১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:৪৪

নারায়ণগঞ্জে শিক্ষিকা লাঞ্ছিত, মামলা

 

হাসান মজুমদার বাবলু, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, জাতীয় পার্টির নেতা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে শাহীনূর পারভীন শানু নামে এক স্কুল শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাইভেট পড়াতে অস্বীকার করায় রোববার (১১ ফেব্রুয়ারী) রাতে ওই স্কুল শিক্ষিকাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে জাতীয় পার্টির নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী মজিদ খন্দকার ও তার স্ত্রী।

গুরুতর আহত অবস্থায় শাহিনুর পারভীনকে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণ-২ কক্ষে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসা শেষে সোমবার সকালে তাকে বাড়িতে আনা হয়।
আহত শাহিনুর পারভীন প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা করছেন। তিনি শহরের হাজীগঞ্জ এলাকার জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার ও আইনজীবি মো: নুরুল হুদার বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন।

এ ঘটনায় সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্যাতিতার বাবা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল¬া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে আসামি করা হয়েছে জাতীয় পার্টির নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মজিদ খন্দকার ও তাঁর স্ত্রীকে।

এদিকে সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) শরফুদ্দিন ওই শিক্ষিকার বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: তাহমিনা নাজনীন জানান, তাঁকে যখন এখানে আনা হয় তাঁর শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন বেশি ছিল।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন বলেছেন, এ ঘটনায় থানায় লাঞ্ছিত শিক্ষিকার বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় সুষ্ঠ বিচার না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন পরিচালক ঐক্যে পরিষদ নেতৃবৃন্দ নেতারা।

জানা যায়, শিক্ষিকা শাহীনুরকে জাতীয় পার্টি নেতা ও আইনজীবি আব্দুল মজিদ খন্দকার তার নাতীকে তাদের বাড়িতে গিয়ে পড়ানোর প্রস্তাব দেয়। কিন্তু শাহিনুর এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে রোববার রাতে ওই শিক্ষিকার বাসায় গিয়ে অভিযুক্ত আইনজীবি ও তার স্ত্রী তাঁকে মারধরসহ জুতাপেটা করে।

এ ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় শাহিনুর পারভীনকে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে শিক্ষিকা শাহীনূর পারভীন শানু তাঁর অভিযোগে জানায়, রোববার রাত দশটা নাগাদ আব্দুল মজিদ তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় এসে তাদের নাতীকে বাসায় গিয়ে পড়ানোর কথা বলেন। কিন্তু দীর্ঘ ছয় মাস যাবত কিডনীজনিত রোগে অসুস্থতার কারণে পড়াতে রাজি হননি। আর এ কারনেই অভিযুক্ত আইনজীবি ও তার স্ত্রী তাকে মৌখিকভাবে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে নাবালক ছেলে মেয়ে ও স্বজনদের সামনেই তাকে মারধর করতে থাকেন।

এমনকি পায়ের জুতা খুলে তাকে জুতাপেটাও করেন।শাহীনুরের বাবা সাইফুল ইসলাম জানান, থানায় মামলা করেছি। তবে আব্দুল মজিদ খন্দকার একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও আইনজীবি। এ মামলার আদৌ কোনো সুরাহা হবে কিনা জানি না। তাই আমি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কাছে আইনগত সহায়তা চাইছি। যাতে অভিযুক্ত আইনজীবি ও তার স্ত্রীর সুষ্ঠু বিচার হয়।

এ ব্যাপারে বাড়ির মালিক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার এডভোকেট নুরুল হুদা বলেন, আমার অনুমতি ছাড়া আমার বাড়িতে ঢুকে আমার ভাড়াটের গায়ে হাত তোলা ও জুতাপেটা করে দন্ডনীয় সামাজিক অপরাধ করেছেন। তার উচিত ছিল আগে আমার সঙ্গে কথা বলা।

একজন আইনজীবি এ রকম বেআইনী কাজ করে অপরাধ করেছেন। আমরা স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।এদিকে, অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির নেতা ও আইনজীবি আব্দুল মজিদ খোন্দকার মারধরের ঘটনাকে অস্বীকার জানিয়ে বলেন, আমার নাতিকে বাসায় এসে পড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু সে না করে দেয় এবং সে আমার স্ত্রীকে অশালীন কথাবার্তা বলেছে। এমনকি বুড়ি-টুড়ি ও বলেছে।

এ নিয়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছে। এই টুকুই। মারধরের তো কোন ঘটনা ঘটেনি।এ ছাড়াও গত শুক্রবার (১০ জানুয়ারী) ফতুল্লায় সস্তাপুর এলাকায় বেতনের টাকা চাওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে মোহাম্মদুল্লাহ কবির জনি (২৫) নামে গৃহ শিক্ষককে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের লোকজন মারধর করেছে। এ ঘটনায় শিক্ষকের বড় ভাই আব্দুল্লাহ কবির রনি ফতুল্লা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

উল্লেখ, ২০১৫ সালেল ১৩ মে বন্দরের পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পাটির সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের হাতে লাঞ্ছিত হন। ওই ঘটনাটি সারাদেশে আলোচিত হয়। বর্তমানে শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিত করার মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং/সকাল ১০:০৯