২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:১৫

বান্দরবান জেলা পরিষদের স্বাধীনতা দিবসের সব অনুষ্ঠান স্থগিত

 

রতন কুমার দে(শাওন)বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবান জেলা পরিষদ ও
জেলা প্রশাসনের মধ্যে আবারো দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের পালন অনুষ্ঠান কার উদ্যোগে হবে এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে জেলা পরিষদ তাদের নেয়া সকল কর্মসূচী স্থগিত করেছে।
 
এতদিন বান্দরবানে জেলা পরিষদের উদ্যোগেই জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানগুলো পালন হয়ে আসছিল।জেলা পরিষদ ইতিমধ্যে উৎসব উদযাপনের সকল উপকমিটির কার্যক্রমও স্থগিত করে দিয়েছে।জেলা পরিষদের পক্ষ হতে বলা হচ্ছে প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে তারা তাদের সব কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন।অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তরা বলছেন তারা জেলা পরিষদকে সাথে নিয়েই অনুষ্ঠান করবে।

জানা যায়, প্রতিবারের মত এবারও মহান স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভাও করা হয় জেলা পরিষদে। উৎসব উদযাপনের জন্য বিভিন্ন উপকমিটিও গঠন করা হয় প্রস্তুতি সভায়।কিন্তু জেলা প্রশাসন পৃথক ভাবে স্বাধীনতা দিবস পালনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে এতে জেলা পরিষদের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

জেলা পরিষদ ক্ষুদ্ধ হয়ে গত মঙ্গলবার স্বাধীনতা দিবসের তাদের সকল অনুষ্ঠান স্থগিত করে দেয়। বিভিন্ন উপ কমিটির আহবায়কদেরও অনুষ্ঠান স্থগিত করার কথা জেলা পরিষদের কর্মকর্তরা জানিয়ে দেন।

তবে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,কুচকাওয়াজ,ডিসপ্লে,মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনাসহ দিন ব্যাপী নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আমন্ত্রণপত্রও বিলি করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠান নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের স্বমন্বয়হীন কর্মসূচীতে বিপাকে পরেছেন অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তরা ও জন প্রতিনিধিরা।

গত এক দশক ধরে জাতীয় দিবসগুলোর অনুষ্ঠান নিয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে পরিষেদের এই দ্বন্দ্ব চলে আসছে। জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান না জেলা প্রশাসক কুচকাওয়াজে সালাম দিবেন তা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে মতবিরোধ চলে আসছে পার্বত্য তিন জেলায়। যদিও ১৯৮৯ সালের জেলা পরিষদের আইনে জতীয় দিবসের অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলো জেলা পরিষদের উদ্যোগে পালনের কথা উল্লেখ করা
হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা পার্বত্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করলেও এখনো পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। আর এতে করে জেলা পরিষদ ও প্রশাসনের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা জানান, জেলা পরিষদের আইনেই এ বিষয়ে ব্যখ্যা দেয়া রয়েছে। তাছাড়া জেলা পরিষদগুলো গঠনের পর থেকেই প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে জতীয় দিবসসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানগুলো সম্পন্ন করা হয়।

কিন্তু সম্প্রতি জেলা পরিষদকে পাশ কাটিয়ে প্রশাসন সমন্বয়হীন একতরফা ভাবে অনুষ্ঠানগুলো পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে করে জন গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেকার সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। যার ফলে বাধ্য হয়েই এবারের স্বাধীনতা দিবসে জেলা পরিষদ যেসকল কর্মসূচী নিয়েছিল তা স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন জানিয়েছেন, এলাকার শান্তি ও উন্নয়নে আমরা সমন্বয় করেই কাজ করছি। পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ ক্রমে জেলা প্রশাসন সকল উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তাছাড়া জেলা পরিষদকে সাথে নিয়েই অনুষ্ঠানগুলো করা হবে।জেলা পরিষদকে সাথে নিয়ে করা আর জেলা পরিষদ আমাদের নিয়ে করা একই কথা। এখানে মতপার্থক্যের কোন অবকাশ নেই।

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/২৩শে মার্চ, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:৪৯