১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:২৫

নেপথ্যে গ্রুপ-উপগ্রুপের দ্বন্দ্ব

 

ডেস্ক নিউজ : কী কারণে জোড়া খুন। নেপথ্যের ঘটনা কী। গেল ৭ই ডিসেম্বর রাত থেকে চলছে এমন চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে পরিবার, স্বজন, বন্ধু, সহপাঠী ও পুলিশ সবার তথ্য-উপাত্ত ঠেকেছে এক জায়গায়। সবাই নিশ্চিত এ ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। নিজ দলে একই গ্রুপে নিজের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার আগে থেকেই নিহত ছাত্রলীগ নেতা শাবাব ও তার অনুসারী মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী মাহির সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয় তুষার গ্রুপের। আনিসুল ইসলাম তুষার ও মোহাম্মদ আলী শাবাব জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ও ছাত্রলীগ নেতা। তারা দু’জন ভালো বন্ধু হলেও দলের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে গিয়েই একে অপরের শত্রুতে পরিণত হন। দলের মধ্যে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে একই গ্রুপে তারা নিজেদের মধ্যে করেন উপগ্রুপ।

এই উপগ্রুপের একটির প্রধান ছিলেন তুষার। আর অপরটির ছিলেন শাবাব। সম্প্রতি সিনিয়রদের পরামর্শে দলের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করতে তারা ছিলেন সক্রিয়। এরই প্রেক্ষিতে তারা দু’জনই মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি কলেজে দলের কর্মী ও সমর্থক বৃদ্ধির কাজ চালাচ্ছিলেন। নিজ দলে কর্মী বৃদ্ধিতে চৌকস ছিল শাবাব। সে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হওয়ায় ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা তার প্রতি আকৃষ্ট ছিল। তাদের সুখ-দুঃখ, সমস্যা-সম্ভাবনার সবকিছুই তার কাছেই শেয়ার করতো। সেও তাদের আন্তরিকভাবে সময় দিত ও নানাভাবে সহযোগিতাও করতো।

এতে করে ওই স্কুলে তার সমর্থক ও দলের কর্মী দিন দিন বাড়তে থাকে। এ কারণেই গ্রুপে শাবাবের সমর্থক বাড়লেও কমতে থাকে তুষারের সমর্থক। ওই স্কুলে তুষারের অনুসারী থাকলেও তা শাবাবের অনুসারীদের চাইতে অনেক কমছিল। তা মেনে নিতে পারেনি তুষার। যে ভাবে হোক ওই স্কুলে তার অনুসারী বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠে। আর এতেই টার্গেট করা হয় শাবাবের সক্রিয় অনুসারীদের। আর এরই প্রেক্ষিতে শুরু হতে থাকে তুচ্ছ ঘটনায় কথাকাটাকাটি, ঝগড়া, হাতাহাতি ও মারামারি। প্রায় বছর খানেক থেকে এ দ্বন্দ্ব ছিল চলমান। যার চূড়ান্ত রূপ পায় গত ৭ই ডিসেম্বর।

জোড়া খুনের ঘটনার মধ্য দিয়ে। থেমে যায় গ্রুপ ও উপগ্রুপের কার্যক্রম। মামলার এজাহারে গ্রুপিং দ্বন্দ্বের বিষয়টিও উল্লেখিত। ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী শাবাব ও কর্মী নাহিদ আহমদ মাহি খুনের ঘটনায় মামলার এজাহারে বলা হয়। শাবাবের সঙ্গে তুষার গ্রুপের বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা একে অপরের বন্ধু। ১০ই ডিসেম্বর নিহত শাবাবের মা সেলিনা রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় তুষার গ্রুপের প্রধান আনিসুল ইসলাম তুষারসহ ওই গ্রুপের আরো ১১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

কিউএনবি/সাজু/১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/সকাল ৯:১৫