১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:৪৩

বৈষম্যে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধারা

 

ডেস্ক নিউজ : বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দুই বছর আগে মিলেছে স্বীকৃতি। কিন্তু পুরুষ মুক্তিযোদ্ধারা যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, এই নারী মুক্তিযোদ্ধারা তা পাচ্ছেন না।যা নামান্তরে লিঙ্গবৈষম্য। এ অভিযোগ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩ বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা।

সম্প্রতি বীরাঙ্গনা আরবী বেগম, আয়েশা বেগম, লিলি বেগম ও হাজেরা বেগম জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা সনদ পাননি। এ কারণে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বঞ্চিত থাকছেন চাকরিসহ সরকারি অন্য সব সুবিধা থেকে।

বীরাঙ্গনার সন্তান নাসিম, কেতাউর ও মফিজুল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব বরাবর বোয়ালিয়া ইউনিয়নের আট বীরাঙ্গনা সনদের জন্য আবেদন করেন। এক বছর ধরে আমরা ঘুরে ঘুরে হয়রান। দফায় দফায় যোগাযোগ ও যাতায়াতসহ নানা খরচ হচ্ছে, যা আমাদের সংকুলান করা সম্ভব হচ্ছে না। সনদ না থাকায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও চাকরির আবেদন করতে পারছি না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা অর্জনে এসব বীরাঙ্গনারও রয়েছে অনন্য অবদান। অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের মতো এঁরাও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাই তাঁদের সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জোর দাবি জানাই। ’

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে এ বি উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের ক্যাম্পের সদস্যরা একাত্তরের ২২ নভেম্বরসহ কয়েক দিনে বোয়ালিয়ার ১১ নারীর সম্ভ্রম কেড়ে নেয়। ১৭ মুক্তিযোদ্ধা ও ১৮ জন নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর (২০১৫ সালে) প্রথম প্রকাশ করা হয় ৪১ নারী বীরাঙ্গনার গেজেট। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হলেন ১১ জন।

আট ধাপে প্রকাশিত গেজেটে ১০৭ জনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আরো দুই নারী তালিকাভুক্ত হন। এর মধ্যে গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের রাবিয়া বেগম, রেনু বেগম, রাহেলা বেগম, চাম্পা খাতুন, রহিমা বেগম, হাজেরা বেগম, আরবী বেগম, হাসিনা বেগম, জলো বেগম, সফেদা বেগম ও আয়েশা বেগম রয়েছেন।

এ ছাড়া সদরের লিলি বেগম ও শিবগঞ্জের মালেকা বেগম রয়েছেন। এর মধ্যে হাসিনা বেগম মারা গেছেন। ইতিমধ্যে ৯ জন গোমস্তাপুর উপজেলার সোলগাড়ি বিলে ১৬ শতাংশ করে জমি বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে তা জলমগ্ন হওয়ায় বাড়ি তৈরি করতে পারেননি।

কিউএনবি/সাজু/১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/সকাল ১০:০৫