২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:০৯

নীলফামারীতে পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

 

মোঃ আইয়ুব আলী, নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীতে বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালীর মধ্য দিয়ে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের ১৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সেনাদের পরাজিত করে মুক্তিযোদ্ধারা নীলফামারীকে পাক হানাদার মুক্ত করে। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দিনব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়। সকাল ১০টায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স চত্ত্বর থেকে জাতীয় পতাকা ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সহ বিজয় র‌্যালী বের করা হয়।

বিজয় র‌্যালীতে জেলার ছয় উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্য সহ স্বাধীনতা স্বপক্ষের শতশত মানুষজন অংশ গস্খহণ করেন। পুলিশ বাহিনীর বাদ্যযন্ত্র ও আতশবাজির তালে তালে বিজয় র‌্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে পুনরায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কম্পলেক্স ভবনের সম্মেলন কক্ষে আলোচনায় সভায় মিলিত হয়। কর্মসুচির মধ্যে ছিল আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধের গান ও নাটকসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী র্কমকর্তা ও উপজেলা কমান্ড মামুন ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা কমান্ড খালেদ রহীম, বিষেশ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জাকীর হোসেন খান, সাবেক সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সহিদুল ইসলাম, জেলা পরিসদ চেয়ারম্যান ও বীরমুক্তিযোদ্ধ জয়নাল আবেদীন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুজার রহমান, পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহম্মেদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের জেলা আহবায়ক হাফিজুর রশিদ মঞ্জু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসফিকুর ইসলাম রিন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বুলবুল প্রমুখ।

উল্লেখ যে, জেলার ৬ থানা নিয়ে নীলফামারী ছিল একটি মহকুমা শহর। ১৯৭১ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সৈয়দপুর ক্যান্টনম্যান থেকে খান সেনারা তৎকালিন নীলফামারী মহকুমা শহরটি দখল করে নিয়েছিল।

পরে মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের মুজিব ক্যাম্পে প্রশিক্ষন নেওয়ার পর ৬ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার খাদেমুল বাশারের নেতৃত্বে পাকসেনাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে গেরিলা আক্রমনের মাধ্যমে পরাস্ত করতে শুরু করে। এরপর শুরু হয় বিভিন্ন স্থানে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ। চারদিক থেকে আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাক বাহিনী।

নীলফামারী জেলা শহরকে মুক্ত করতে ১২ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা নীলফামারী শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে খানসেনারা পিছু হটে সৈয়দপুর ক্যান্টনম্যান্টে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর নীলফামারী শহর হানাদার মুক্ত হয়। এই দিনে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হলে বিজয়ের উল্লাসে (ফেটে পড়ে) মেতে উঠে মুক্তিকামী সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। ‘জয় বাংলা শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠে তৎকালীন নীলফামারী মহকুমা শহর।

কিউএনবি/সাজু/১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/বিকাল ৩:৪৭