১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:৩৪

মাধ্যমিক ছাত্রীদের ঝরে পরার জন্য অভিভাবকরা দায়ী

মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের ঝরে পড়ার পেছনে দারিদ্রতা নয়, অভিভাবকের মানষিকতা দায়ী। বাংলাদেশের সরকারি হিসেব মতে মাধ্যমিক স্তর পার হওয়ার আগেই অর্ধেক মেয়ের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যায়।

অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্রতার সঙ্গে মেয়েদের নিরাপত্তার অভাবকেও দায়ী করা হয়।

এসকল বিষয় নিয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, একটা পরিবারে যখন একটা ছেলে এবং একটা মেয়ে বড় হতে থাকে তখন মা-বাবা মেয়েটার থেকে ছেলেটার পেছনে বেশি টাকা পয়সা বিনিয়োগ করে। আর এই ধরনের মানষিকতার কারণ হচ্ছে ছেলেটার পেছনে বাবা-মা যে টাকাটা বিনিয়োগ করবে সেটা ফিটব্যাক দেবে কিন্তু মেয়ের ক্ষেত্রে সেটা হবে না। বিয়ের পরে মেয়েটা শশুর বাড়ি চলে যাবে, এমনই ধারণা থাকে।

মেহের আফরোজ বলেন, একটা দরিদ্র পরিবারের ক্ষেত্রে যখন মেয়েরা উচ্চশিক্ষার দিকে যায় তখনই যদি একটা ভালো বিয়ের কথা হয় তখন এই লোভটাকে সামলাতে পারে না।

শিক্ষার মান বাড়ানো, দারিদ্রতা নিরসন কিংবা বাল্যবিবাহ রোধ করে মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে কি পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিবাহ বিষয়ক আইনে খুব শীঘ্রই পরিবর্তন আসছে। মেয়েদের জন্য অনুকুল পরিবেশ তৈরীতে দেশজুড়ে নেটওয়ার্ক করে সচেতনতার কার্যক্রম চলছে। শুধু বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেই হবে না, বাল্যবিয়ে কেন হচ্ছে সেই কারণগুলো বের করে ঐ সব পরিবারকে সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সহযোগীতা করার কাজ করছি। এসব পদক্ষেপগুলোর ফলে মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগীতা করবে। এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের ঝরে পড়াটাও অনেকাংশে কমে যাবে বলে আমার মনে হয়।

লোভই হোক আর বাস্তবতাই হোক মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের ঝরে পড়ার কারণে মেয়েদের মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে,এমন এক প্রশ্নের জবাবে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে আমাদের যথেষ্ঠ বিষয় ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষক নেই। মনসম্মত শিক্ষা যদি আমরা দিতে না পারি তাহলে দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব নয়। আর মেয়েরাতো এক ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। প্রায় অর্ধেকের মতো মেয়েরা শিক্ষা পাচ্ছে না, আর যারা পাচ্ছে তারাও হয়তো পুরোপুরি মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে না।

মঞ্জুর আহমেদ বলেন, এখন মেয়েরা শিক্ষাক্ষেত্রে আসছে বেশি সংখ্যায় কিন্তু ঝরেও যাচ্ছে ছেলেদের চেয়ে বেশি পরিমানে। এটাতো গ্রহনযোগ্য নয়। এই জায়গায় অনেক কিছু করার আছে। আমার মনে হয় দারিদ্রতার বিষয়টাতো রয়েছে এর সঙ্গে শিক্ষার মানটাও বাড়াতে হবে।

সুত্রঃবিবিসি বাংলা