১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:৩৭

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি আওয়ামীলীগ এর একাধিক প্রার্থীর বিপরীতে জামায়াতের একক প্রার্থী

আলি হায়দার :  আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত গনিয়ে আসছে ততই এমপি প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে,সংসদীয় আসন ৪৪-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২

(ভোলাহাট,গোমস্তাপুর,নাচোল) নির্বাচনে সম্ভব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

বড় দুই দল বিএনপি আওয়ামীলীগ এর একাধিক প্রার্থীদের বিপরীতে চমক দেখিয়েছে জামায়াত ইসলামী। বিএমপি আওয়ামীলীগ একাধিক প্রার্থী দেখা গেলো জামায়াত একক প্রার্থী মনোনীত করেছেন।

আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন:
আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে হলেন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আ’লীগ, বর্তমান এমপি গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস তিনি দশম সংসদ অর্থাৎ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৯৩ হাজার ৫০৮ পেয়ে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী খুরশেদ আলম বাচ্চু আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৭ হাজার ৮৯৩ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আ’লীগ, সাবেক এমপি জিয়াউর রহমান, তিনি ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব আমিনুল ইসলামকে পরাজিত করেন৷

নাচোল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের এলাকায় নিজের পক্ষে দলে একটি বলয় তৈরি করেছেন। এবার তিনি নিজে প্রার্থী হওয়ার জন্য ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন। নাচোলের বাইরে গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলায়ও গণসংযোগ করছেন।

যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার গত জাতীয় নির্বাচনের মতো এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশায় তৎপরতা চালাচ্ছেন। তিন উপজেলায় মানুষের সঙ্গে গণসংগোগ করছেন এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সংবলিত প্রচুর প্রচারপত্র বিতরণ করেছেন।

মহান্ত মহারাজ ক্ষিতিস চন্দ্র আচারী ও আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ নির্বাচন করতে চান। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি তিনি জানান দিয়েছেন ‘শুভেচ্ছা’ সংবলিত বিলবোর্ড দিয়ে। ৩ উপজেলার ইউনিয়ন এলাকায়ও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে শুভেচ্ছা বিলবোর্ড৷

বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন: বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাাদক অালহাজ্ব অামিনুল ইসলাম, তিনি ২০০৮ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন ৷

গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাইরুল ইসলাম আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়টি জানান দিয়েছেন তিন উপজেলায়ই ব্যাপক পরিমাণ বিলবোর্ড লাগিয়ে। পাশাপাশি তিনি বেশ জোরেশোরেই শুরু করেছেন গণসংযোগ।

জামায়াত ইসলামীঃ অন্য দলগুলোর একাধিক প্রার্থীর বিপরীতে জামায়াত ইসলামী একক প্রার্থী মনোনীত করে, জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের এ্যাসিস্টেন সেক্রেটারী  অধ্যাপক ইয়াহইয়া খালেদ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে-২ আসনে ভোটের হিসাবে জামায়াত অপেক্ষাকৃত ‘দুর্বল’ থাকলেও বর্তমানে জামায়েতের রয়েছে ভোট ব্যাঙ্ক। ’৮৬ সালের নির্বাচনে অধ্যাপক ইয়াহইয়া খালেদের বড় ভাই জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা নাচোলের প্রয়াত মীম ওবায়দুল্লাহ সংসদ সদস্য হন।

সকল দলের প্রার্থীদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট,গোমস্তাপুর, নাচোল) আসনের ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জামায়াত যদি এ আসনে একক নির্বাচন করে তাহলে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জামায়াতের ত্রিমুখী লড়াই হবে। ত্রিমুখী লড়াই আওয়ামীলীগ বিএনপি প্রার্থীদের থেকে জামায়াত প্রার্থী বিজয়ের সম্ভবনা বেশী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় জামায়াত প্রার্থী অন্য সকল প্রার্থীদের থেকে জনগনের কাছে বেশী জনপ্রিয় ও ক্লিন ইমজের৷ চলতি বছরে মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার ভারত থেকে ধসে আসা বন্যায় পানিতে প্লাবিত হয় অধ্যাপক ইয়াহিয়া খালেদ নতুন মুখ হিসাবে ২ উপজেলার বন্যার্থ মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রীহ বিতারন করেছিলেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ঘড়-বাড়ি পুর্ণনিমানের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করছেন এতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।

ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, নাচোল উপজেলার জামায়াতের অবস্থান ভাল। ৩ উপজেলায় জামায়াত মনোনীত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। তাছাড়া আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নিজ দলের মধ্যে একাদিক গ্রুপিং এর বিপরীত জামায়াত একক প্রার্থী এই আসনের সাধারণ ভোটারদের আকর্ষিত করেছে তাই বলা যায় এই আসনে জামায়াত যদি একক নির্বাচন করে, তাহলে জামায়াতের বাজিমাত করার সম্ভবনা রয়েছে।

কিউএনবি/রেশমা/১১ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/রাত ১১:৫১