১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ২:০৭

গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারন সম্পাদকের যৌথ বিবৃতি গৌরনদীর জনগনই একদিন অসৎ সাংবাদিকদের প্রতিহত করবে

 

বিশ্বজিত সরকার বিপ্লব,গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা : গতকাল শনিবার রাতে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বরিশালের গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আহছান উল্লাহ্ ও সাধারন সম্পাদক এস,এম জুলফিকার জানিয়েছেন, সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গৌরনদী প্রেসক্লাবের সদস্যপদ সাময়িক বাতিল হওয়া সাতজন সাংবাদিক তাদের ব্যাক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে দীর্ঘ ৩৬ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী গৌরনদী প্রেসক্লাব ও গৌরনদীর কয়েকজন সৎ ও নীতিবান সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছেন।

রাত ৮টায় প্রেরিত ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ কাজ করতে গিয়ে তারা গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আজীবন সদস্য বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় কর্মরত দৈনিক ভোরের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার খোন্দকার কাওছার হোসেন, তার ছোটভাই গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সমকাল এর গৌরনদী প্রতিনিধি খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির ও প্রেসক্লাবের বিগত ৩/৪টি কার্যকরী কমিটিসহ সম্মানিত কয়েকজন সদস্যের নামে মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সংবাদ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই খোন্দকার কাওছার হোসেনই একমাত্র ব্যাক্তি, যিনি তার নিজ পরিশ্রমে গৌরনদীর সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটিয়েছেন। গৌরনদীসহ পার্শ্ববর্তি উপজেলা সমুহের সকল সাংবাদিকদের কাছে তিনি শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তিত্ব। গৌরনদী প্রেসক্লাবের সুদক্ষ সংগঠক তিনি। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে ঐতিহ্যবাহী গৌরনদী প্রেসক্লাবটি আজ এক বিশাল মহিরুহে পরিনত হয়েছে। তার রক্ত, শ্রম ও ঘামে এ প্রেসক্লাব আজ অত্র অঞ্চলের নির্যাতিত-নিপিরিত-অসহায়-বঞ্চিত সাধারন মানুষের সর্বশেষ আশ্রয় স্থলে পরিনত হয়েছে। শ্রদ্ধেয় সেই সাংবাদিক নেতাকে জড়িয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সংবাদ মাধ্যমে যারা নানা রকম মিথ্যা, মনগড়া ও বানোয়াট কাহিনী প্রচার ও প্রকাশ করছে। তারা আর যাই হোক সমাজের কাছে কোনদিন ভাল মানুষের স্বীকৃতি পাবেনা।

অত্যান্ত দুঃখের সাথে আমাদের জানাতে হচ্ছে যে, আমাদের অগ্রজ কয়েকজন সাংবাদিকসহ আমাদের সহকর্মী ও নবাগত বেশ কয়েজজন সাংবাদিক নামধারীদের অসৎ সাংবাদিকতা, নীতিহীন কর্মকান্ড ও তাদের উৎপাতে গৌরনদীর সাধারন মানুষ আজ অতিষ্ঠ।
আমরা অত্যান্ত দৃড়তার সাথে বলতে চাই, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে কোন রাজনৈতিক বিভাজন নেই। আছে সৎ আর অসৎ সাংবাদিকতার দ্বন্দ। বরাবরই ঐতিহ্যবাহী গৌরনদী প্রেসক্লাবের অবস্থান ছিল সৎ ও নীতিবান সাংবাদিকতার পক্ষে। এ কারনে প্রেসক্লাবের ভেতরে যে ক’জন ব্যাক্তি অসৎ সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত তাদের সাথে সৎ সাংবাদিকদের বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। এ বিরোধের কারনে অসৎ সাংবাদিকদের কেউ যদি গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি বা সম্পাদক প্রার্থী হন, তখন সৎ সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এবারও ঘটেছে তেমন ঘটনা।

গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন মিয়া ২০১৮ সালের কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী হতে গত ২২-১২-২০১৭ ইং দুপুরে মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেন। তার প্যানেলে সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হন প্রেসক্লাবের সহ সম্পাদক মোঃ বদরুজ্জামান খান সবুজ। অপর সাবেক সভাপতি খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির কোন ক্রমেই এবার প্রেসক্লাবের সভপতি পদে নির্বাচন করতে রাজি হচ্ছিলেন না। কিন্তু গিয়াস উদ্দিন মিয়া প্রার্থী হওয়ায় গৌরনদীর অসৎ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একজোট হওয়া গৌরনদী প্রেসক্লাবের ১৩ জন সদস্য খোন্দকার মনিরের অমতে তার নামে মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেন। পরে তারা খোন্দকার মনিরকে বুঝিয়ে, অনুরোধ করে সভাপতি পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে এক প্রকার বাধ্য করেন। খোন্দকার মনির প্রার্থী হওয়ার পর তার প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন মিয়া বুঝে যান যে, প্রেসক্লাবের মোট ২০ ভোটের মধ্যে তিনি ও তার প্যানেল মাত্র ৭ ভোট পাবেন।

এ কারনে গত ২৬-১২-২০১৭ ইং গিয়াস উদ্দিন মিয়া ও তার প্যানেল তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেয়।এর পরই তারা গৌরনদী প্রেসক্লাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে একটি অবৈধ সভা করে প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। এ কারনে গত ২৭-১২-২০১৭ ইং বুধবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত গৌরনদী প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদের জরুরী সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে প্রেসক্লাব গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৮ (আট), ধারা ০১ (এক) এর ক্ষমতা বলে তাদের গৌরনদী প্রেসক্লাবের সদস্যপদ সাময়িক বাতিল করা হয়।

এরপর কেন তাদের সদস্যপদ চুড়ান্তভাবে বাতিল করা হবে না, ১৫ দিনের মধ্যে তার কারন দর্শানোসহ গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি/সম্পাদক বরাবরে লিখিত ব্যাথ্যা দিতে বলা হয়। অন্যথায় কার্যকরী পরিষদ গঠনতন্ত্রের উল্লেখিত ধারার ক্ষমতাবলে তাদের সদস্যপদ চুড়ান্তভাবে বাতিল করতে বাধ্য হবে তাদেরকে নোটিশ দেয়। এর পর গত ২৮-১২-২০১৭ ইং তারা পাল্টা অবস্থান নিয়ে উপজেলা প্রেসক্লাব নামে একটি আলাদা প্রেসক্লাব গঠন করে ঐতিহ্যবাহী গৌরনদী প্রেসক্লাবের কর্মকর্তা ও সদস্যদের নামে অপ প্রচারে নেমেছে। পাশাপাশি তারা ঐতিহ্যবাহী গৌরনদী প্রেসক্লাবের সদস্যদের রাজনৈতিক মতাদর্শগত বিষয়কে ইস্যু বানিয়ে ফায়দা হাসিলের পায়তারা করছে। এ ব্যাপারে বলে রাখতে চাই গৌরনদীর সচেতন রাজনীতি বিদগন তাদের এ অপতৎপরতা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত। গৌরনদীতে সৎ সাংবাদিকতার ধারা বজায় রাখতে এখানকার সাধারন মানুষই একদিন তাদের এ অপতৎপরতাকে প্রতিহত করবে। আমরা ওনাদের এ অনৈতিক কর্মকান্ডের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৩১শে ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/বিকাল ৫:৪০