২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:৫৫

দ্বিতীয় স্প্যান বসানোর পরে ৩শ মিটার দৃশ্যমান পদ্মাসেতু

 

খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি : দ্বিতীয় স্প্যান ৭বি (সুপার স্ট্রাকচার) বসানোর মধ্যদিয়ে ৩শ মিটার দৃশ্যমান হলো স্বপ্নের পদ্মাসেতু। গতকাল শনিবার সকাল থেকে শুরু হয় স্প্যান বসানোর আনুষ্ঠানিকতা। পুরো দিন চেষ্টা চালিয়ে সন্ধ্যায় ঘন কুয়াশা ও নাব্যতা সংকটের কারণে স্প্যান বসানোর কাজ স্থগিত করে প্রকৌশলীগণ।

পরবর্তীতে (২৮ জানুয়ারী) রোববার সকাল সোয়া ৯টায় ৩৮ ও ৩৯ নম্বর খুটির উপর বসানো হয় দ্বিতীয় স্প্যানটি। এর আগে ২৩ জানুয়ারী পদ্মা সেতু জাজিরা অংশে এলাকায় তিন হাজার ৬শ’ টন ধারণ ক্ষমতার তিয়ান-ই ক্রেনে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ হাজার ১শ ৪০ টন ওজনের স্প্যানটি পৌছায়।

সেতু বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতুতে ৪২টি খুঁটি থাকবে। এর মধ্যে জাজিরা প্রান্তে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এ দুইটি খুঁটির উপর প্রথম স্প্যানটি বসানো হয়।

গত ২০ জানুয়ারী ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে তিন হাজার টন এর বেশী ওজনের স্প্যানটি প্রায় চার হাজার টন বহন সক্ষমতার তিয়ান-ই ক্রেন মুন্সীগঞ্জের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে রওনা হয়। ২৩ জানুয়ারী পদ্মা সেতু জাজিরা অংশে পৌছায়।

মাওয়া প্রান্ত থেকে রওয়ানা দিয়ে জাজিরা প্রান্তে পৌঁছতে সময় নেয় তিন দিন। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা আর প্রস্তুতি শেষে গতকাল শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয় দ্বিতীয় স্প্যানটি বসানোর আনুষ্ঠানিক কাজ। পুরো দিন চেস্টা চালিয়ে ঘন কুয়াশা আর নাব্যতা সংকটের কারণে স্প্যান বসানোর কাজ স্থগিত করে ৩৮ ও ৩৯ নম্বর খটির বরাবর রাখা হয়।

আজ রোববার সকাল সোয়া ৯টায় ৩৮ ও ৩৯ নম্বর খটির উপর স্প্যানটি বসাতে সক্ষম হয় প্রকৌশলীরা। প্রায় ৪ মাস পর ৩৯ নম্বর খটির কাজ শেষ হওয়ার পর ৩৮ ও ৩৯ নম্বর খুটির উপর বসানোর মধ্যদিয়ে ৩শ মিটার দৃশ্যমান হলো স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

২০১৪ সালের ২৮ জুন চায়না মেজর ব্রীজ কনস্ট্রাকশন কোম্পানীর সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই শুরু হয় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতুর কাজ। এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেন। কংক্রিট ও ইস্পাতের তৈরী দ্বিতল বিশিষ্ট এ সেতুতে মোট পিলার বা খুঁটি থাকবে ৪২টি। বর্তমানে প্রায় ৫০ ভাগ পিলার নির্মাণের কাজ চলমান। এক পিলার থেকে আরেক পিলারের দুরত্ব ১৫০ মিটার। মোট স্প্যান বসানো হবে ৪১টি। একেকটি স্প্যানের ওজন ৩ হাজার ১শ ৪০ মেট্রিক টন।

পদ্মা সেতুর প্রতিটি পিলারের নিচে ৬টি করে পাইল বসানো হচ্ছে। এ সেতুতে মোট ২৪০টি পাইল বসানো হবে। এ পাইলগুলো ৯৬ মিটার থেকে ১২৮ মিটার মাটির গভীরে বসানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত শতাধিক পাইল বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। জাজিরা-মাওয়া দুই প্রান্তে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশীয় কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

দ্বিতল বিশিষ্ট এই সেতুর নিচ দিয়ে চলবে রেল গাড়ি আর উপর দিয়ে যাতায়াত করবে যান ও পন্যবাহি পরিবহন। পানির স্তর থেকে ৬০ ফিট উঁচু হবে মূল সেতু। সেতুর প্রস্থ্য হবে ৭২ ফিট বা ৪ লেন। চার হাজারেরও বেশী দেশী বিদেশী জনবল দিন-রাত করে সেতু নির্মানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২৮শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:৩২