১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:১৫

একুশের বইমেলায় জনতার ঢল নামবে আজ

 

আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নামবে বইপ্রেমীদের ঢল। এদিন বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রকাশকরা। আজ যারা আসবেন তারা বেশির ভাগই বইয়ের ক্রেতা। আজকের এ দিনের জন্যই মুখিয়ে থাকেন প্রকাশকরা। প্রকাশকরা জানান, বইমেলায় ২১শে ফেব্রুয়ারির অপেক্ষায় থাকি। এদিন বইয়ের কাটতি বেশি থাকে। ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতিও বেশি থাকে বলে বইয়ের বিক্রি বাড়ে। বিক্রির জন্য ভাষা দিবসই আমাদের মূল লক্ষ্য থাকে বলে তারা জানান।


এছাড়া গতকাল মঙ্গলবারও বিক্রি ভালো ছিলো। মেলায় এদিন শুরু হতেই ভিড় জমতে থাকে। আস্তে আস্তে জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে প্রাণের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামতেই নানা বয়সী মানুষের উচ্ছল উপস্থিতিতে মেলা রূপ নেয় প্রাণের আয়োজনে।


সরেজমিন দেখা যায়, মেলার গেট খুলতেই ক্রেতা-দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। নানা বয়সের বইপ্রেমীদের উপস্থিতিতে খুশি প্রকাশক ও বিক্রেতারা। এখন যারা আসছেন তারা বেশির ভাগই ক্রেতা। পছন্দের বইয়ের লিস্ট নিয়ে এসে খুজে খুজে কিনছেন বলে জানান বিক্রেতারা। তারা বলছেন, এখন বিক্রি খুব ভালো। দম ফেলানোর ফুসরত পাচ্ছি না। ক্রেতারা পছন্দের বই কিনে নিচ্ছেন। আর আগামিকাল বিক্রির রেকর্ড হবে বলে আশা প্রকাশ করছি। পাঞ্জেরী প্রকাশনীর বিক্রেতা জাবেদ আনজুম বলেন, মেলার এ শেষ সময়ে যারা আসছেন, সকলেই কিনছেন বই। সে সুবাদে সন্তুষ্ট প্রকাশকরাও। তবে শেষ সপ্তাহে মেলা আরো বেশি জমে উঠবে বলে আশা করছি। প্রতিবছরই জমে, এবছরও এর ব্যতিক্রম হবে না। পাঠকের আগ্রহ থাকায় নতুন নতুন বই আসছে। কাল ভাষার দিনে ব্যস্ততা বেশি থাকবে। এদিন ক্রেতারা বেশি বই কিনে থাকে।


রামপুরা থেকে মেলায় আসা রুহুল আমিন বলেন, আজ মেলায় এসেছি পছন্দের কয়েকটা বই কিনবো বলে। আগামিকাল তো মেলায় প্রবেশ করতেই পারবো না। বেশি ভিড় থাকবে বলে আজ এসেছি। তাছাড়া মেলার সময়ও শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে পরে আসার সুযোগ নাও পেতে পারি। আজ না আসলে হয়ত এ বছর বইমেলাকে মিস করতে হতো। শেষ মেষ এসেছি। নিজের পড়া এবং পছন্দের মানুষকে উপহার দেয়ার জন্য বই কিনবো। তিনি বলেন, এবার মেলার পরিবেশ বেশ চমৎকার। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বেশ ভালো। এ পরিবেশ থাকলে মেলায় দর্শনার্থী বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। এ মেলায় শুধু বই বিক্রি হয়-বিষয়টা তেমন নয়। মেলাকে ঘিরে জমে ওঠে জামপেশ আড্ডা। রাজধানীর কারো কারো বিকেল থেকে সন্ধ্যার ঠিকানা হয়ে ওঠে অমর একুশে গ্রন্থমেলার এ প্রাঙ্গণ। বন্ধু বান্ধব আর পরিবারের সঙ্গেও এসময় জমে ওঠে আড্ডা আর খোশগল্প। সে গল্পের রোমান্টিক চরিত্র হয় যুগল বন্দি তরুণ-তরুণীও। নয়ন শেখ নামের একজন আড্ডাবাজ বলেন, এ মেলা শুধু মেলা নয়, আমাদের জন্য একটা উৎসবও। প্রতিদিন মেলার সময় হলেই বন্ধুরা মিলে চলে আসি। মেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখানে কেমন যেন একটা উৎসবের আমেজ থাকে। সবার সঙ্গে দেখাও হয়ে যায়। তাই এ মেলায় প্রতিদিনই আসা হয়।


একাডেমির নতুন ভবনের সামনে পুকুর পাড়ে, লিটল ম্যাগ চত্বরে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের আশপাশে ও কালি মন্দিরের পুকুর পাড় পর্যন্ত এর বিস্তৃত থাকে।
এদিন বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস: বহুত্ববাদ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের চার রাষ্ট্রনীতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আকসাদুল আলম। আলোচনা করেন সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও মাহবুবুল হক। সভাপতিত্ব করেন শামসুজ্জামান খান। সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গতকাল অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নতুন বই এসেছে ১২৪টি বলে জানা গেছে।

 

কিউএনবি/বিপুল/২১.০২.২০১৮ইং /সকাল ১০:২৮