১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:১১

বগুড়ায় তাবলীগ জামাতের ইজতেমা শুরু কাল

 

এম নজরুল ইসলাম, বগুড়া : বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে ৩ দিনব্যাপী বগুড়ায় তাবলীগ জামাতের ইজতেমা শুরু হচ্ছে। শহরতলীর বিশ্বরোড় সংলগ্ন ঝোপগাড়িতে প্রায় ২০ একক জমিতে এ ইজতেমা শুরু হবে। ইজতেমা ময়দানে তাঁবুসহ সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে। যে জায়গায় তাবু স্থাপন করা হয়েছে তাতে ৪ থেকে ৫ লাখ মুসল্লি অবস্থান করতে পারবে। বৃহস্পতিবার ফজর নামাজ থেকে এ ইজতেমা শুরু হবে এবং আগামী শনিবার বিশ্ব শান্তি এবং দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে বগুড়া দ্বিতীয় বৃহত্তম ইজতেমা শেষ হবে।

ইজতেমায় নবী রসুলের তরিকা ও আল্লাহর ইবাদত বন্দেগীসহ ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ শেষে দেশ-বিদেশের ওলামায়ে কেরামগণ বয়ান রাখবেন। ইজতেমা ময়দানকে নিরাপদ রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।জানা যায়, তাবলীগ অর্থ হলো প্রচার বা প্রসার আর জামাত মানে একত্রিত হওয়া।

আল্লাহ তাআলার দ্বীন ও রাসূলের সুন্নাত দুনিয়াতে যাতে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সকল মুসলমান যাতে আল্লাহআলা হয়ে যায় সেই লক্ষে বাংলাদেশে ঢাকার টঙ্গীতে তুরাগ নদীর তীরে প্রত্যেক বছর তাবলীগ জামাতের এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। যা জনসাধারণের কাছে বিশ্ব ইজতেমা নামে পরিচিত।

জায়গার সংকুলান না হওয়ার কারণে জামাতের আমির বা মুরুব্বিদের পরামর্শক্রমে এই ইজতেমাকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে প্রথমবর্ষে ৩২টি জেলা ঢাকার টঙ্গীর ইজতেমাতে এবং বাকি ৩২টি জেলা নিজ জেলার ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবে।

পরবর্তী বছরের অবশিষ্ট ৩২টি গাজীপুর জেলা টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে অংশগ্রহণ করবে। তবে, মুরুব্বিদের পরামর্শ সাপেক্ষে কিছু ব্যক্তি দুই স্থানেই অংশগ্রহণ করতে পারবেন। ৩২টি জেলার মধ্যে আবার দু’ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্বে ১৬টি জেলা ও দ্বিতীয় পর্বে ১৬টি জেলা ঢাকার ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ফজর নামাজ পর আম বয়ানের মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো বগুড়ায় শুরু হবে ইজতেমা। ইজতেমা ময়দানের তাঁবু টাঙ্গানোসহ সকল কাজ শেষ হয়ে গেছে।

ইজতেমা ময়দানে কাজ করছেন এমন কয়েকজন জানান, ইজতেমাকে সফল করার জন্য মহল্লায় ৭ থেকে ১০ দিনের ঠিয়ার জামাত মেহনত করছে। যাতে করে বেশি লোক আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে নিজের ঈমান ও আমল শিক্ষা নিতে পারেন। নিজের ভুল সংশোধন করতে পারেন। এবার টার্গেট দিয়েছে প্রায় ২শ জামাত আল্লাহ রাস্তায় বের করার।

তাবলীগ জামায়াতের ভাষায় সম্পূর্ণ ময়দানকে মোটামুটি ৩৪/৩৬টি ক্ষেত্তায় ভাগ করা হয়েছে। শহরের ২৩টি হালকা রয়েছে। এছাড়াও থানা ওয়ারী জামাত, পয়েন্টের জামাত, তাসকিলি জামাতসহ সর্বমোট ৩৬টি ক্ষেত্তা হতে পারে। ৩ দিনব্যাপী এই ইজতেমা ময়দানে মুসল্লি তথা সাথীদের সুবিধার্থে প্রায় ১ হাজার স্যানেটারী টয়লেট ও ৬০০টি স্বাস্থ্য সম্মত প্রসাবখানার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি ইজতেমাকে সফল করার জন্য পৃথক পৃথক অজুখানা, গোসলখানা, রান্নার জায়গা, ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, ওষুধ, এ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা থাকবে। আগামী শনিবার আখেরী মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে বগুড়া জেলার ইজতেমা।

তবে, মুরুব্বিদের পরামর্শ সাপেক্ষে মোনাজাত আগে বা পরে হতে পারে।
এপ্রসঙ্গে বগুড়া পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. আসাদুজ্জামান বিপিএম জানান, ইজতেমা ময়দানে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ও সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।

কিউএনবি/সাজু/২৭শে ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/বিকাল ৫:০৫