১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:২৭

আর কত বয়স হলে সরকারী সুযোগ সুবিধা পাবে নিরুদা বালা

 

নবাবগঞ্জ(দিনাজপুর) থেকে এম এ সাজেদুল ইসলাম(সাগর) : গোলাগুলির সময় স্বামী মারা গেছে, কিন্তু স¦াধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা মেলেনি বিধবা নিরুদা বালার। নির্বাচন আসলে চেয়ারম্যান মেম্বারেরা কয় এবার তোমার বয়স্ক ভাতার কার্ড অথবা বিধবা ভাতার কার্ড সবার আগে করে দিমো, মোক ভোট দেন- আর মুইতো তোমারি ছল, কান্না জড়িত কন্ঠে এভাবেই বল্লেন, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ৭নং দাউদপুর ইউনিয়নের সিরাজ ফকির পাড়া(জালা পাড়া) গ্রামের মৃত কনরাম দাস এর বিধবা স্ত্রী নিরুদা বালা(৭৫)।

নিরুদা বালা আরো বলেন, গোলাগুলির সময় যখন আমার স্বামী মারা যান তখন আমার কাছে ছোট একটি মেয়ে রেখে যান , নিরুদা বলেন, মেয়েকে অনেক কষ্টে লালন পালন করে বড় করে বিয়ে দিয়ে ছিলাম । ইচ্ছে ছিল আমার শেষ কৃত্ত করবে আমার মেয়ে জামাই। কিন্তু ভাগ্যের কি র্নিমম পরিহাস স্বপ্ন আমার স্বপ্নই রয়ে গেল। অল্প বয়সে আমার মেয়ে আমার মতোই হয়ে গেল বিধবা।

নিরুদা বালা আরো বলেন, বাবা-মোর কাছে এমন কোন উপরি টাকা পয়সা নাই যে, মেম্বার চেয়ারম্যানক দিম, মুইত মানষের বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে খাও, তোমরায় কও এক জন বিধবা ভিক্ষুকের কাছে কত টাকা থাকতে পারে।

আর যামার টাকা আছে তামার কার্ড হয়, মোর টাকাও নাই, তাই মোর কপালত সরকারী কোন সাহায্যও মেলে নাই, তাই ভিক্ষা করে মুই আর মোর বিধবা বেটিক নিয়ে কোন রকমে দিন পার করো।এ ব্যাপারে দাউদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল্লাহেল আজিম (সোহাগ) বলেন, আমি জানতামনা তবে, জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যেন আমার সাথে দেখা করে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মশিউর রহমান বলেন, আমরা সব সময়ই ঐ ধরনের অসহায় মানুষ খুজে থাকি, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

নিরুদা বালার মতো শত শত আরো নিরুদা বালা ভিক্ষা করে অসহায় জীবণ যাপন করছে। মাত্র কিছুদিন আগেই নবাবগঞ্জ উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত নবাবগঞ্জ উপজেলা ঘোষনা করা হয়েছিল কিন্তু, ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষনা করার পরদিন থেকেই ……। নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন এনজিও ভিক্ষুকমুক্ত নবাবগঞ্জ গড়ার জন্য ঢাক ঢোল পিটিয়ে সভা সমাবেশ করে হাজার হাজার টাকা খরচ করে শুধু ভাউচার দেখিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন।

পেছনে বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে লুফে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তার পরও ভাগ্য বদলায়নি নিরুদা বালাদের। এরকম আরো শত শত ভিক্ষুক, ভিক্ষুক মুক্তের তালিকায় নাম লেখাতে পারেনি অর্থের অভাবে।

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৩১শে ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/বিকাল ৫:৫৬