২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:১৪

গোসাইরহাটের ইউএনও কে হত্যার হুমকি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

 

খোরশেদ আলম বাবুল,শরীয়তপুর : শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুন শিবলীকে হত্যার হুমকির অভিযোগে গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডাইরী (জিডি) করা হয়েছে। গতকাল ২২ জানুয়ারী রাত ১০টার দিকে গোসাইরহাট থানায় এ জিডি রেকর্ড হয়েছে।

ইউএনও অফিস ও জিডি সূত্রে জানা যায়, ২২ জানুয়ারী উপজেলার বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী নিয়োগ সংক্রান্ত সভায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তার প্রতিনিধি প্রেরণ না করে সভার শেষলগ্নে নিজেই সভা কক্ষে প্রবেশ করে। উপস্থিত সকলের সম্মতিক্রমে ইউএনও সভার কার্যক্রম সমাপ্ত করেন। সভা শেষ করে ইউএনও তার কার্যালয়ে বসে দাপ্তরিক কাজ করার সময় উপজেলা আওয়ামীলীলগ সভাপতি শাহজাহান শিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান দেওয়ান মো. শাহজাহান ও মুক্তিযোদ্ধা আলী আহম্মদ আকনের উপস্থিতিতে উপজেলা পরিরষদ চেয়ারম্যান অপরিচিত ৬-৭ জন লোক নিয়ে ইউএনও’র কার্যালয়ে প্রবেশ করে।

এক পর্যায়ে দপ্তরী নিয়োগের বিষয়ে বেআইনী ভাবে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশে চিৎকার চেচামেচি করে এবং টেবিলে থাপ্পর দিয়ে বলেন ইউএনওকে দেখে নিবে। ইউএনও চেয়ারম্যানকে শান্ত ভাবে কথা বলতে বললে আরও ক্ষিপ্ত হয় এবং পাঞ্জাবী উচু করে কোমরে থাকা পিস্তল প্রদর্শণ করে। ইউএনও জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে থানায় জিডি করেন।

ইউএনও বলেন, জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে বিষয়টি আলাপ করি। উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে দুপুরের থানায় সাধারণ জিডি লিখে পাঠাই। রাত ১০টার দিকে জিডি রেকর্ড হয়।

উপজেলা পরিষয় চেয়ারম্যান বলেন, অসুস্থ থাকায় বেশীরভাগ সময় চিকিৎসার জন্য ঢাকায় থাকি। ইদিলপুর দাখিল মাদ্রাসর আমি সভাপতি। ওই মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শেষ করে সভায় যেতে দেরী হয়। সভার উপস্থিতি বহিতে স্বাক্ষর করতেই ইউএনও সভার কার্যক্রম সমাপ্ত করে চলে যায়। ১৯৯৭ সাল থেকে আমার লাইসেন্স করা পিস্তল আছে। অদ্যবদি কেউ সেটা দেখেনি। তাছাড়া ডাক্তার আমার শারিরিক বিবেচনায় পিস্তল ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে।

তাছাড়া ওইদিন আমি স্যুট-কোর্ট পরেছি। পরনে পাঞ্জাবী ছিল না। আমাদের মধ্যকার বিরোধ জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দের মধ্যস্থতায় সমাধাণ হয়েছে। এখন জানতে পারলাম আমার বিরুদ্ধে জিডি হয়েছে। ধারণা করছি দলীয় কোন নেতা-কর্মী আমার বিরুদ্ধে ইউএনও’র কান ভারী করেছে। দলের উর্ধ্বতন নেতা ও এমপি’র সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান দেওয়ান ও মুক্তিযোদ্ধা আলী আহাম্মদ আকনের উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি শাহজাহান সিকদার বলেন, ইউএনও জিডিতে যা উল্লেখ করেছে তা সত্য। সৈয়দ নাসির উদ্দিন শুধু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানই নয় সে উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদকও বটে। ইউএনওর সাথে এ ধরনের আচরন দলীয় শৃঙ্খল ভঙ্গও বটে। এ কর্মকান্ডের সঠিক বিচার হওয়া উচিত।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২৩শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:৪৩