২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:৫৭

চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত উখিয়া জালিয়াপালং ইউনিয়নবাসি

 

আহসান উল্লাহ অভি, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : চরম ভাবে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছে কক্সবাজারের উখিয়া জালিয়াপালং ইউনিয়ন বাসি। উপকুলবর্তী এই ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থাকলে সপ্তাহে শুধু মাত্র দুইদিন খোলা রাখা হয়।

এই দু’দিনও সেবার পাননি ও মুখি। রোগীদের জন্য বিনামুল্যে ওষুধ বিতরণের নিয়ম থাকলেও সরকারী ওষুধ বিক্রি করা হয় এখানে। পাশাপাশি বিনামুল্যে বিতরণের জন্য সরকারী ওষুধ গুলো পাশ্ববর্তী ফার্মেসী গুলোতেও প্রকাশ্যে বিক্রি করতে দেখা যায়।

এলাকাবাসি সুত্রে জানা গেছে, এলাকাটি দুর্গম এবং উপকুলীয়। পুরো ইউনিয়নের বাসিন্দাৃজন। এখানে কর্মরত আছেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাঃ অনিল বড়ুয়া ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ মমতাজ মিয়া নামের দুই জন চিকিৎসক।

প্রসুতি, গর্ভবর্তী নারীরা সঠিক পরাম্পর্শ ও চিকিৎসা না পাওয়ায় ওই ইউনিয়নে জন্মর হারের পাশাপাশি শিশুর মৃত্যু হারও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে মনখালী বাসি।জানা গেছে, এসব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে কর্মরত ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, আয়াসহ পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীদের অব্যাহত দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছা চারিতার কারণে দুর্গম এলাকার জনগণ গুরুত্ব পূর্ণ এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা হারাতে বসেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমাসে এসব পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বরাদ্দ করা হয়। অথচ এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়োজিত …দের যোগসাজসে ওষুধ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সিংহভাগ বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। জনসংখ্যা রোধে নাম মাত্র মূল্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী দপ্তরদের মধ্যে বিতরণ করার কথা থাকলেও এখানে তা করা হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, ডিপো প্রতিভারা ইনজেকশন প্রতি গ্রহণ করা হয় ৫০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য সামগ্রীর ক্ষেত্রেও চড়া দাম আদায় করা হয়। স্ব স্ব এলাকাবাসী জানিয়েছে, তারা এসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে নূন্যতম সেবাটুকু পাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এ অবস্থা বিরাজ করছে।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রতে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা বিশেষ করে গর্ভ বতী মা ও শিশুদের জন্য মূল্য বান ওষুধ সামগ্রী দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব ওষুধ রোগীদের নামে ভুয়া এন্ট্রি দেখিয়ে কালো বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

জালিয়াপালং স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে কর্মরত ব্যক্তিরা সরকার প্রদত্ত ওষুধের সিংহভাগ পাশ্বর্তী ফামের্সী কিংবা কালোবাজারে বিক্রি করে থাকে। স্বাস্থ্য সেবার নামে দুর্নীতি বাজ ব্যক্তি অর্থ বাণিজ্যে নেমে পড়েছে। এমনকি ক্লিনিকের রেজিস্ট্রি খাতায় এবং রোগীদের প্রদত্ত ব্যবস্থাপত্রে অন্য ওষুধ বিতরণ করে থাকেন।

অপরদিকে, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গর্ভপাতও ঘটানো হয় সেখানে। কোন কোন ক্ষেত্রে গর্ভবতীদের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে উপায়ন্তর না পেয়ে অবশেষে কক্সবাজার শহরের অভিজ্ঞ ডাক্তারদের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। এমন নর্জিও কম নয়।

বহুমুখি আয়ের উৎস খুলে হাজার টাকা কামিয়ে নিচ্ছে এসব কর্মকর্তা কর্মচারী। ভুক্তভোগী জালিয়াপলং ইউনিয়নবাসী ও সচেতন মহল দুর্নীতির আখড়া এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে কর্মরত লোকদের অন্যত্র বদলীসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন।

কিউএনবি/সাজু/৩০শে ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/রাত ৮:৫৭