২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:৩০

মৃত্যুর আগে স্ত্রীকে যা বলে যান শাহীন ব্যাপারী

 

ডেক্স নিউজঃ অস্ত্রোপচার কক্ষে নেয়ার আগে তাকে আমি বলি, তুমি ভয় পেও না, ভালো হয়ে যাবে। জবাবে শাহীন বলে, আমি ভয় পাই না, আমি ভালো হয়ে যাবো। তোমরা আমার জন্য চিন্তা করো না। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর থেকে শাহীনের কোনো সাড়া-শব্দ ছিল না। চিকিৎসকদের অনেকবার বলেছি। তারা জানান, আস্তে আস্তে শাহীনের জ্ঞান ফিরবে।
কিন্তু না! সব শেষ হয়ে গেল।’ এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শাহীন ব্যাপারীর স্ত্রী রিমা। ৮ বছরের একমাত্র মেয়ে সূচনাকে বুকে নিয়ে আহাজারি করে বলেন, সূচনা কারে বাবা বলে ডাকবে।

শাহীনের ছোট ভাই চঞ্চল ব্যাপারী বলেন, নেপাল থেকে বার্ন ইউনিটে আসার পর ভাই ভালো ছিলেন। গ্রামের অনেকে বার্ন ইউনিটে এসে তার সঙ্গে দেখা করেছেন, কথা বলেছেন। ভাই সবার কাছে দোয়াও চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা যদি আগে বলতেন শাহীনের অবস্থা খারাপ, তাহলে আমরা বাইরে নিয়ে যেতাম।

বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. সামন্ত লাল সেন বিকাল পৌনে ৫টার দিকে শাহীন বেপারীকে মৃত ঘোষণা করেন। ১৮ই মার্চ শাহীন বেপারীকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে করে দেশে এনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

প্লেন বিধ্বস্তের ঘটনায় মাথার কিছু অংশ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শাহীনের ডান পা ভেঙে গিয়েছিল। এ ছাড়া তার শরীরের পেছন দিকেও আঘাত লাগে। দুর্ঘটনার পরপর শাহীনকে নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পূর্বপাড়া মুজিববাগ এলাকায় নিহত শাহীন বেপারীর ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায় বাড়ির মানুষ শোকাহত। সন্ধ্যা রাতে নিহত শাহীনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের ভাড়া বাসায় নিয়ে আসা হয়। শাহীনের লাশ একনজর দেখতে প্রতিবেশী ও এলাকার মানুষ ভিড় জমায়। রাতেই নামাজে জানাজা শেষে শাহীনের লাশ মিজমিজি পাইনাদী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

৪৩ বছর বয়সী শাহীন বেপারীর বাড়ি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা গ্রামে। তার বাবা মৃত শফিউল বেপারী, মা জাহানারা বেগম। ৪ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড় ছিলেন শাহীন বেপারী। তিনি স্ত্রী রীমা ও আট বছরের মেয়ে সূচনাকে নিয়ে থাকতেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মিজমিজি পূর্বপাড়া মুজিববাগ এলাকায়। ঢাকার সদরঘাটে অবস্থিত করিম অ্যান্ড সন্স নামে একটি কাপড়ের দোকানে ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন তিনি।

সূত্র: মানবজমিন

 

কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/২৯.৩.১৮/দুপুর ১২.৩০