২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৫:১২

ধসে পড়ছে বাড়িঘর জনমনে ভয়

 

ডেস্ক নিউজ : রূপগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় কয়েক বিঘা জমির মাটি কেটে নিয়েছে স্থানীয় ভূমি দখলকারীরা। এসব জমির মাটি স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে বিক্রি করছে প্রভাবশালী ওই চক্র। আর এতে গভীর খাদ সৃষ্টি হওয়ায় আশপাশের কৃষিজমি, বাড়িঘর, বেড়িবাঁধ ও শিল্প-কারখানা ধসে পড়ছে। এ নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। স্থানীয় প্রশাসন পর পর দুবার মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়ার পরও দখলকারীরা অনেকটা দম্ভোক্তি দেখিয়েই মাটি কেটে নিচ্ছে। তবে অভিযুক্ত চক্রটির দাবি, তারা তাদের নিজেদের জমির মাটি বিক্রি করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের ভুলতা মৌজার কর্ণগোপ, মিরকুটিছেও, মাঝিপাড়া, মাছিমপুরসহ আশপাশের এলাকায় পাউবোর অধিগ্রহণকৃত ক্যানেলের কয়েক বিঘা জমি জবরদখল করে মাটি কেটে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে। মাছিমপুর এলাকার স্বপন ভুইয়া, আবু ভুইয়া, খোকন ভুইয়াসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব জমির মাটি কেটে গভীর খাদে পরিণত করেছে। কয়েক বছর ধরে এ চক্রটি সরকারি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছে। জানা গেছে, এ চক্রটি আশপাশের ইটভাটাগুলো থেকে দাদন নেয়। পরে তারা চুক্তি অনুযায়ী ওই সব ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করে।

প্রতিবছর এ মৌসুমে সরকারি জমির মাটি বিক্রি করে এ চক্রটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ট্রাক ও ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। একেক স্থানে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ফুট গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। এতে ধসে বেড়িবাঁধ ও আশপাশের বাড়িঘর, কৃষিজমি, গাছপালা আর শিল্প-কারখানা। মাটি কাটার সময় উপস্থিত থেকে দেখভাল করেন হারুন অর রশিদ, শহিদুল্লাহ ও খোরশেদ আলম।

এলাকাবাসী জানায়, যেভাবে সরকারি জমি দখল করে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে তাতে আশপাশের কৃষিজমি, বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট কিছুই টিকবে না। মানুষ আতঙ্কে আছে।

এ সময় কথা হয় কাশেম গাজীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার ১৭ বিঘা জমি রয়েছে। সরকারি জমির মাটি কেটে গভীর করার কারণে আমার পুকুরপাড়ের নারিকেল ও তালগাছ ধসে পড়েছে।’ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানান কাশেম গাজী। এ ব্যাপারে মাটি কাটায় জড়িত মো. স্বপন ভুইয়া বলেন, ‘আমার বাবা আফজাল হোসেনের কেনা তিন বিঘা জমি থেকে আমরা মাটি কেটে নিয়েছি। সরকারি কোনো জমির মাটি আমরা কাটি নাই। তবে বর্তমানে জমির মাটি কাটা বন্ধ আছে।’

এ ব্যাপারে পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. হাসান মিয়া জুয়েল বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি স্টেশন অফিসার (ল্যান্ড) জাহাঙ্গীর হোসেন ও রাজস্ব সার্ভেয়ার জাকারিয়াকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কিন্তু জমি মাপতে চাওয়ায় স্থানীয় কিছু লোক এগিয়ে এসে বাধা দেয়। পরে তাদের বাধার মুখে আমরা চলে আসি। অচিরেই পাউবোর জমি মাপ দিয়ে নির্ধারণ করা হবে।’

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ভুলতা মৌজায় পাউবোর জমি রয়েছে। শুনেছি মাছিমপুর এলাকার কয়েকজন মিলে সেই জমির মাটি কেটে নিয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু ফাতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সে সড়ক দিয়ে ট্রাকযোগে ওই চক্রটি মাটি আনা-নেওয়া করে সেই সড়কটি কেটে ফেলা হয়েছে। পরে তারা বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিচ্ছে বলে খবর পেয়ে ওই সড়কটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

 

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং/সকাল ৯:০৯