২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১০:৩৯

শিক্ষক সমাজের দাবী কি অযৌক্তিক?

আব্দুল হাই রঞ্জুঃ
প্রায় প্রতিদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন সংগঠন তাদের ব্যানার হাতে বিভিন্ন দাবী দাওয়া আদায়ে নানা কর্মসূচী পালন করে থাকে। উদ্দেশ্য একটিই- জাতির বিবেক সাংবাদিকদের মাধ্যমে তাদের দাবী দাওয়া পত্রিকায় ছাপা কিম্বা ইলেকট্রোনিক মিডিয়ার প্রচার হলে অতি সহজেই সরকারের কর্নগোচর হবে।

অনেক সময়ই রাস্তা বন্ধ হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বচসা হয়; এমনকি তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, লাঠি চার্জ করতেও পিছ পা হন না। এতে অনেকেই আহত হন, আবার অনেককেই হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে হয়। বলতে গেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মুখ রাস্তা এখন দাবী আদায়ের সুতিকাগারে পরিণত হয়েছে।

উপায় কি, এ ছাড়াতো অন্য কোন গতন্তর থাকে না। অতিসম্প্রতি ‘রোয়ানু’র কবলে যখন দক্ষিণাঞ্চল লন্ডভন্ড হচ্ছে, যার প্রভাবে ঢাকায় রাত দিন জুড়েই ছিল ব্যাপক বৃষ্টিপাত। প্রচন্ড বৃষ্টির সকাল, আমি প্রেসক্লাবের সামনে বাস থেকে নেমে ছাতা হাতে রাস্তায় উঠতেই দেখলাম প্রচন্ড বৃষ্টিতে দীর্ঘ লাইনের মানববন্ধনে অংশ নেয়া আন্দোলনকারীরা লম্বা পলিথিনে কোন রকমে মাথা ঢেকে নানা স্লোগান দিচ্ছেন। মনে হলো, অঝরে পড়া বৃষ্টিপাত আন্দোলনকারীদের ন্যুনতম লটাতে পারেনি। এটাই স্বাভাবিক, এটুকু কষ্ট করেও যদি দাবী দাওয়ার কিছু আদায় হয়, তাহলেও হয়ত সংসারে স্বস্তি ফিরে আসবে। এ আশায় বুক বেঁধে রোদ, বৃষ্টি, ঝড়কে উপেক্ষা করা হয়ত তাদের কাছে কঠিন কিছু নয়।

অতি সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি বা আইসিটির শিক্ষকদের অবস্থান ধর্মঘট চলছিল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। সে দিন প্রাকৃতিক বৃষ্টিতে আন্দোলনকারীদের গা না ভিজলেও গা ভিজে যায় পুলিশের জল কামানের পানিতে। রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান নেয়ায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে মারমুখি হতে হয়। হওয়াই স্বাভাবিক, কারণ রাস্তা বন্ধ করে যানচলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হলে পুলিশের তো আর কোন উপায় থাকে না। এটাও যেমন সত্য, তেমনি প্রচন্ড রোদ, বৃষ্টিতে শিক্ষকরা কেন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে, তাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভেবে দেখাও উচিৎ নয় কি? বিংশ শতাব্দির বিশ্ব এখন যে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর, যা নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রতিটি সেক্টরকে তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ফলে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয় খোলা হয়েছে এবং যথারীতি পাঠদান কার্যক্রমও চালু আছে।

ভাবতে অবাক লাগে, যেখানে সরকার বলছে দেশ হবে ডিজিটাল, যেখানে দেশকে ডিজিটাল করতে হলে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পাঠদান করার কোন বিকল্প থাকতেই পারে না, সেখানে নিয়োগ পাওয়া তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষকদের কেন রাস্তায় নেমে বেতনের দাবীতে আন্দোলন করতে হবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা তাঁরই পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়। যিনি মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন সেমিনারে তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তৃতা করেন। এমনকি যিনি অতি সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনামুলে ট্যাপ বা মিনি ল্যাপটপও সরবরাহ করেছেন। এটা মহৎ উদ্যোগ, সন্দেহ নেই, কিন্তু কম্পিউটার বা ল্যাপটপ চালাতে হলে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই এ বিষয়ে পাঠদান করতে হবে। সংগত কারণেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে আইসিটি শিক্ষকদের বেতন ভাতার ব্যবস্থা করা। যেন বেতন ভাতার দাবীতে আর আইসিটি শিক্ষকদের আন্দোলন করতে না হয়।

মহান স্বাধীনতা অর্জন রাতারাতি আসেনি। এ জন্য বাঙালী জাতিকে দীর্ঘ সংগ্রাম আন্দোলনের পিচ্ছিল পথকে পাড়ি দিতে হয়েছে। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, তৎকালিন স্বৈরশাসক পাকিস্তানী সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা অর্জন করেছি আমাদের মহান স্বাধীনতা। ইতিমধ্যেই স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫টি বছর অতিবাহিত হলেও আজও স্বাধীনতার ঘোষককে ঘিরে বির্তক চলছেই। অর্থাৎ স্বাধীনতার সত্যিকারের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা একান্ত জরুরী। সে চিন্তাকে মাথায় নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিএ (পাস), অনার্স, মাস্টারস্ পর্যায়ের সকল বিভাগে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’ বিষয়টিকে আবশ্যিক করেছে।

ইতিমধ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে অনেক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই পদে বিধি অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পাঠদান কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, এই বিষয়টিকে আবশ্যিক করা হলেও নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন ভাতা প্রদানের আদেশ অদ্যাবধি জারি করা হয়নি। যেখানে পাঠ্যক্রমে একটি বিষয়কে আবশ্যিক করে সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাধীনতা অর্জনের প্রকৃত ইতিহাস জানার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে, সেখানে কেন এবং কোন যুক্তিতে ঐ বিষয়ে কর্মরত শিক্ষকদের বেতন ভাতাদি দেওয়া হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাসকে সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলে ধরার স্বার্থে বিষয়টিকে যেভাবে আবশ্যিক বিষয় হিসাবে গন্য করা হচ্ছে, সেভাবে আবশ্যিক বিষয়ের ওপর কর্মরত শিক্ষকদের বেতন ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা সরকারের নেয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি।

তাহলে অভূক্ত থেকে স্বাধীনতার মৌলিক দাবী অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার অভাবে থেকে হয়ত শিক্ষকদের আর পাঠদান করতে হবে না। সবাই জানি, শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি ততই উন্নত। জাতি হিসেবে আমরা বীরের জাতি, এটা আমাদের অহংকার। তবে জাতি হিসেবে আমরা কতটুকু শিক্ষিত, এর জবাবে বলতে হবে, শিক্ষায় আমাদের অর্জন খুব বেশি নয়। যেখানে শিক্ষা গ্রহণের মূল নিয়ামকই হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেখানে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সরকারের ব্যয় বরাদ্দ বলতে গেলে যৎসামান্যই। ফলে স্বাধীনতাত্তর গত ৪৫ বছরে দেশে প্রাথমিক স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে, যার সিংহভাগই হয়েছে দেশের শিক্ষাণুরাগী, দানশীল বিশেষ ব্যক্তিদের উদ্যোগেই। যেগুলোতে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে সরকার। এখন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেতনের শতভাগ সরকারি কোষাগার থেকে পেলেও এমন এক সময় ছিল যখন সরকারি কোষাগার থেকে পুরো বেতন দেওয়া হতো না।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে সরকার প্রতিমাসে ৯৪০ কোটি ৪৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা বেতন আকারে দিচ্ছে। আর বর্তমানে সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫ হাজার ২৪২টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন ৭৫ হাজার শিক্ষক, কর্মচারী। যারা ২০১২ সালের শেষ পর্যায়ে এমপিওভূক্তির দাবীতে ক্লাস বর্জন করে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেন। সে সময় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের আন্দোলন বন্ধ করে শ্রেণী কক্ষে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, আগামী ৩ মাসের মধ্যে এমপিওভূক্তির ব্যবস্থা করা হবে। আবার ২০১৪ সালের আগষ্টে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে নতুন এমপিওর নীতিমালা তৈরির তাগিদও দিয়েছিলেন। সে মোতাবেক নীতিমালা তৈরি হলেও অদ্যাবধি এমপিওভূক্তির কোন প্রকার অগ্রগতি হয়নি।

এ অবস্থায় নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট এমপিও ভূক্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। যেখানে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো এখন অনেকটাই মজবুত। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ইতিমধ্যেই ২৯ হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। যা দিয়ে অন্তত এক বছরের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। যেখানে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেখানে মাত্র ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী ও সৃষ্ট পদের শিক্ষকদের বেতন ভাতা দেওয়া কি খুবই কঠিন? বাস্তবে কঠিন না হলেও যা সত্য, শিক্ষা খাতের ওপর সরকারের তেমন কোন নজর নেই, যা বলার অপেক্ষা রাখে না। শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে যারা সার্বক্ষণিকভাবে জড়িত, যাদের হাতে প্রতি বছরই হাজার হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা শেষে সনদ নিয়ে বেরিয়ে আসছে, সেই শিক্ষক সমাজকে অভূক্ত রেখে আর যাই হোক, শিক্ষার প্রসার ঘটানো কশ্মিনকালেও সম্ভব নয়। আমরা মনে করি, মানবেতর পরিবেশে বেঁচে থাকা এই শিক্ষক সমাজকে উপযুক্ত বেতন ভাতার আওতায় আনা সরকারের জন্য একটি অপরিহার্য্য কর্তব্য।

কথায় আছে, ‘যার নেই কোন গতি, সেই করে পন্ডিতি’। মানুষ গড়ার কারিগর পন্ডিত সমাজের আর এক দুর্গতির নাম হলো ‘অবসর ভাতা’। বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী চাকুরি শেষে মাত্র ৭৫ মাসের বেতন-ভাতার সমপরিমাণ অর্থ-অবসর ভাতা হিসেবে পেয়ে থাকেন। জানা গেছে, গত কয়েক বছর যাবৎ অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীগণ অবসর ভাতার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অবসর বোর্ডে জমা দেয়ার পরও অবসর ভাতা পাচ্ছেন না। শুধু মাত্র হজ্বে গমেনুচ্ছুকদের খরচ বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেউ কেউ পেয়ে থাকেন। এমন অনেকেই আছেন যারা চাকুরি শেষে জীবন সায়াহ্নে এসে অর্থ কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। যাদের পক্ষে হয়ত হজ্বব্রত পালন করাও সম্ভব হয় না। আবার যারা হিন্দু সম্প্রদায়ভূক্ত যাদের ধর্মে হজ্বব্রত পালনের কোন নিয়ম নেই। এই সব মানুষের অবসর ভাতা পাওয়ার উপায় কি? সরকারি বেসরকারি সকল চাকুরীজীবিই স্বপ্ন দেখেন, চাকুরী শেষে অবসর ভাতা কিম্বা পেনশন দিয়েই বাকী জীবনটা কিছুটা স্বস্তি নিয়েই বেঁচে থাকবেন। যা সরকারি চাকুরীজীবিদের ক্ষেত্রে সরকারি সুযোগ সুবিধার শত ভাগ নিশ্চয়তা থাকলেও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এককালিন মাত্র ৭৫ মাসের বেতন দেওয়ার বিধান চালু থাকলেও অবসরে যাওয়া প্রায় ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী টানা ক’বছর যাবৎ অবসর ভাতা পাচ্ছেন না।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি এ ধরনের আচরণ কি শুধুই অমানবিক না অবিচারও বটে! অতি সম্প্রতি সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ভোগান্তি কমাতে এমন এক আদেশ জারি করেছে, যে আদেশে বলা হয়েছে- পেনশনে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের পেনশন আবেদনের জন্য অনাপত্তি পত্র এখন আর যোগাড় করতে হবে না। আবেদন পাওয়ার এক মাসের মধ্যে পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষই “না” দাবি প্রত্যয়ন পত্র সংগ্রহ করবেন। তারা ব্যর্থ হলে আবেদনকারীর কাছে কোন দাবি নেই ধরে নিয়ে আবেদনের নিষ্পত্তি করবেন। এমনকি অস্থায়ীভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীগণও এখন থেকে পেনশন পাবেন। যখন সরকারি চাকুরীজীবিদের জন্য সরকার এতসব সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে, তখন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মাত্র এককালিন ৭৫ মাসের বেতন ভাতা প্রদানে এত কেন অনিহা, যা ভাবতেও কষ্ট লাগে বৈকি! অবশ্য সরকার ইতিমধ্যেই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসর গ্রহণকারী শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ‘সিডমানি’ হিসেবে ৬৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। আমরা মনে করি, ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর ভাতা প্রদানে এই অর্থ যথেষ্ট নয়। নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারী, আইসিটি শিক্ষক ও আবশ্যিক বিষয় ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের ইতিহাস’ বিষয়ে কর্মরত শিক্ষকদের বেতন ভাতাদির জন্য আগামী ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রেখে শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার আরো আগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদি।

উপসংহারে বলতে চাই, মহাজোট সরকার ২০ হাজারেরও বেশি রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলকে জাতীয়করণ করে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে কার্যকর করেছে। এমনকি মহান স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। সেই সরকারের আমলে বেসরকারি শিক্ষক – কর্মচারীগণ জীবন সায়াহ্নে এসে সামান্য অবসর ভাতার অভাবে দুঃসহ মানবেতর জীবন যাপন করবে, এটা কোন ভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

কুইকনিউজবিডি.কম/টিআর/০১.০৬.২০১৬/১৭:৩০