২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:১০

চৌগাছায় এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

 

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছায় এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে বিভিন্ন খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কলেজগুলো ফি আদায়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না। অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়ে দফায় দফায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে ঝগড়া বিবাদের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায় এ উপজেলায় ১১টি কলেজ, ২টি আলিম মাদ্রাসা ও ১টি কামিল মাদ্রাসা রয়েছে। প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে ২০১৮ সালে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করছে প্রায় ৩ হাজার ৬শ শিক্ষার্থী।

যশোর শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানাযায় পরীক্ষার্থীকে বিষয় প্রতি ৯৫ টাকা হারে ১৩টি বিষয়ে ১২শ ৩৫ টাকা এবং ব্যবহারিক বিষয় প্রতি ২৫ টাকা, একাডেমি ট্রান্সক্রিপ্ট বাবদ ৫০ টাকা সনদ বাবদ ১শ টাকা, স্কাউট ফি ১৫ টাকা, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি ৫ টাকা প্রতিষ্ঠান প্রতি কেন্দ্র ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে কেন্দ্র ফি ৩শ টাকা বাদে একজন পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণ বাবদ ১ হাজার ৪শ ৩০ টাকা দাড়ায়। সূত্রে প্রকাশ উপজেলার কলেজ গুলোতে অভিভাবকদের গলাকেটে শিক্ষাবোর্ড নির্ধারিত ফিয়ের চাইতে ২/৩ গুন বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে ডা. সাইফুল ইসলাম (কাটগড়া) কলেজের মানবিক শাখার শিক্ষার্থী সোনিয়া খাতুন ফরম পূরণের জন্য কলেজ নির্ধারিত চার হাজার টাকা জোগাড় করতে না পেরে প্রথমে গলায় রশি দিয়ে এবং পরে কীটনাশক পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। সে উপজেলার রাজাপুর গ্রামের চা বিক্রেতা শহিদুল ইসলামের কন্যা। শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মেয়েটি কীটনাশক পান করার পর আমি মহেশপুরের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ নবী নেওয়াজের ভাগিনা ও স্থানীয় ইট ভাটার মালিক জিয়া উদ্দিনের নিকট থেকে টাকা ধার করে মোট তিন হাজার টাকা নিয়ে যাই। তখন অধ্যক্ষ বলাই চন্দ্র পাল আরো ছয়শত টাকা না দিলে ফরম পূরণ করা হবে না জানিয়ে দেন। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ বলাই চন্দ্র পাল জানান সোনিয়ার ফরম পূরনে মাত্র ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষপানের অন্য কোন কারণ থাকতে পারে।

এ ব্যাপারে উপজেলার সলুয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোজাহার আলী জানান এইচ এসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য বোর্ড ১ হাজার ৪শ ৩০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে ফরম পূরণের সময় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ ২ বছরের বকেয়া মাসিক বেতন, হল ফি ৩শ, কলেজ প্রতি ৩শ ও অতিরিক্ত পাঠদানের জন্য বেতনের বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত পাঠদান বকেয়া বেতনের জন্য বাড়তি টাকা নেওয়ার ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিকট বেশি মনে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন শিক্ষকরা টাকা ছাড়া কিছুই চেনেননা। গরীব মানুষ পরের ক্ষেতে কামলা খেটে/ ভ্যান-রিকসা ঠেলে সন্তানকে লেখাপড়া করায়। এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পুরনে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে শিক্ষকরা। তাদের চাহিদা মেটাতেই আমাদের রক্তপানি করা টাকা তুলে দিতে হচ্ছে।

এদিকে ২০১৪ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় না করার জন্য মহামান্য হাইকোর্ট একটি রুল জারি করে ছিল। গেল বছর যাদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়ে ছিল তাদেরকে বাড়তি টাকা ফেরত দেওয়ার জন্যও বলা হয় ঐ রুলে। তার পরেও উপজেলার কলেজ গুলো অভাবী এ জনপদের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মরার পরে খাড়ার ঘা মেরে ইতি মধ্যে অতিরিক্ত ফি সহ বোর্ড ফি আদায় করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এম কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর জানান যদিও কলেজ গুলো আমাদের আওতার অনেকটা বাইরে। তারপরেও শিক্ষা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান বিভাগ, বানিজ্য বিভাগ ও মানবিক বিভাগের জন্য যে ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে তার বেশি নেওয়ার অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৩১শে ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/সন্ধ্যা ৬:২৫