গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করে বাবুলের পরিবার। তবে বিউটির বাবা সমঝোতায় আসেননি। তিনি এ বিষয়ে মামলাটি চালিয়ে যান এবং ওই সময় বিউটিকে তার নানা বাড়িতে রেখে আসা হয়েছিল।

জানা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জের ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের ১৪ বছরের কিশোরী বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান বাবুল মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা। এক মাস আটকে রেখে ধর্ষণ-নির্যাতন করা হয় তাকে। এরপর বিউটিকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান বাবুল। এ ঘটনায় ১ মার্চ বিউটির বাবা দিনমজুর সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তাঁর মা স্থানীয় ইউপি সদস্য কলমচানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। পরে বিউটিকে তার নানাবাড়ি পাঠিয়ে দেন।

এই মামলার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুল মিয়া গত ১৬ মার্চ তার নানা বাড়ি গুণীপুর গ্রাম থেকে আবারও অপহরণ করেন। আবারও তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশটি ফেলে দেন হাওরে।

এ ঘটনা প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালচনা শুরু হয়। তোলপাড় হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এর পরের দিন ১৭ মার্চ সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুলসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

কিউএনবি/রেশমা/৩১শে মার্চ, ২০১৮ ইং/দুপুর ১:৫২