২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:২৯

দেবর-ভাবীর দূর্ণীতির আখড়া শরীয়তপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস

 

খোরশেদ আলম বাবুল,শরীয়তপুর প্রতিনিধি : রীয়তপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় দেবর-ভাবীর দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দু’জনে মিলে চালাচ্ছে অফিসিয়াল অনিয়ম ও দূর্ণীতি। অফিস স্টাফ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিভিন্ন ভাতা-বিলের কমিশন, অফিস পরিচালনা সংক্রান্ত অর্থ বিভিন্ন বিল ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ ও সরকারী বাড়ি ভাড়ার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগত তহবিলে রাখাই দেবর অসীম চন্দ্র মন্ডল ও ভাবী সিবানী বনিক কাজ বলেও জানাগেছে। এ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কাার্যাললের সকল স্টাফদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা যায়, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কার্যালয়ের কোয়াটারে অফিস সহকারী নাজনিন স্ব-পরিবারে দীর্ঘদিন বসবাস করতেন। তার বসবাসরত সময় বাড়ি ভাড়া সরকারী কোষাগারে জমা হত। ৭-৮ মাস পূর্বে নাজনীন সরকারি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। সে থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের সরকারী বাড়ি একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজর আইরিন আক্তার পলির নিকট ভাড়া দেয়া হয়েছে। সরকারি বাড়ি ভাড়ার টাকা সরকারের কোষাগারে জমা না করে আত্মসাৎ করছেন দেবর-ভাবী।

আরো জানায়, বেদর অসীম মন্ডলের পরিচয়। অসীম গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ার্ড বয় হিসেবে কর্মরত ছিল। ভাবী সিবানী বণিক প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক পদে যোগদানের পরে দেবর অসীমকে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে একটা চিঠি ইস্যু করিয়ে এমএলএসএস হিসেবে পিছনের দরজা দিয়ে সদর উপজেলা কার্যালয়ে প্রবেশ করায়। সেই থেকে অসীম-সীবানির দূর্ণীতির পথ সুগম হয়। অথচ ওয়ার্ড বয় পদটি ব্লক পোষ্ট। এ পদ থেকে কোন পদোন্নতির সুযোগ নাই।

অফিস স্টাফ সূত্র জানায়, সিবানী দেবরকে স্যুট-কোর্ট পড়িয়ে তার টেবিলের সামনে চেয়ারে ফুট বাবুর মতো বসিয়ে রাখে। অর্থ সংক্রান্ত কোন কাজ হলে সেটা অসীম করে। নির্ধারিত কাজ করতে অসীমের সম্মানে বাঁধে। এক গ্লাস পানিও কর্মকর্তাগণ নিজ উদ্যোগে ঢেলে নেন। মেহমান আসলে দোকান থেকে চা-বিস্কুট আনলেও অসীমের সম্মান চলে যায়। অথচ এমএলএসএস হয়েও অফিস সহকারীর অর্থ সংক্রান্ত সকল কাজ অসীম করে।

আরও জানায়, সিবানী ৯০ জন স্টাফের চিত্র-বিনোদন ভাতা থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রিন্টারের কালি, কম্পিউটার মেরামত, স্টেশনারী মালামাল ইত্যাদী’র জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহ ভাগ চলে যায় সিবানীর ব্যক্তিগত তহবিলে। তাছাড়া বিভিন্ন দিবস, প্রশিক্ষন ও অনুষ্টানের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নাম মাত্র খরচ করে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। ইতোমধ্যে কালির অভাবে প্রিন্টারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ৩০ জানুয়ারী মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০পর্যন্ত সিবানীর কার্যারয়ের নিকট অপেক্ষা করা হয়। এ সময়ের মধ্যে সিবানী বনিক নিজ কার্যালয়ে আসেন নি। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোনে ১৪বার কল করা হয়। ২ বার কল রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কল কেটে দেয়। আজও একাধিকবার ফোনে কল করা হয়েছে। কল রিসিভ করেননি সিবানী বনিক।

 

 

কিউএনবি/রেশমা/৩১শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং/সকাল ১১:২৮