২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:০৫

আজ নীলফামারী হানাদারমুক্ত দিবস

 

মোঃ আইয়ুব আলী, নীলফামারী প্রতিনিধি : আজ ১৩ ডিসেম্বর বুধবার নীলফামারী পাক হানাদার-মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা নীলফামারীকে হানাদার মুক্ত করে উত্তোলন করেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

১৯৭১ সালে ৬ থানা নিয়ে নীলফামারী ছিল একটি মহকুমা শহর। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নীলফামারীর অগণিত ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম শুরু করে। পরবর্তী পর্যায়ে ভারতে সস্বস্ত্রট্রেনিং নেওয়ার পর ৬নং সেক্টরের অধীন মুক্তিযোদ্ধারা পাক সেনাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে গেরিলা আক্রমনের মাধ্যমে পরাস্ত করতে শুরু করে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের কমান্ডার ফজলুল হক বলেন, নীলফামারী ৬নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিল খাদেমুল বাশার। যুদ্ধ ক্ষেত্রে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আহত ও শহীদ হন। চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে ১২ ডিসেম্বর রাতে পাক-হানাদার বাহিনী নীলফামারী শহর ছেড়ে আশ্রয় নেয় সৈয়দপুর সেনানিবাসে। ১৩ ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করলে রাস্তায় নেমে আসে সাধারণ মানুষ। এসময় স্থানীয় চৌরঙ্গী মোড়ে উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

পাক হানাদার বাহিনী সারা দেশের মতো নীলফামারীতেও স্বাধীনচেতা মানুষের উপর পরহত্যাযজ্ঞসহ নির্যাতনের লক্ষ্যে নীলফামারী কলেজ, কলেজ ছাত্রাবাস ও ভোকেশনাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে গড়ে তোলে সেনা ক্যাম্পসহ টর্চালশেল। আর এসব ক্যাম্পে মহকুমার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষকে ধরে এনে চালানো হতো নির্মম নির্যাতন। নারীদের করা হতো ধর্ষণ।

চালাতো নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ। টানা ৯ মাসের যুদ্ধে ক্যাপ্টেনবাশার, আলী হোসেন, আহমেদুল হক প্রধান, আনজারুল হক ধীরাজ, জাহেরুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, মিজানুর রহমান, সামসুল কিবরিয়া, আব্দুস সাত্তার ও মির্জা হাবিবুর রহমান বেগসহ ১৭জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযোদ্ধাদের চোরা গোপ্তা হামলার সম্মুখে যুদ্ধে অনেক পাকসেনাও নিহত হয়।

দিবস উদযাপণ উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদর উপজেলা কমান্ড এবং সদর উপজেলা পরিষদ বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালী ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালী, আলোচনা সভা, শিশু প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

 

 

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/দুপুর ১:৩৩