২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:৩৮

লালমনিরহাটে জামাইয়ের হামলায় শ্বাশুড়িসহ ৫জন হাসপাতালে

 

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না,লালমনিরহাট প্রতিনিধি : একটি জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়ে জামাইয়ের হামলায় শ্বাশুড়ি ও শ্যালকসহ ৫জনকে আশংকাজনক অবস্থায় লালমনিরহাটের আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে আদিতমারী থানায় জামাইসহ ৯ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে শ্বশুর। এর আগে একই দিন বিকেলে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চলের আরাজি ছালাপাক গ্রামের সোলেমান মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায় তার জামাই মিজানুর রহমান(২৮)। আহতরা হলেন, আরাজি ছালাপাক গ্রামের সোলেমানের স্ত্রী শরিফা বেগম (৪২), তার ছেলে শিমুল মিয়া (২৭), লিটন মিয়া (২১), ভাগিনা সবুজ মিয়া (২৩) ও জামাই অপর পক্ষের মিজান মিয়া (২৯)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোলেমান মিয়ার মেয়ে শিউলী খাতুনের সাথে ৭/৮ মাস আগে বিয়ে হয় তার প্রতিবেশী আয়নাল হকের ছেলে মিজানের। বিয়ের সময় জামাই মিজানের জাতীয় পরিচয় পত্রটি নেন নিকাহ রেজিস্টার। কিন্তু সেই পরিচয় পত্রটি আর ফিরে পাননি জামাই মিজান। এ পরিচয় পত্রটি তার শ্বশুরের হাতে ছিল বলে ধারনা করে ফেরত চান।

কিন্তু শ্বশুর সোলেমানের কাছে নেই বলে দাবি করলে গত বুধবার (২১ মার্চ) সোলেমান মিয়াকে চরথাপ্পর দেন তার বিয়াই আয়নাল হক। এ নিয়ে পরদিন সোলেমানের ছেলেরা তার বাবার অপমানের প্রতিশোধ নিতে আয়নাল হকে থাপ্পর মারেন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) আয়নাল হক দলবল নিয়ে সোলেমানের বাড়ি ঘিরে রাখে। অবরুদ্ধ হন সোলেমান। অবশেষে শুক্রবার সকালে বোরকা পড়ে এসে সোলেমান মিয়া অবরুদ্ধ পরিবারকে মুক্ত করতে থানায় একটি লিখিত আবেদন জানান। কিন্তু থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এবং অভিযোগের খবরটি জানতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে জামাই মিজান দলবল নিয়ে ওইদিন বিকেলে শ্বশুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেন।

এতে শ্বাশুড়ি ও শ্যালকসহ ৪জন এবং অপর পক্ষের জামাই মিজান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আদিতমারী হাসপাতালে ৪জনকে এবং মিজানকে আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় সোলেমান মিয়া বাদি হয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে জামাই মিজানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি এজাহার দায়ের করলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

আদিতমারী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক সালাম শেখ জানান, আহতদের ৪জনকে এ হাসপাতালে ও মিজানকে আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আদিতমারী থানা ডিউটি অফিসার উপ পরিদর্শক (এসআই) মঞ্জু জানান, চরাঞ্চলের যোগাযোগ সমস্যার কারনে সকালের অভিযোগটিতে ফোর্স পাঠানো সম্বব হয়নি। তবে এখন এজাহার পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হরেশ্বর রায় জানান, উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত ব্যবস্থা নিয়ে।

 

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২৪শে মার্চ, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:৫৩