১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:৫৭

কুড়িগ্রামে এনজি’র ঋণের জালে বন্দি স্বল্প আয়ের মানুষ

 

রাশিদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম থেকে : কুড়িগ্রামে এনজি’র ঋণের জালে বন্দি হয়ে পড়েছে ১৮ লক্ষ অধ্যুষিত বিশাল জনগোষ্ঠির স্বল্প আয়ের মানুষজন। এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে মামলা খেয়ে পলাতক কিংবা ঘরের আসবাবপত্র-জমি জিরাত বিক্রির পথ বেছে নিচ্ছে অসহায় মানুষগুলো। হাতে কাজ থাক আর না থাক, পেটে ভাত থাক আর না থাক। কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে দেশের সবচেয়ে দারিদ্রপীড়িত জেলা কুড়িগ্রামের নিম্নবিত্ত মানুষ ও স্বল্প আয়ের মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম পৌরসভার ডিপো পাড়া গ্রামের নাসিমা বেগম তিনি ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন ৬ লক্ষ টাকা। খেয়ে না খেয়ে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা পরিশোধ করার এক পর্যায়ে ঠিকমত কিস্তির টাকা দিতে না পারায় ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ তার স্বামী আরশাদ হোসেনের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার ভয়ে তিনি এখন পলাতক। একদিকে মামলার ঘানি অন্যদিকে স্ত্রী-সন্তান হারা আরশাদ হোসেন। স্ত্রী-সন্তানরা এখন নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছে।

একই চিত্র কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার ট্যানারিপাড়া গ্রামের মর্জিনা বেগমের। শুধুমাত্র পরিবার চালাতে ঋণ নিয়েছেন ৫টি এনজিও থেকে লক্ষাধিক টাকা। এখন সেই ঋণ পরিশোধের কিস্তি চালাচ্ছেন খেয়ে না খেয়ে। তার স্বামী বালু ব্যবসায়ী হওয়ায় শুধুমাত্র শুস্ক মৌসুমে আয় করেন। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি থাকায় বালু বিক্রি করতে না পারায় আয়ও করতে পারেন না।

কুড়িগ্রামের গ্রামীণ জনগোষ্ঠির একটি বড় অংশ ঋণ নিচ্ছে একাধিক ঋণদানকারী এনজিও থেকে। তারা এক এনজিওর ঋণের কিস্তি শোধ করছে আরেক এনজিওর টাকায়। এমনকি কিস্তির টাকা দিতে না পারায় ঘটছে বাড়ি ছেলে পলায়ন কিংবা আত্মহত্যার মতো ঘটনাও। কৌশলগত কারণে নারীদেরই ঋণ দেয় স্থানীয় এনজিওগুলো। অথচ ঋণের টাকা পরিশোধের ক্ষমতা তার আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয় না।

এনজিওগুলো যখন ঋণ দেয় তখন একটি বারের জন্য যাচাই বাছাই করে দেখারও প্রয়োজন মনে করে না যাকে ঋণ দিচ্ছে সেটার পরিশোধ করার ক্ষমতা তার আছে কিনা। অথচ সময়মত ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে অপমান আর নির্যাতন করা হয় তাদের।

নিয়ম অনুযায়ী ঋণ দেয়ার আগে গ্রাহক ও জামানতকারীর সামর্থ্য, আগে ঋণ নিয়েছেন কি না এবং ঋণের অর্থ কি কাজে লাগানো হবে, তা বিস্তারিত জানার কথা ঋণদানকারী এনজিওর। কিন্তু এনজিওগুলো কোন নিয়মই মানে না।জলিল বিড়ি মোড়স্থ এনজিও আশা’র ব্যবস্থাপক বলেন, একাধিক সংস্থা থেকে ঋণ নিলেও আমাদের কোন যায় আসে না। আমাদের কাছ থেকে যে ঋণ তারা নিয়ে থাকেন তা সময়মত পরিশোধ করছে কিনা সেটাই আমাদের কাছে মুখ্য বিষয়।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম ত্রিমোহনী বাজারস্থ ব্র্যাক ব্র্যাংকের ব্যবস্থাপক জানান, ঋণ দেয়ার সময় বলা হয় আপনি ঋণ চালাতে পারবেন কিনা? ঋণগ্রহীতারা সাধারণত বলে থাকেন-অবশ্যই পারবো। কিন্তু বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। ঋণ নেয়ার পর শুরু টালবাহনা।

এমতাবস্থায় কুড়িগ্রামের সচেতন এবং অভিজ্ঞ মহল মনে করছে এনজিওর মাধ্যমে স্বাবলম্বী তো দূরের কথা নিম্নবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষকে নিঃস্ব করছে এ সকল এনজিও। তাই দেশের সবচেয়ে দারিদ্রপীড়িত জেলা কুড়িগ্রামের হতদরিদ্র মানুষদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রয়োজন শিল্প কলকারখানা ও কর্মসংস্থান।

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৩১শে ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/সন্ধ্যা ৬:১৬