১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:৩২

দেবীগঞ্জে দিগন্তজুড়ে ভুট্টার ক্ষেতে সবুজের সমারোহ

 

শেখ ফরিদ,দেবীগঞ্জ(পঞ্চগড়) সংবাদদাতা : দেবীগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক আকারে ভুট্টার চাষ হচ্ছে। ক্রমেই এ আবাদের দিকে বেশি করে ঝুকে পড়েছে কৃষক। বাজারে ভুট্টার চাহিদা ও দাম ভাল থাকায় কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। আগে যেখানে চাষ হতো কাউন, তিল,তিসি, ঢেমশী। সময় ও চাহিদা এখনকার কৃষকদের ওই সকল আবাদ থেকে করে রেখেছে বিমুখ। কৃষিবিভাগের মতে আগেকার দিনের কাউন,তিল, ঢেমশী মানূষ খাদ্য হিসেবে খেত, এগুলোর মধ্যে প্রচুর পুষ্ঠিকর উপাদান সহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ছিল, এছাড়াও কাউন,তিল ও ঢেমশীর গাছ ও পাতা জমিতে পচে তৈরী হতো জৈব্য সার, ধানের ফলন হতো ভাল। দিতে হতো না সেচ,উৎপাদন খরচ খুবই কম।

ভুট্টার চাষ এর বিপরীত। ভুট্টার জমিতে অন্য ফসল খুব একটা ভাল হয় না। ভুট্টা আবাদে সার ও সেচ দিতে হয়, খরচও হয় বেশি। এর গাছগুলো জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ভুট্টা এখন পোল্ট্রী ফিড হিসেবে সর্বত্রই ব্যবহার হচ্ছে। ভুট্টা জনপ্রিয় খাবার হিসেবে জনগনের মাঝে এখনও সমাদৃত হয়নি।

চাহিদা ও বেশি পাবার আকাংখা মানুষকে বর্তমান নির্ভর করে ফেলেছে। দীর্ঘ মেয়াদী চিন্তা করার সুযোগের ক্ষেত্র এ প্রতিযোগিতার বাজারে কমে এসেছে। মানুষ লাভ খুজবে এতে সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে লাভটা দীর্ঘস্থায়ী না হওয়া। ভুট্টার চাষ মানুষকে এখন সে জায়গায় নিয়ে গেছে। ভুট্টা চাষে কৃষক যে পরিমান লাভবান হচ্ছে তা কাউন,তিল,ও ঢেশশী চাষ করে সে লাভ পাচ্ছে না কৃষক।

এটাও বাস্তবতা। এক বিঘা জমিতে ১৫/২০ মন ভুট্টা উৎপাদন সম্ভব,অন্যদিকে কাউন সহ সমপরিমান ফসল হয় ৫ থেকে ৭ মন। ফসল উৎপাদনের গড় বৃদ্ধি ,চাহিদা ও বাজার মূল্য এর উপরে কৃষি পণ্যের স্থায়ীত্ব টিকে থাকে। কাউন,তিল ও ঢেমশীর এরমক চাহিদা ও গুরুত্ব সৃষ্ঠি করতে পারলে কৃষক সে আবাদের দিকেও মনোযোগী থাকতে পারতো মর্মে পঞ্চগড় জেলার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সামছুল হক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তবে বে-সরকারীভাবে ঢেমশীর চাল বিদেশে স¦ল্প পরিমানে রপ্তানী হওয়ায় এর চাষ গতবারের চেয়ে বেশি হয়েছে। এবার জেলায় ৫ হেক্টর জমিতে ঢেমশীর চাষ হয়েছে ,যা গতবার ছিল আড়াই হেক্টর ,জানিয়েছেন উপ-পরিচালক সামছুল হক। এদিকে ভুট্টা চাষ হয়েছে প্রায় ৯শ হেক্টর জমিতে।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২৫শে মার্চ, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:৫৩