২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:৫৮

আজ ১১ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ মুক্ত দিবস

 

শেখ মো. রতন,মুন্সীগঞ্জ : আজ ১১ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস। এ দিবসকে ঘিরে জেলায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পাক হানাদার বাহিনীর সর্তক দৃষ্টি ছিল মুন্সীগঞ্জের দিকে। ওদের কাছে মুন্সীগঞ্জের গুরত্ব ছিল ২’টি কারনে। প্রথমত- মুন্সীগঞ্জ ঢাকা থেকে মাত্র সতেরো মাইল দুরে।

দ্বিতীয়ত- মাঝ পথে ধলেশ্বরী নদী ওদের নিরাপদ চলাচলের জন্য জরুরী। এছাড়া কুখ্যাত দালাল পাকিস্তান নেজামে ইসলামের সহ সভাপতি মৌলানা আল মাদানীর পলায়নরত অবস্থায় মুন্সীগঞ্জের মানুষের হাতে নিহত হওয়ায় ঘটনা পাক হানাদারদের আগে থেকেই ক্ষিপ্ত করে তুলেছিল।

তাই ওরা মুন্সীগঞ্জে হানা দেয়ার শুরুতেই ব্যাপক হত্যা ও অগ্নিসংযোগ ঘটাতে থাকে। এদিকে ২৫ মার্চ কালো রাতে ইয়াহিয়া খানের র্ববর বাহিনীর আক্রমনের খবর পাওয়ার পরক্ষনেই প্রতিরোধ সংগ্রামে নেমে পড়ে মুক্তিপাগল মুন্সীগঞ্জবাসী।

হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ জি এম মান্নানের নেতৃত্বে মুন্সীগঞ্জ স্টেডিয়াম থেকে মুক্তিপাগল ছাত্র-জনতা বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করে ৪ এপ্রিল।একই দিন ছাত্র-জনতা ও মুক্তিকামি মানুষ মুন্সীগঞ্জ অস্ত্রাগার লুট করে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে নেমে পড়ে।

২০ এপ্রিল পাকবাহিনীর সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের মুক্তিপাগল জনতার যুদ্ধ হয়। এরপর অনেক প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে ৯ মে পাকবাহিনী মুন্সীগঞ্জে ঢুকে পড়ে।তারা গজারিয়া উপজেলায় হানা দিয়ে ফুলদী নদীর তীরে ৩৬০ জেলে ও কৃষককে ব্রাশফায়ার করে হত্যার মধ্য দিয়ে নদী-পথে মুন্সীগঞ্জে প্রবেশ করে।

এরপর তারা জেলার বিভিন্ন স্থানে হত্যা-ধর্ষন ও অগ্নিসংযোগ অব্যাহত রাখে।মুন্সীগঞ্জের বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নে নেতা আলী ইমামের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ প্রথমে শরিয়তপুরের শিবপুরে মান্নান ভূইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে সশস্ত্র বাহিনী করার উদ্যোগ নেন।

পরে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝির দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের গোয়ালিমান্দ্রার পশ্চিমে নদীর তীরে পাক গানবোটের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ হয়েছিল, যে যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর তিনজন মারা যায় এবং পাক-বাহিনী তিনজনকে মৃত অবস্থায় ফেলে রেখেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

নভেম্বরের প্রথম দিকে সরকারি মুক্তিবাহিনীর পক্ষ হয়ে ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটা সশস্ত্র দল আগরতলা থেকে বাংলাদেশে এসে প্রথমে মুন্সীগঞ্জে অবস্থান করেন। পরে আবার মুন্সীগঞ্জে ফিরে আসেন।

পরে ১ ডিসেম্বর তাদের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধারা সিরাজদিখান থানায় পাক হানাদার বাহিনীর উপর আক্রমণ করে সিরাজদিখান থানা দখল মুক্ত করেণ। ১৪ নভেম্বর পাকবাহিনীদের উপর মুক্তিযুদ্ধারা মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় আক্রমন চালিয়ে পাক-বাহিনীদের পরাস্ত করে বিতারিত করেণ।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে পাক সেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের একাধিক যুদ্ধ হয়।পরে ৪ ডিসেম্বর যুদ্ধ হয় শহর সংলগ্ন রতনরপুর এলাকায়।এ যুদ্ধে বিভিন্ন এলাকা থেকে সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধা পাক সেনাদের ৩টি বড় দলের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। পাক সেনারা ধলেশ্বরী নদীতে থাকা গানবোট থেকে মর্টার সেলিং করছিল। পরে সর্বশেষ মুখোমুখি যুদ্ধ হয় জেলার লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দা এলাকায় যুদ্ধ হয়।

এ সময় মিত্র বাহিনীর বিমান বহর এসে পড়লে পাক সেনারা পিছু হটে।পরে মিত্র বাহিনীর আক্রমনে পাকসেনাদের গানবোট বিধ্ধস্ত হয়।এ যুদ্ধে ৩ পাকসেনার লাশ পাওয়া যায়। স্থানীয় ১৪ থেকে ১৫ জনের মতো নিরীহ মানুষ মারা যায়।

এরপর ১০ ডিসেম্বর গভীর রাতে হানাদার বাহিনী মুন্সীগঞ্জে তাদের সুরক্ষিত দূর্গ হরগঙ্গা কলেজ থেকে পালিয়ে যায়। মুক্তিসেনারা ১১ ডিসেম্বর ভোরে তা টের পায়।এ খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পরার-পরই আনন্দ-বিজয় মিছিলে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে মুন্সীগঞ্জবাসী।

 

 

 

 

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১১ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/সকাল ৮:৫৭