২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:৩৫

গলাটিপে স্ত্রীকে হত্যা, পাষণ্ড স্বামীর স্বীকারোক্তি

 

ডেস্ক নিউজ : ঝালকাঠিতে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যার পরে মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যার প্রচারণা চালানোর কথা অবশেষে স্বীকার করেছেন স্বামী মাইনুল ইসলাম হিমু আকন (২৫)। তবে তার বাবার পরামর্শেই তিনি এই বিষপানের নাটক সাজিয়েছেন বলে জানান। মঙ্গলবার  ঝালকাঠি সদর থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেনের কাছে স্ত্রীকে হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন তিনি। 

ঝালকাঠি থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন জানান, প্রায় তিন বছর আগে দুই পরিবারের সম্মতি ছাড়াই শহরের কাঠপট্টি সড়কের মিল্টন আকনের ছেলে মাইনুল ইসলাম আকন হিমু একই এলাকার আসলাম ফরাজীর মেয়ে সুরাইয়া ইয়াসমিন গার্নাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে ছেলের পরিবার এই সম্পর্ক মানছিল না। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ লেগে ছিল।

রোববার সকালে গার্নাকে ফোন করে হিমু তার বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মুড়ি ও সেমাই তৈরির কারখানার’ ওপরে একটি কক্ষে আসতে বলেন। গার্না দুপুর ১২ টার দিকে ওই কক্ষে আসেন। সুস্থ মস্থিস্তেকে ও স্বজ্ঞানে হিমু গলাটিপে তার নিজ স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা হিমু তার বাবাকে জানান। বাবা মিল্টন আকন মৃত স্ত্রীর মুখে বিষ ঢেলে দেওয়ার বুদ্ধি দেন ছেলেকে। এমনকি ছেলেকেও নিজের মুখে বিষ ঢালার পরামর্শ দেন তিনি।

এ ঘটনায় নিহত সুমাইয়ার বাবা আসলাম ফরাজী বাদী হয়ে সোমবার ঝালকাঠি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী মাইনুল ইসলাম হিমু আকন (২৫), শ্বশুর মিল্টন আকন (৫০), শাশুড়ি আয়শা বেগম (৪২) ও মুড়ির মিলের ম্যানেজার মো. মাহফুজকে আসামি করে অজ্ঞাত নামা আরো আছে বলে জানান।

ঝালকাঠি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, গার্নার মৃত্যুর পরের সব নাটক সাজিয়েছেন হিমুর বাবা মিল্টন আকন। ঘটনার পর থেকেই আসামীর বাবা মিল্টন আকন ও অপর আসামিরা পালাতক। পুলিশ মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং/রাত ৯:১০