২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:৪২

কক্সবাজার সৈকতে এবার জনসমাগমের অনুমতি রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত

 

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার : ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহর থার্টি ফার্স্ট নাইটে এবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে জনসমাগম রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বর্ষ বরণ ও বিদায় নিয়ে সৈকতে সন্ধ্যার পর কোন অনুষ্টান না থাকলেও সৈকত এলাকায় রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারবে লোকজন। আর রাত সাড়ে ১২টার মধ্যে সবাইকে সৈকত এলাকা ত্যাগ করতে হবে। তবে তারকা হোটেলগুলোতে নববর্ষ উদযাপনের নানা আয়োজন থাকলেও সেখানে থাকবে পুলিশের কড়া নজরদারী।

বিশাল খোলা প্রান্তর ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ কক্সবাজার সৈকত হয়ে ওঠে সব উৎসবের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। বর্ষ বরণ ও বিদায়ে উচ্ছ্বাসে মতোয়ারা হন স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশি বিদেশী পর্যটক। যে কোনো সার্বজনীন উৎসবে এখানে লাখ লাখ লোকের ভিড় জমে। অন্যান্য উৎসবের মতো গত কয়েক বছর আগেও ইংরেজি বর্ষ বিদায় এবং নববর্ষকে বরণ করার জন্য এখানে চলতো নানা আয়োজন। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার পর থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতেও এক ধরণের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারী করে প্রশাসন। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছেনা।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হোসেন মোঃ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘জনসাধারণকে আমি অনুরোধ করবো আপনারা রাত ১২টা থেকে ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ওখানে থাকতে পারবেন, তারপর আর কাউকে সেখানে (সৈকতে) থাকতে দেয়া হবে না। রাতে যাতে ওইসব এলাকায় কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তাই আমরা এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি।

তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন স্পটসমূহে নিয়মের চেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার সৈকতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলে পর্যটকদের রাতদিন ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা বিধান করছে পুলিশ।রাত ১২টার পর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায় লোক সমাগম বন্ধ রাখা হলেও জমজমাট থাকবে পর্যটন নগরীর তারকা হোটেলগুলোতে। নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার জন্য নানা ধরণের প্রস্তুতিও নিয়েছে তারা।কয়েকটি হোটেল কর্তৃপক্ষ জানান, ‘সরাসরি গানের অনুষ্ঠান থাকবে। এছাড়া, বর্ষবরণকে মাথায় রেখে আমরা রাত ১২ টা ১ মিনিটে আতশবাজির ব্যবস্থা করেছি।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি রনজিত কুমার বড়–য়া জানালেন, শুধু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত নয়। পর্যটন এলাকায় যে সব স্থানে থার্টি ফার্স্ট নাইটের আয়োজন করা হবে, সেখানেও থাকবে পুলিশের সতর্কতা। পর্যটক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ অন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এবার পর্যটন নগরীর অধিকাংশ আবাসিক হোটেলেই থাকবে নববর্ষের আয়োজন। এছাড়া আরো অন্তত শতাধিক ক্লাব কিংবা সংগঠনের পক্ষ থেকেও একই ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

থার্টি ফাস্ট নাইট উপলক্ষ্যে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটক হয়রানী যাতে না হয়, পর্যটক হয়রানি বন্ধে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশনা দেয়ার কথা জানালেন জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন।

তিনি বলেন, অতীতের চেয়েও বেশি পর্যটক সেবার প্রতি বাড়তি নজর দিচ্ছে প্রশাসন। সার্বক্ষণিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পর্যটন এলাকায় টহলে থাকবে বলেও জানান তিনি।

কিউএনবি/সাজু/৩০শে ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/রাত ১১:০৮