১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:১৪

বিমান দূর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক শরীয়তপুরের ফয়সালের মরদেহ এখনও চিহ্নিত হয় নাই

 

 

খোরশেদ আলম বাবুল,বিশেষ প্রতিবেদক শরীয়তপুর : নেপালের কাঠমুন্ডতে বিমান দূর্ঘটনায় নিহত বৈশাখী টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আহমেদ ফয়সালের মরদেহ এখনও চিহ্নিত করা যায় নাই বলে জানিয়েছেন নিহতের পরিবার। নিহতের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যায় এখনও চলছে শোকের মাতম। নিহতের মামা কায়কোবাদ বেপারী নেপালের কাঠমুন্ডুতে অবস্থান করছেন। মরদেহ চিহ্নিত করতে ফয়সালের জীবদ্দশায় ব্যবহৃত শার্ট-প্যান্ট, জুতা ও ক্যাপ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ থেকে নেপালে পাঠানোর সংবাদ পাঠিয়েছেন মামা কায়কোবাদ। গতকাল বৃহস্পতিবার একটি ফ্লাইটে শার্ট-প্যান্ট, জুতা ও ক্যাপ নেপালে পাঠানো হয়েছে।

ফয়সালের ভবিষ্যত পরিবল্পনা ছিল চাকুরি ছেড়ে ব্যবসা করবে। তাই রাজধানীর মোহাম্মদপুর গার্ডেন সিটিতে দুইটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে ফয়সাল। দুটিতেই বেবী ওয়্যার ও গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করেন এবং কর্মচারীর মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন বলে জানায় ফয়সালের বড় বোন শিউলি।

বড় বোন শিউলির সাথে ফয়সালের তুই তুকার সম্পর্ক ছিল। বড় বোনের সাথে ধানমন্ডির ১৫ নম্বরের একটি বাশায় থাকতেন ফয়সাল। এবার অফিস থেকে ৫ দিনের ছুটি নিয়ে ঢাকার বাইরে যাচ্ছি বড় বোন শিউলিকে বলে যায়। দেশের বাইরে যাওয়ার কথা গোপন রাখা হয়েছিল বড় বোন শিউলির কাছে। কেন ঢাকার বাহিরে যাওয়ার কথা বলে ফয়সার দেশের বাইরে বাইরে গেলে তা এখন রহস্য।

ঢাকার ধানমন্ডির কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ফয়সালের ভাগ্নে জানায়, মামা খুব ভ্রমণ প্রিয় ছিল। মাঝেমধ্যে মামার পছন্দের জায়গায় কখনও আমার পছন্দের জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যেতো। মায়ের কাছে চেয়ে কোন জিনিস না পেলে মামার কাছ থেকে চেয়ে নিতাম। খেলনা সামগ্রী, পিজজা, ফাস্টফুড ও আইসক্রীম মামার কাছে বেশী দাবী করতাম। দেরী না করে মামা এগুলো আমাকে এনেদিত। মামার এ ভাবে চলে যাওয়া আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।

ফয়সালের বাবা সামসুদ্দিন সরদার এখনও ছেলের পথ চেয়ে সময় কাটায়। ছেলের ফিরে আসার পথে না খেয়ে বসে থাকেন। আত্মীয় স্বজন ও ফয়সালের বন্ধু মহল এখনও অপেক্ষায় কখন ফয়সালের সংবাদ পাওয়া যাবে। ফয়সালের বাবা বলেন, আমার বাবা ফয়সালকে এতো মানুষ পছন্দ করতো, এতো ভালোবাসতো তা আমি আগে বুঝতে পারিনি। ছোট থেকেই মানুষের সাথে ফয়সালের ভালো সম্পর্ক ছিল। ফয়সাল বুদ্ধিমানও ছিল। শুনেছি এর পূর্বেও ফয়সাল নেপাল গিয়েছিল। নেপালের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও পরিবেশ ফয়সালের কাছে ভালো লাগে তাই আবার নেপাল যায়। এবার যে শেষ বারের মতো নেপাল যাচ্ছে তা বলেও যেতে পারে নাই ফয়সাল। এখনও আমার বাবার লাশ চিহ্নিত করা যায় নাই। তাই পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য আমার বাবার শার্ট-প্যান্ট, জুতা, ক্যাপ চেয়ে নেপাল থেকে ফয়সালের মামা সংবাদ পাঠিয়েছে। এগুলো গতকাল আমরা পাঠিয়েছি।

উল্লেখ্য, ডামুড্যা পৌরসভার দক্ষিন ডামুড্যা গ্রামের সামসুদ্দিন সরদার ও মোসাম্মৎ সামসুন্নাহার বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল আহমেদ (২৮)। পাঁচ ভাই বোনের মধ্য সে দ্বিতীয়। ২০০৪ সালে ডামুড্যা মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশের পর রাজধানীর মিরপুর কমার্স কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, তিতুমির কলেজে ¯œাতক এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ¯œাতোকত্তর সম্পন্ন করে ফয়সাল। ব্যক্তিজীবনে সে অবিবাহিত। ফয়সাল বৈশাখি টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে ২০১২ সালে যোগদান করেন। ঢাকার ধানমন্ডি ১৫ নম্বরে বড় বোন শিউলী আক্তারের বাসায় থাকতো সে। সোমবার তিনি অফিস থেকে ৫দিনের ছুটি নিয়ে নেপালে যান।

 

কিউএনবি /রামিম /১৬.০৩.২০১৮ইং /সকাল ৯:৫৯