১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:৪২

হত্যা মামলার রায় নেত্রকোনায় একজনের ফাঁসি, দুইজনের যাবজ্জীবন

 

শান্তা ইসলাম,নেত্রকোনা প্রতিনিধি : জেলার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের রূপচন্দ্রপুর গ্রামের চাঞ্চল্যকর কৃষক আবদুল লতিফকে (৪৫) হত্যার দায়ে একজনকে ফাঁসির আদেশ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা, দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, তিনজনকে এক বছরের কারাদন্ড, প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অপর তিন আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। নেত্রকোনার জেলা ও দায়রা জজ কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সোমবার দুপুরে আসামীদের উপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী হলেন- জেলার আটপাড়ার রূপচন্দ্রপুর গ্রামের সুলতু খাঁর ছেলে নূরুল আমীন খাঁ (২৬), যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আসামীরা হলেন- সুলতু খাঁর ছেলে আল আমীন খাঁ (২৯) ও আবদুল হামিদ খাঁর ছেলে তৌফিক খাঁ (২৭), এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- ওই গ্রামের মৃত আরফান আলী খাঁর ছেলে সুলতু খাঁ (৫৬), আবদুল হামিদ খাঁর ছেলে কাজল খাঁ (২৪), মৃত মোবারক আলীর ছেলে তাজুল ইসলাম(৪৮), বেকসুর খালাস প্রাপ্ত আসামীরা হলেন- আনিছুর রহমান চৌধুরীর ছেলে অলী চৌধুরী (৩০), মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে নূর আহম্মদ ওরফে নূর মোহাম্মদ (৩৮) ও আনিছুর রহমান চৌধুরীর ছেলে সবুজ চৌধুরী (৩৮)।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জেলার আটপাড়ার রূপচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক আবদুল লতিফের সাথে দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের নুরুল আমীন খাঁ গংদের সেলু মেশিনের সেচ দেয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২০১৩ সালের ১৬ জুন সন্ধ্যায় কৃষক আবদুল লতিফ তার অসুস্থ বড় ছেলে শরীফকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী কোনাপাড়া বাজারে যাওয়ার পথে কোনাপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাথারী কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

এলাকাবাসী তাকে আশংকা জনক অবস্থায় উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগম বাদী হয়ে ১৯ জুন নূরুল আমীন খাঁসহ ৯ জনকে আসামী করে আটপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ অক্টোবর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর আহমদসহ তিন আসামীকে বাদ দিয়ে আদালতে চাজশীর্ট দাখিল করে। বাদী পক্ষ না রাজি দিলে আদালত সিআইডিকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সিআইডি তদন্ত পূর্বক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর আহম্মদকে বাদ দিয়ে ২০১৪ সালের ১৭ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে বাদী পক্ষ পূনরায় না রাজি দিলে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।

২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারী সকল আসামীর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদন দাখিলের পর বিজ্ঞ বিচারক তা আমলে নিয়ে ২০ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করে ৬জন আসামীর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমানীত হওয়ায় সোমবার এই রায় প্রদান করেন। সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন- ভারপ্রাপ্ত পিপি অ্যাডভোকেট সাইফুল আলম প্রদ্বীপ, আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান।

 

 

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:১৮