২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৫:৫৮

আসাম থেকে ৩০ লাখ ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ বিতাড়ন নিয়ে উত্তেজনা

ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেনশিপ (এনআরসি) এর রিপোর্ট নিয়ে ভারতের অাসাম রাজ্যে তীব্র উত্তেজনার বিরাজ করছে। এই রিপোর্ট অনুসারে অবৈধ বসবাসকারী ৩০ লাখ মানুষের তালিকা প্রকাশ হচ্ছে আজ। ফলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

‘আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা মজবুত করতে সেনাবাহিনীকে ‘স্ট্যান্ড বাই’ করা হয়েছে। বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে অন্তত ৪৫ হাজার নিরাপত্তারক্ষীকে মোতায়েন করা হয়েছে।

এনআরসি রিপোর্ট অনুসারে, ৩০ লাখের বেশি অবৈধ বসবাসকারীদের বেশিরভাগ বাংলাদেশ (পূর্বতন পূর্ব পাকিস্তান) থেকে এসেছিলেন। পুরুষানুক্রমে তারা অাসামে বসবাস করছেন। বিতাড়িত হয়ে এই ৩০ লাখ মানুষ কোথায় আশ্রয় নেবেন তার উল্লেখ নেই ‘এনআরসি’ রিপোর্টে। ফলে বিতর্কের মুখে আসাম সরকার।

১৯৫১ সালে এনআরসি রিপোর্ট প্রথমবার প্রকাশ করা হয়। এই রিপোর্ট অনুসারে পরবর্তী সময়ে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল। দেশভাগের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (পরে বাংলাদেশ) থেকে অাসামে বহু মানুষ চলে এসেছিলেন। এনআরসি রিপোর্ট এমনই অন্তত ৩০ লাখ মানুষকে অবৈধ বসবাসকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। যাদের অনেকেই সংখ্যালঘু মুসলিম।

জানা যাচ্ছে, ‘অবৈধ বসবাসকারী’  চিহ্নিতদের বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে।  অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, অাসাম থেকে বিতাড়িতদের গ্রহণ করার বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।

মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল বলেছেন, এনআরসি রিপোর্টকে কার্যকরী করতে কোনও কসুর করবে না আসাম রাজ্য সরকার।

রাজ্য পুলিশের ডিজি মুকুল সহায় বলেছেন, শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ কড়া ভূমিকা নেবে।

গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। তারপরেই অাসামে অবৈধ বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়।  রাজ্য সরকারে এই অবস্থানে আতঙ্কিত বহু মানুষ। অভিযোগ, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক। এর জেরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনই আশঙ্কা করছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর। জাতীয়স্তরের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে এই রিপোর্ট।

অাসামের কট্টরপন্থী সংগঠনের দাবি, রিপোর্ট অনুসারে অবৈধ রাজ্যবাসীদের অবিলম্বে বিতাড়ন করতে হবে। ‘অসমিয়া’ ছাড়া আর কোনও কিছু বিবেচ্য করা হবে না। অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (আসু) জানিয়েছে, কোনওরকম নরম মনোভাব দেখানো হলেই তীব্র আন্দোলন শুরু হবে।