২৫শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং | ১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:২২
Home / অর্থপাতা / রাজধানীর সড়কে কাঁচাবাজার

রাজধানীর সড়কে কাঁচাবাজার

 

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে ফুটপাত ও মূল সড়ক দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য কাঁচাবাজার। কোথাও কোথাও আধা কিলোমিটারব্যাপী ফুটপাত ও সড়ক দখল করেই মাছ, সবজি ও ফলমুল বিক্রি করছেন দোকানিরা। ভোর থেকে বেলা ১১/১২টা এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।

এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা নেয় স্থানীয় প্রভাবশালীদের একটি মহল। এতে যান চলাচলে যেমন বিঘ্নতা সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি পথচারী চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে নানা সমস্যা। অথচ বিষয়টি নজর এড়িয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

এসব কর্মকাণ্ড সিটি করপোরেশন জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ। তারা বলছেন, সকালে উচ্ছেদ করলে বিকেলে আবার দখল হয়ে যায়। পুলিশকে চিঠি দিয়েও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। ফলে ফুটপাত ও সড়কের এ অস্থায়ী দখলদারিত্ব থেকেই যাচ্ছে। পথচারী ও যান চলাচলের বাধা আর দূর হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৭টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪১টি কাঁচাবাজার রয়েছে। এর বাইরে অসংখ্য বেসরকারি বাজার রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বাজার ডিসিসির অনুমোদন নিয়ে তাদের ব্যবসার কার্যক্রম চালালেও অধিকাংশই অবৈধভাবে ব্যবসা চালাচ্ছেন। নগরীর বিভিন্ন স্থানের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের মদদে এসব বাজার গড়ে উঠেছে। এসব বাজার থেকে প্রভাবশালীরা প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকার চাঁদা আদায় করছেন। অন্যদিকে রাস্তার ওপর এসব বাজার গড়ে ওঠায় নগরবাসীর দুর্ভোগ, যানজট ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, মিরপুর মাজার রোডের অবস্থা ভয়াবহ। এ রাস্তার ওপর প্রতিদিনই বসছে বাজার। ভোর থেকে সকাল ৮-৯টা পর্যন্ত রাস্তার এক কিলোমিটারজুড়ে চলে তরিতরকারি, মাছ, মাংস, সবজির পাইকারি বাজার। দূর-দূরান্ত থেকে আসেন ব্যবসায়ীরা। শত শত ব্যবসায়ী ও ক্রেতার ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে বাজার। অতি ভোরে বিশাল এ রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় বিভিন্ন মৌসুমি সবজিপণ্যে। তবে সকালের দিকে আশপাশের রাস্তায় যানজট লেগে থাকে। কারণ ওই সময়ও পাইকার ও ক্রেতাদের ভিড়ে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

সবজি ব্যবসায়ী রহিম জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতেই তারা প্রশাসনের সহায়তায় বাজার বসিয়েছেন। কেরানীগঞ্জ, সাভার, দোহার, নবাবগঞ্জ থেকে অনেকেই বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে এ বাজারে আসেন।

বাজারের এক পাইকার বলেন, স্থানীয় কিছু প্রশাসন এখান থেকে প্রতি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দৈনিক ২০০ টাকা করে নিচ্ছে। এ ছাড়া কিছু প্রভাবশালীকেও টাকা দিতে হচ্ছে। এসব চাঁদা দিতে গিয়ে তাদের ব্যবসার তেমন কিছু থাকে না বলেও তিনি জানান। এ ছাড়া মিরপুর ১ নম্বরের হেমায়েত উদ্দিন বীরবীক্রম সড়কের (চিড়িয়াখানা রোড) ঈদগাহ মাঠের মোড়ের পশ্চিম পাশে ফুটপাত বেদখল করে বসেছে ভ্রাম্যমাণ কাঁচাবাজার। ঈদগাহ মাঠের মোড়ের পশ্চিম পাশের ফুটপাত বেদখল করে সড়কের ওপরে বসেছে কাঁচাবাজার।

এখানে আছে চায়ের দোকান, শাকসবজি, মাছ, মাংস, ব্রয়লার মুরগির দোকান। সড়কটির পূর্বপাশে গাড়ির পার্টস, লেদ, মোটরসাইকেলের পার্টস ও রডের দোকান রয়েছে। এসব দোকানের জিনিসপত্র ফুটপাতের ওপর রেখে কাজ করতে দেখা যায়। ফুটপাত বেদখল করেই চলছে তাদের ব্যবসা। সড়কটির পশ্চিম পাশের অংশটি ৮নং ওয়ার্ডের আর পূর্বপাশের অংশটি ৭নং ওয়ার্ডের।

একই অবস্থা মিরপুর ১ নম্বরের কাছে আনসার ক্যাম্প বাসস্ট্যান্ড এলাকা। এখানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে এ বাজার। তবে ফুটপাতের দোকানগুলো সারা দিনই থাকে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা বাজারের পরিসর। টোলারবাগ আবাসিক এলাকার ২ নম্বর গেট থেকে শুরু হওয়া বাজার আনসার ক্যাম্প বাসস্ট্যান্ড ছাড়িয়ে গেছে। আর মিরপুর মাজার রোডেই কাঠ-বাঁশের জমজমাট ব্যবসা চলছে। বাঁশ, কাঠ, ইট, বালুর ব্যবসা গড়ে তোলা হয়েছে রাস্তার ওপর। ভুক্তভোগীরা জানান, এখান থেকেও স্থানীয় কিছু প্রশাসন ও সরকারি দলের কিছু নেতাকর্মীও বাজারগুলো থেকে চাঁদা আদায় করছেন।

এদিকে একই অবস্থা দেখা গেছে, মানিকনগর, যাত্রাবাড়ী, নয়াবাজার, মালিবাগ, হাতিরপুল, গোড়ান, রামপুরা, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে। জুরাইন ও খিলগাঁও এলাকায় রেললাইনের ওপর বসে খোলাবাজার। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এসব বাজারের ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, এগুলোর সবই অবৈধ। তিনি আরো বলেন, এগুলো সাধারণত সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও টাউট-বাটপার ধরনের লোকদের জন্য হচ্ছে। তারা নানা রকম প্রভাব খাটিয়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন।

এ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। সকালে উচ্ছেদ করলে বিকেলে আবার বসে যায়। সড়কে যেন কোনো দোকানি না বসতে পারেন, সেজন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর কোনো উপকার দেখছি না।’

 

 

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১১ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/সকাল ১০:২৪