২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:৩৯

এবার পাটের চটে শুল্ক বসাচ্ছে ভারত

 

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের পাটপণ্য আমদানিতে ভারতের উচ্চহারে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের ফলে এমনিতেই দেশটিতে এসব পণ্য রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমেছে। এবার নতুন করে জুট সেকিং ক্লথস বা পাটের চটের ওপরও দেশটি শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

সম্প্রতি ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি তদন্ত থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জেনেছে, বাংলাদেশ থেকে পাটের ব্যাগ বা বস্তা আমদানিতে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক থাকলেও সেটি এড়াতে অনেক ব্যবসায়ী জুট সেকিং ক্লথস (পাটের চট) আমদানি করছে, যা দিয়ে পরে বস্তা তৈরি করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব অ্যান্টিডাম্পিং অ্যান্ড অ্যালায়েড ডিউটিজ (ডিজিএডি) এ নিয়ে একটি তদন্ত করেছে।

ইতিপূর্বে ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (আইজেএমএ) সরকারের কাছে একটি আবেদন করেছিল। তাতে অভিযোগ করা হয়, পাটের বস্তার ওপর যে শুল্ক রয়েছে তা এড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীরা জুট সেকিং ক্লথস আমদানি করে বাংলাদেশ থেকে; যা একটি প্রস্তুত পণ্য নয়, এটি থেকে পরে পাটের বস্তা তৈরি করা হয়। মিলগুলো তাদের আবেদনে বস্তার ওপর আরোপিত শুল্ক পাটের চটের ওপরও বিস্তৃত করার দাবি জানায়। এর ভিত্তিতেই তদন্ত চালায় ডিজেএডি। সংস্থাটি তদন্ত শেষে এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, পাটের বস্তার ওপর যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক রয়েছে তা এড়াতে অনেকে পাটের চট আমদানি করছে বলে তাদের কাছে প্রমাণ দৃশ্যমান হয়েছে; যা দিয়ে পরে পাটের বস্তাই তৈরি করা হচ্ছে। শুল্ক এড়িয়ে কী পরিমাণ পণ্য আমদানি করা হচ্ছে এবং বাজারে এর প্রভাব কী. এটি প্রতিরোধে বিদ্যমান অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক কী পরিমাণ বর্ধিত করতে হবে—এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে বলে জানায় ডিজিএডি।

স্থানীয় বাজারকে সুবিধা দিতে ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশি পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৫২ ডলারসহ বিভিন্ন হারে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে ভারত। তখন পাটের চটকে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের বাইরে রাখা হয়। বাংলাদেশ পাটপণ্য উত্পাদন ব্যয়ের তুলনায় কম দামে রপ্তানি (ডাম্পিং) করছে—এমন অভিযোগ ভারতীয় উদ্যোক্তাদের। তাদের দাবি, ভারতের স্থানীয় পাটশিল্প সংকটে পড়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক বসানো হয়। তবে বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। তারা বলছে, উত্পাদন ব্যয়ের তুলনায় কম দরে রপ্তানি করার মানে হচ্ছে লোকসান দেওয়া। বেসরকারি খাতের কম্পানিগুলো লোকসান দিয়ে ভারতে কেন পাটপণ্য রপ্তানি করবে?

অ্যান্টিডাম্পিংয়ের ফলে ভারতে পাটপণ্য রপ্তানিতে একরকম ধস নামে। প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৯০ শতাংশ। পরে কিছুটা কমলেও চলতি অর্থবছরের আট মাসে রপ্তানি কমার হার ৫৫ শতাংশে এসে ঠেকেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে ভারতে বিভিন্ন ধরনের পাটপণ্য রপ্তানি হয়েছে পাঁচ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। আগের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। এ সময় অন্য সব বাজারে পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশের মতো।

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/২৯শে মার্চ, ২০১৮ ইং / সকাল ৯:১৮