২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:০৫

ধর্মপাশায় এমপির বিরুদ্ধে শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

 

নিউজ ডেক্সঃ সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান থেকে ডেকে এনে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে স্থানীয় জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়ার পরপরই এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরে এ নিয়ে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এলাকার সর্বস্তরের লোকজনের মধ্যে নিন্দার ঝড় বইতে থাকে। এরই প্রতিবাদে দুপুরে ওই বিদ্যালয়ের সামনের সড়কের দুই পাশে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দাঁড়িয়ে থেকে ‘প্রতীকী প্রতিবাদ’ জানান বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত সোমবার সকাল থেকেই ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। অনুষ্ঠান চলাকালে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা পর্ব শেষ করেই এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন মঞ্চ থেকে নেমে জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে গিয়ে মঞ্চ থেকে ডেকে আনেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক খানকে। সেখানে তিনি তাঁকে ডেকে এনে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে এমপি রতন ওই শিক্ষককে পিটিয়ে হাড়-গুড় ভেঙে দিবেন বলেও হুমকি দেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশান, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাগণ, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষাথীসহ এলাকার শত-শত লোক উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্যাতিত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক খান বলেন, আমাদের এ বিদ্যালয়টি উপজেলা সদরে অবস্থিত এবং এটি ফলাফলের দিক দিয়েও উপজেলায় শীর্ষে অবস্থান করায় সরকার ওই বিদ্যালয়টিকে গত ২০১৪ সালে সরকারী করনের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু মাননীয় সাংসদ আমাদের ওই বিদ্যালয়টিকে সরকারীকরণ না করার পক্ষে অবস্থান নেন এবং তিনি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে তাঁর নিজ এলাকায় অবস্থিত বাদশাগঞ্জ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারীকরণ করার জন্য একটি ডিও লেটার দেন। কিন্তু এমপি মহোদয়ের দেওয়া ওই ডিও লেটারটিকে চ্যালেঞ্জ করে আব্দুল মন্নাফ নামে আমাদের বিদ্যালয়ের এক ছাত্র অভিভাবক হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। এর পর থেকেই এমপি মহোদয় আমিসহ আমার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি বৈরী আচরণ করে আসছেন।

ওই শিক্ষক আরো বলেন, আমার বিদ্যালয়ের প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর দাবির প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে একটি ক্যান্টিন নির্মাণের উদ্যোগ নেন এবং ওই কেন্টিনটি এখানে নির্মাণ না করার জন্য এমপি মহোদয় আজ আমাকে একটি জাতীয় অনুষ্ঠান থেকে ডেকে এনে শত-শত মানুষের সামনে এভাবে অপমান অপদস্ত না করলেও পারতেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আলমগীর কবীর বলেন, আমাদের এমপি সাহেব  এমন একটি অনুষ্ঠান থেকে ডেকে এনে উপজেলার সুনামধন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রধানকে এভাবে লাঞ্ছিত করাটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এরই প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে এ নেক্কারজনক ঘটনার প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং অনতিবিলম্বে এটি সুরাহা করা না হলে পরবর্তীতে এ নিয়ে আমরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলেও হুমকি দেন তিনি।

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে  বলেন, আমি ওই প্রধান শিক্ষককে ডেকে এন শুধু বিদ্যালয়ের মাঠটি নষ্ট করে কেন্টিনটি নির্মাণ না করার জন্য তাকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলেছি। আমি তাকে কোনো ধরনের লাঞ্ছিত করিনি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, উপজেলার সুনামধন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রধান শিক্ষককে একজন সাংসদ এভাবে প্রকাশ্যে লাঞ্চিত করার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এটি দ্রুতই মীমাংসা করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

 

কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/২৭.৩.১৮/সকাল ৮.২৫