ব্রেকিং নিউজ
২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:১৫

জয়পুরহাটের ৭ শতক জমির জন্য ভাইদের মধ্যে প্রানঘাতি

 

মিজানুর রহমান মিন্টু,জয়পুরহাট প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামে বৃদ্ধ বড় ভাইয়ের ৭ শতক জমি কেরে নিতে ছোট ৩ ভাই মামলা, হামলাসহ প্রান নাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ওই গ্রামের মৃত ইয়াসিন সোনারের বড় ছেলে প্রায় ষাট বছর বয়সী বৃদ্ধ মুসা সোনার তার ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে এমন আিভযোগ করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মুসা সোনারের স্ত্রী শাহেনা বেগম, প্রতিবেশী সামছুল হুদা, গোলাম মোস্তফা, পাশর্^বর্তী ক্ষেতলাল উপজেলার মাটিহাঁস গ্রামের তাহেরা এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিগন।

বৃদ্ধ মুসা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, তার ২ সন্তান বর্তমানে দুবাই ও মালেশিয়ার প্রবাসী। এ অবস্থায় তিনি স্ত্রী, এক পুত্র বধূ ও এক নাতীকে নিয়ে ২০০৮ সালে রেজিষ্ট্রিকৃত বন্টন নামা সূত্রে প্রাপ্ত ১৫ শতক জমির উপরে নির্মিত বসত বাড়িতে বসবাস করে আসছেন।

এমতাবস্থায় সম্প্রতি মুসার ছোট ৩ ভাই মামুনুর রশিদ, আলী রায়হান ও মাহমুদুন্নবী হিরো উক্ত ১৫ শতক জমি থেকে জোর করে ৭ শতক জমি কেরে নিয়ে তাকে বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারী বাড়িতে হামলা করে এবং বৃদ্ধ স্ত্রী ও তাকে বেদম মারপিট করে।

এ ব্যাপারে থানা মামলা না নিলে জয়পুরহাট চীফ জডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হামলাকারী ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মুসা সোনার।

এতে উত্তেজিত ওই ৩ ভাই বড় ভাই বৃদ্ধ মুসার বিরুদ্ধে পরপর চাঁদাবাজী, চুরিসহ ৬টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। “এতে আক্কেলপুর থানা পুলিশ আমার ভাইদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ঘটনাস্থল গোপীনাথপুর গ্রামে না গিয়ে গোপনে দায়সারা মিথ্যা রিপোর্ট তৈরী করে আমাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দিলে গত ১৯ ডিসেম্বর জামিনে মুক্ত হই। জেলে থাকাবস্থায় ৩ ছোট ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে লুটতরাজ করলেও তিনি কোন বিচার পাননি। 

বৃদ্ধ মুসা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, “ওই ৩ ছোট ভাইকে কোলে-পিটে করে বড় করেছি, তারাই কিনা বহিরাগত সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালীদের মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে আমাকে আমার বসত বাড়ি তাড়িয়ে দিয়ে চায়। আমার স্ত্রী, পুত্র বধু ও এক মাত্র নাতীসহ আমাকে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।” এমতাবস্থায় তিনি স্ত্রী, পুত্র বধু ও নাবালক নাতীকে নিয়ে প্রান ভয়ে কালাতিপাত করছেন বলে নিরুপায় হয়ে গন্যমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছেন বলেও জানান বৃদ্ধ মুসা সোনার।

এ ব্যাপারে মুসা সোনারের অভিযুক্ত ৩ ভাইয়ের পক্ষে আলী রায়হান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তাদেরই বরং হয়রানী করা হচ্ছে। আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, কোন ব্যাক্তি বা পক্ষ মামলা দিলে পুলিশ আইনানুগ ভাবেই ব্যাবস্থা গ্রহন করবে, এটাই স্বাভাবিক।

 

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/২৯শে ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/রাত ১১:৩৩