ব্রেকিং নিউজ
২৬শে জুন, ২০১৯ ইং | ১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৫৮

কর্মী থেকে শিল্প উদ্যোক্তা সহোদর দুই ভাই

 

শামসুল ইসলাম সহিদ,মিজৃাপুর (টাঙ্গাইল ) : কর্মদক্ষতা ও দৃঢ় মনোবলই পারে বড় কিছু করার।তারই স্বাক্ষর রেখেছেন সহোদর দুই ভাই।নিজেদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা আর মনোবল দিয়ে শত কোটি টাকার বড় ঝুকি নিয়েছেন তারা।

বিনিয়োগে বিকাশ।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দশটি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে একটি।এই উদ্যোগ গুলির সফল বাস্তবাযন হলে এসডিজি বাস্তবায়ন হবে।প্রধানমন্ত্রীর ওই সফলতার অংশিদাড় হতে সততা, অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা, দৃঢ মনোবল ও বাবার কাছ থেকে পাওয়া সাহসকে পুঁজি করে এগিয়ে যাচ্ছেন শিল্প উদোক্তা সহোদর দুই ভাই। গড়ে তুলেছেন শত কোটি টাকার শিল্প প্রতিষ্ঠান মহেড়া পেপার মিলস্ লিমিডেট।

তারা হলেন মির্জাপুর উপজেলার কুচইতারা গ্রামের মো. তোতা মিয়ার দুই ছেলে তাহেরুল ইসলাম ও মোশারফ হোসেন।

দুই ভাইয়ে মিলে উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কোট বহুরিয়া এলাকায় সাড়ে তিন একর জমির উপর গড়ে তুলেছেন মহেড়া পেপার মিলস্ লিমিডেট নামে একটি কাগজ তৈরির কারখানা। প্রতিষ্ঠানটিতে বড় ভাই তাহেরুল ইসলাম চেয়ারম্যান ছোট ভাই মোশারফ হোসেন এমডি এবং বাবা তোতা মিয়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৪ সালে কারখানাটি স্থাপনের কাজ শুরু হলেও উৎপাদন শুরু হয়েছে ২০১৭ সালে। গ্যাস বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় শুরু থেকেই ডিজেলচালিত জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে কাগজ উৎপাদন করছেন। জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরিতে উৎপাদান খরচ দ্বিগুণের বেশি হচ্ছে। তবে শিগগির বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার আশা করছেন তারা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ২শ ৫০ জন কর্মচারী শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।

কর্মী থেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হয়েছে তাদের। প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কীভাবে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন সে বিষয়ে গো-নিউজের সঙ্গে কথা হয় মহেড়া পেপার মিলস্ লিমিটেডের চেয়ারম্যান তাহেরুল ইসলামের।

চেয়ারম্যান তাহেরুল ইসলাম জানান, কর্মজীবনে সততা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, দৃঢ মনোবল ও বাবার কাছ থেকে পাওয়া সাহসকে পুঁজি করে শিল্প উদোক্তা হয়েছেন তারা দুই ভাই।

শিল্প উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে ঢাকা পলিটেনিক্যাল থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে সোনালি পেপার মিলে চাকরি নেন। দুই বছর সেখানে কাজ করার পর ১৯৯৫ সালে বসুন্ধরা পেপার মিলে যোগদান করেন। ছোট ভাই মোশারফ ২০০১ সালে লেখাপড়া শেষ করে পেপার মিলে চাকরি নেয়।

তাহেরুল ইসলাম বলেন, দুই ভাই দেশের স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা পেপার মিলে সততা ও সুনামের সঙ্গে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চাকরি করেছি। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন চাকরির সুবাদে এ ব্যবসা ও মেশিনারিজ সম্পর্কে আমাদের অনেক অভিজ্ঞতা হয়।

তিনি বলেন, চাকরিকালে এমন অনেককে দেখিছি যাদের এই লাইনে কোনোই অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনোটিই নেই। তারপরও তারা উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হয়েছেন। তখন মনে হতো তারা যদি সফল হতে পারেন আমরা কেন পারব না। তারপর দুই ভাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়ি এসে বাবার সঙ্গে পরামর্শ করি। মধ্যবিত্ত পরিবারে সদস্য হয়ে শতকোটি টাকার শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার কথা শুনে পরিবারের অন্যরা অনেকটা হতাশার কথা শুনালেও বাবা সাহস দিলেন। তিনি বললেন আমার নামে যে জমি আছে সব বিক্রি কর। বাবার দেয়া সাহস বুকে নিয়ে দুই ভাই মিলে নেমে পড়লাম স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে। এ অফিস ও অফিস দৌড়ঝাঁপ করে কাগজপত্র যোগার করলাম।

এই শিল্প উদ্যোক্তা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে মির্জাপুর উপজেলার কোট বহুরিয়াতে জমিও কেনা হলো। জমিতে মাটি ভরাট শুরুর পর অনেকে বলেছেন মাটির ব্যবসা করবো। ইতিমধ্যে সোস্যাল ইসলামিক ব্যাংক থেকে প্রকল্পের নামে প্রায় ৮০ কোটি টাকা লুনও পাস হয়ে গেল।

তিনি জানান, কারখানার মূল ভবনের সেড ও বাউন্ডারি নির্মাণের পর অনেকে বলেছেন এইসব দেখিয়ে ব্যাংকের টাকা মেরে বিদেশ চলে যাব। কিন্তু কারও কোনো কথাই হতাশ না হয়ে একের পর এক সমালোচনা পেছনে ফেলে মেশিনপত্র আমদানি সম্পন্ন করা হলো। এখন স্থানীয়রা অনেকেই বলে দেউলিয়া হবে। তারপর ২০১৭ সালের মাঝামাঝি স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটল। উৎপাদন শুরু হলো আমাদের মিলে।

বিদ্যুৎ গ্যাস না পাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পেপার মিলের জন্য যে পরিমান বিদ্যুৎ লাগে সেই ক্যাপাসিটি মির্জাপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের নেই। ফলে আলাদা সাব স্টেশন তৈরি করে বিদ্যুৎ তৈরি করতে হবে। সেজন্য বিদ্যুৎ পেতে দেরি হচ্ছে। তবে গত মাসে নতুন সাব স্টেশন নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়েছে। আশা করছি আগামী ৩/৪ মাসের মধ্যে কারখানায় বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যাবে।

চেয়ারম্যান বলেন, ডিজেল জেনারেটর দিয়ে এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ হচ্ছে ১৭ টাকা। বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে তা অর্ধেকের নিচে নেমে আসবে। জেনারেটরে সাহায্যে উৎপাদনে থাকা সাময়িক।

তিনি বলেন, তাদের কারখানায় আন্তর্জাতিক মানের নিউজ প্রিন্ট, রাইটিং ও প্রিন্টিং পেপার তৈরি হয়। ভবিষ্যতে আরও অনেক ধরনের পেপার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশাল ঝুঁকি নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ঝুঁকি ছাড়া জীবনে পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে এক্ষেত্রে আমাদের যে অভিজ্ঞতা রয়েছে সেটাই বড় পুঁজি বলে মনে করি। অন্য উদ্যোক্তাদের মেশিন রক্ষণাবেক্ষণে যে খরচ হয় আমাদের তা লাগবে না। সেখানে আমাদের বড় একটা সুবিধা রয়েছে বলে আমরা মনে করি।

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১৭ই জানুয়ারি, ২০১৮ ইং/দুপুর ১:২৩

Please follow and like us:
0
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial