১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:২৪

জামালগঞ্জে প্যারা শিক্ষক দিয়ে চলছে হাওরপারের পাঠদান

 

হাবিবুর রহমান.সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: জামালগঞ্জের হাওরপাড়ের বিদ্যালয়গুলো চলে প্যারা ও বদলী শিক্ষক দিয়ে। আবার কোন কোন বিদ্যালয় দিনের পর দিন থাকে তালাবদ্ধ থাকে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা উপজেলা বা জেলা শহরে ফ্যামিলি নিয়ে থাকেন। সপ্তাহে দশদিন অন্তর অন্তর আসেন বিদ্যালয়ে।

আবার কোন কোন শিক্ষক মাসে একবার যান তার কর্মস্থলে। গেল মাসে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক বেহেলী ইউনিয়নের হরিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানে কাউকে না পেয়ে ঐ দায়িত্বরত শিক্ষককের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে পত্র দিলে এখন পর্যন্ত ঐ অভিযুক্ত শিক্ষক সাময়িক বহিস্কার অবস্থায় আছেন।


জামালগঞ্জ উপজেলায় হালির হাওরপাড়ের বেহেলী ইউনিয়নের মাহমুদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাওরিয়া আলীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আল ইমরান।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাহমুদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে ৯ জন ও চতুর্থ শ্রেণীতে ১০ জন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত রয়েছে।বিদ্যালয়ে মুখলেছুর রহমান (৬০) নামের একজন প্যারা শিক্ষক পাওয়া যায়। তিনি জানান, তিনিই দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস নিচ্ছেন।


একই ভাবে হাওরিয়া আলীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান বিদ্যালয়ে ৪-৬ তারিখ পর্যন্ত ছুটির দরখাস্ত দিয়ে ৭ তারিখেও অনুপস্থিত আছেন। দেখা যায় বিদ্যালয়ের সদ্য যোগদানকারী একমাত্র সহকারী শিক্ষক চৈতালী বণিক বিদ্যালয়ে সব ক্লাসেরই পাঠদান করাচ্ছেন।


পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম চন্দ্র তালুকদার, গণমাধ্যমকর্মী ওয়ালী উল্লাহ সরকার।


হাওরিয়া আলীপুরের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান বলেন, ‘আমি আমার মাকে নিয়ে সিলেটে চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত আছি। আসার সময় তিন দিনের ছুটি নিয়ে এসেছিলাম। গ্রামের মানুষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।


মাহমুদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক ফয়েজ আহমদ ও অন্তরা দাসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তাদের পাওয়া যায়নি।


উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মীর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে এই বিষয়ে অবগত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আমি তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান বলেন,আমি উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

 

কিউএনবি /রিয়াদ/৯ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং /বিকাল ৩:০০