১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:১৩

ভারুয়াখালী ও পিএমখালীতে মেম্বার প্রার্থীর বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ

এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজারঃ কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালী ও পিএমখালী ইউনিয়নে দুই মেম্বার প্রার্থীর বিজয় টাকার বিনিময়ে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলাফল বঞ্চিত এসব প্রার্থীরা ভোট পুনঃগণনার দাবী জানিয়ে ২৯ মে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বরাবর লিখিত আবেদন করেছে। একই অভিযোগে রামু ঈদগড়েও তিন পরাজিত প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

জানা যায়, সদরের ভারুয়াখালী ইউনিয়নের নির্বাচন গত ২৮ মার্চ সম্পন্ন হয়। কিন্তু এই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্ধিতাকারী মেম্বার প্রার্থী আজম সাহাব উদ্দিনের ( মোরগ) বিজয় টাকার বিনিময়ে চিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এঘটনায় পুনঃভোট গণনার জন্য ২৯ মে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তার কর্মী সমর্থকরা এক প্রতিবাদ সভাও করেন।

নিশ্চিত বিজয় টাকার বিনিময়ে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ তুলে মেম্বার প্রার্থী আজম সাহাব উদ্দিন বলেন, ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড ভারুয়াখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গণনা শেষে আমাকে ( মোরগ প্রতীক) ১৩ ভোটে বিজয় ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হুমায়ুন করিব ( সিনিয়র অফিসার, প্রাইম ব্যাংক, কক্সবাজার শাখা)। বিজয় ঘোষণা করার পর আমার কর্মী সমর্থকরা বিজয় উল্লাস করে রাস্তায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিজয় ঘোষণার কিছুক্ষণ পর আমাকে ৫৭৯ ভোট দেখিয়ে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী হাজি দিল মোহাম্মদ (আপেল প্রতীক) কে ১৬ ভোটে বিজয় ঘোষণা করে। টাকার বিনিময়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কর্মকর্তা হুমায়ুন করিব ( সিনিয়র অফিসার, প্রাইম ব্যাংক, কক্সবাজার শাখা) মোটা অংকের টাকা নিয়ে এঘটনা করেছে বলে অভিযোগে দাবী করেন তিনি।এব্যাপারে ভোট পুনঃগণনার জন্য ২৯ মে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

টাকার বিনিময়ে বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার প্রতিবাদে তার কর্মী সমর্থকরা এক প্রতিবাদ সভাও করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ সভাপতি তৈয়ব উল্লাহ মাতব্বর, ভোটার মিয়া হোছন, গোলাম হোছন, মমতাজ প্রকাশ ভদামিয়া ও আবু তালেব প্রমুখ। তারা অবিলম্বে ভোট পুনঃগণনার দাবী করেন।

এদিকে, সদরের পিএমখালী ইউনিয়নে গত ২৮ মার্চ সম্পন্ন হওয়া নির্বাচনে ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ছলিম উল্লাহ ছলিম (টিউবওয়েল) বিজয় হওয়ার পরেও তাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পরাজিত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার ভোট পুনঃ গণনার দাবীতে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা রির্টানিং কর্মকর্তা বরাবর ২৯ মে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

দায়েরকৃত আবেদনে জানা যায়, পিএমখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড থেকে টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন ছলিম উল্লাহ ছলিম। কিন্তু নির্বাচনের দিন ৭নং ওয়ার্ডের মোহসনিয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বরত ভোটগণনাকারী গণ প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিযুক্ত পোলিং এজেন্ট ও নির্বাচনী এজেন্টকে জিম্মি করে ভোট গণনা করেন।

তিনি আরো দাবী করেন, ওই কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার মোঃ মোমেন খান ( সদর উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার) আমার প্রাপ্ত ভোটগুলো যথাযত ভাবে পোলিং এজেন্ট ও নির্বাচনী এজেন্টকে দেখায়নি। এমনকি আমার প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী আহম্মদ কবির (ফুটবল) কে ৪৩৫ ভোট দেখিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করেন। আমার প্রাপ্ত ভোট দেখান ৪০৯ ভোট ও ১৭ ভোট বাতিল দেখানো হয়। নির্বাচনী এজেন্ট আলমকে লিখিত ভাবে ফলাফলও দেননি। অন্যায় ভাবে ভোট গণনার কারণে আমার অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে এবং এব্যাপারে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাবেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী আহম্মদ কবির এর কর্মী সমর্থকারা সকাল থেকেই আমার ভোটারদের কোনটাসা করে রাখেন। আমি এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাকে নাজেহালও করেন।

এব্যাপারে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোঃ মোমেন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এধরনের কারচুপির কথা অস্বীকার করেন এবং সুষ্টু ভোট গণনা হয়েছে বলে দাবী করেন।

এদিকে, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বেদারুল আলমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন ধরনের বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

অপরদিকে, রামু উপজেলার ঈদগড়ে ইউপি নির্বাচনে নিশ্চিত বিজয় টাকার বিনিময়ে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে ৩ পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর নেতৃত্বে রোববার সকাল ১১ টায় ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা ঈদগড় বাজারে অনুস্টীত হয়।

ঈদগড় ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের শত শত নারী পুরুষ পরাজিত মেম্বার প্রার্থী আবুল কালাম আব্দুস সালাম ও বদি আলমের নেতৃত্বে কথিত বিজয় মেম্বার শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে ঈদগড় বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ করেন।

কুইকনিউজবিডি.কম/টিআর/২৯.০৫.২০১৬/২২:৩০