২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১০:২১

নোয়াখালী জেলা পরিষদের হিসাবরক্ষক জেল হাজতে

নোয়াখালী থেকে, নাসির উদ্দিন বাদল ঃ ২ কোটি ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮শ ২৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নোয়াখালী জেলা পরিষদের হিসাবরক্ষক কে আজ মঙ্গলবার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। নোয়াখালী জেলা পরিষদের হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ তারিক হাসানকে (৪১) কে রাতে তাকে শহরের সোনাপুর এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় তারিক হাসানের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন প্রধান সহকারী সবিতা রানী দাস। মামলায় জালিয়াতির মাধ্যমে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮২৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

পুলিশ জানায়, তারিক হাসানের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে। তিনি ২০০৯ সালের ৯ নভেম্বর থেকে নোয়াখালী জেলা পরিষদের হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, সম্প্রতি জেলা পরিষদের হিসাব নিরীক্ষায় বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা অর্থের হিসাবে গরমিল ধরা পড়ে। বিষয়টি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর নজরে আসার পর গত ১২ মে তিনি সহকারী প্রকৌশলী মো. আক্তার হোসেন চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

সূত্র জানায়, গত ২৪ মে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে জনতা ব্যাংকের সোনাপুর শাখায় জেলা পরিষদের চলতি হিসাব থেকে বিভিন্ন সময় জালিয়াতির মাধ্যমে আনুমানিক ২ কোটি ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮২৮ টাকা তোলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সূত্র আরও জানায়, তদন্ত চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদে জেলা পরিষদের হিসাবরক্ষক তারিক হাসান জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি ৩০ হাজার টাকা পরিষদের হিসাবে জমা দিয়েছেন। ২৬ মে হিসাবরক্ষক তারিক হাসানকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। সুধারাম থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, তারিক হাসানকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। জানতে চাইলে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খুরশিদ আলম বলেন, হিসাবরক্ষক তারিক হাসান জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে জনতা ব্যাংকের হিসাব থেকে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮২৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি এরই মধ্যে লিখিতভাবে আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে পরিষদের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক তালেবুর রহমান জানান, তারিক হাসানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি তদন্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে রিমান্ডে এনে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সূত্র জানায়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ রাতে অফিস করে, দিনে আসেন না। এটি জিজ্ঞাসা করলে অফিস কর্তৃপক্ষ জানায়, সে হিসাব-নিকাশে পারদর্শী। দিনে অফিস না করলেও চলে। এ নিয়ে নোয়াখালীর সকল অফিস কর্মকর্তাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কুইকনিউজবিডি.কম/রাশিদুল/৩১.০৫.২০১৬/২১.০০