১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:২৪

পদ্মা আর পায়রা ঘিরে অপার সম্ভাবনা বরিশালে

প্রবীন রাজনীতিবিদ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি গত শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে বেসরকারী মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, আমরা কেউ চাইনি, তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে পায়রা সমুদ্র বন্দর দিয়েছেন। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে দেশের ইতিহাসে সব চেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু হচ্ছে। পদ্মা আর পায়রা নির্মাণ সম্পন্ন হলে দক্ষিণাঞ্চল হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সেরা বাণিজ্য কেন্দ্র।

শিল্পমন্ত্রীর উক্তি যথার্থ উল্লেখ করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র পরিচালক ও বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আলহাজ্ব মো. সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, শিল্পমন্ত্রী দেশের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকেই পায়রা বন্দর এবং পদ্মা সেতু ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে সম্ভাবনা দেখছেন।

 

ব্যবসায়ী নেতা রিন্টু বলেন, পদ্মা সেতু আর পায়রা হয়ে গেলেই বড়-ছোট অনেক শিল্পগ্রুপ বরিশালে তাদের কারখানা-গার্মেন্ট সম্প্রসারণ করবে। বরিশালে ব্যাপক শিল্প গড়ে ওঠার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের শিল্পের কাঁচামাল পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে দ্রুত খালাস করা যাবে। আবার ওই কাঁচামাল দিয়ে পণ্য উৎপাদনের পর সেই পণ্য দ্রুত পায়রা বন্দর দিয়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা সহজ হবে। ভারতের সেভেন সিস্টার এবং ঢাকাসহ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানিকারকরা সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের জন্য চট্টগ্রাম এবং মংলা সমুদ্রবন্দরকে পেছনে ফেলে পায়রা সমুদ্র বন্দরকেই বেঁছে নেবেন। এছাড়া ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে বরিশালে শ্রমমূল্য কম থাকায় শিল্পদ্যোক্তাদের পণ্য উৎপাদন খরচও কম পড়বে। এ কারণে পদ্মা সেতু আর পায়রা বন্দরের কাজ শেষ হলে বরিশালে শিল্প গড়ার প্রতিযোগীতা হবে বলে আশাবাদী নেভিগেশন ব্যবসায়ী রিন্টু।

মন্ত্রীর মতো রিন্টুও স্বপ্ন দেখেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চল হবে ‘সিঙ্গাপুরের মতো’ শিল্প, ব্যবসা-বানিজ্য এবং পর্যটন সমৃদ্ধ একটি উন্নত অঞ্চল। যাতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে লাখ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী।

বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং চেম্বারের পরিচালক এসএম জাকির হোসেন বলেন, সময় সাশ্রয়ের কারণে শিল্পোদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীরা আমদানি-রপ্তানির জন্য পায়রা বন্দরের দিকে ঝুঁকবে। এ কারণে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক শিল্প কলকারখানা, গার্মেন্ট, গোডাউন, শিপইয়ার্ড, শিপব্রেকিং ইয়ার্ড গড়ে উঠবে। এতে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। তখন লাখ লাখ শ্রমিক দরকার হবে দক্ষিণাঞ্চলে। এই শ্রমিক যোগান দেয়ার মতো প্রস্তুতি নেই। তাই এখন থেকেই শ্রমিক যোগান দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমদানি-রপ্তানিকারকদের দৃষ্টি এখন বরিশালে। পায়রা বন্দরের সুবিধা নিতে ইতিমধ্যে বরিশাল থেকে কুয়াকাটা এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে জমি কেনার হিরিক পড়েছে শিল্পদ্যোক্তাদের। বড় বড় শিল্প গ্রুপ বিশাল আয়তনের জমি কেনায় বেড়ে গেছে জমির দামও। ২০২৩ সাল নাগাদ পূর্ণাঙ্গ পায়রা বন্দর চালুর আগেই ব্যাপক শিল্প-কলকারখানা, গার্মেন্ট এবং হাউজিং গড়ে উঠবে এখানে। একটি সমুদ্র বন্দর যে একটি অঞ্চলের চেহারা পাল্টে দিতে পারে, সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে পায়রা সমুদ্র বন্দর চালু হওয়া পর্যন্ত।

পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান কমডোর মো. সাইদুর রহমান বলেন, একটি সমুদ্র বন্দর ঘিরে ওই এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে। পর্যটকরাও সেখানে আকৃষ্ট হয়। সব কিছু মিলিয়ে পায়রা সমুদ্র বন্দর দক্ষিণাঞ্চলের চেহারা পাল্টে দেবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বপ্নের পদ্মা সেতু ৫২ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখনও দিনরাত চলছে নির্মাণ কাজ। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে উদ্ধোধন হওয়ার কথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পাল্টানোর পদ্মা সেতু। এদিকে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের লেবুখালীর পায়রা নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতুরও ১৭ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল স্টেট পদ্ধতির লেবুখালী সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সেতু প্রকল্পের আবাসিক প্রকৌশলী মনোজিৎ কুমার সাহা।

২০২৩ সালে পূর্ণাঙ্গ পায়রা সমুদ্র বন্দরের কাজ শেষ হবে। সে লক্ষে বন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণ হয়েছে। বন্দরে যাওয়ার ফোরলেনের কাজ চলছে। প্রকল্পের অন্যান্য কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। বন্দরের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই এ অঞ্চলে পরিবর্তনের হাওয়া লাগবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।