১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:১৪

সাতক্ষীরায় দুইভায়ের চালবাজিতে সর্বহারা কয়েকটি দারিদ্র পরিবার

 

ফাহাদ হোসেন, সাতক্ষীরা:সমবায় সমিতির নামে অবৈধভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিত হওয়া একটি ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে এবং লাখপতি হয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী কর্মকর্তারা।


কয়েক হাজার গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় আরডিপি ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ফাইন্যান্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। মোটা অঙ্কের লাভ দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ ছিল প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কৌশল। আর একাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া ছিল কিছু দালাল। যাদের কাজ ছিল সাধারণ জনগণকে বুঝিয়ে তাদের নিকট থেকে টাকা সংগ্রহ করা। আরডিপি নামক মূল প্রতিষ্ঠানটি পালিয়ে গেলেও আরডিপি-র প্রদত্ত ঋন সংগ্রহ করে কোটিপতি হচ্ছে সেই অসাধু দালালরা।


এরকমই একটি অভিযোগ উঠেছে মাছখোলার মোড়ল পরিবারের মৃত শাহাদাৎ মাস্টারের ছেলে রোকনুজ্জামান বাবলুর দিকে। বিশস্থসূত্রে জানাযায়, স্বল্পশিক্ষিত বাবলু গ্রামে এবং গ্রামের বাইরে আরডিবির একটি বড় অফিসার নামে আত্মপ্রকাশ করে জনগনের কাছে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে টাকা সংগ্রহ করে। তার একাজে সহায়তা করে তার বড় ভাই হাবলু মোড়ল, তারা নিজেরাই এই টাকার জিম্মি নিয়ে মানুষের নিকট থেকে টাকা সংগ্রহ করত এবং মাস শেষে তাদের লাভের টাকা তাদের বাড়িতে পৌছে দিত। সংগ্রিহীত টাকা থেকে ব্যাবসায়িদের ঋন প্রদান করত তারা।


আরডিবি প্রতিষ্ঠানটি মানুষের জামানতের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেলে কপালখোলে হাবলু ও বাবলু নামের দুই ভাইয়ের। অবৈধ ভাবে টাকা সংগ্রহ করার জন্য বাবলু ১৮মাস জেল খেটে বের হয়ে আদায় করতে থাকে আরডিপি কর্তৃক প্রদত্ত ঋনের লক্ষ লক্ষ টাকা।


এসম্পর্কে জানতে চাইলে মাছখোলা গ্রামের মহিদুল ইসলাম জানান, বাবলু তার বাবার মার্কেট দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ৬লাখ ৫০হাজার টাকা নিয়েছিল। বলেছিল, এটা ইসলামি প্রতিষ্ঠান টাকা মার যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই । আপনি আমাকে বিশ^াস করে দেখেন কোম্পানি যাদি চলে যায় তাহলে আমি দেব আপনার টাকা। আমার বাপের তো কম নেই। কিন্তু এখন টাকা চাইতে গেলে শুধু লম্বা লম্বা দিন নেয় । ৩টা ব্যাকের চেক দিয়েছে টাকা তুলে নেয়ার জন্য সেই চেকেও কোন টাকা নেই।


একই গ্রামের দিলিপ কুমার জানান, বাবলু আর হাবলু তার বাবার জমি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ১লাখ টাকা নিয়ে গেছে। এখন টাকা চাইতে গেলে বলে হুমকি দেয়।
এছাড়া মহান্দ, দেবাশি, ওরেবিন্দ, নাওযোয়ালির থেকে একই অঙ্গিকারে যাথাক্রমে ১লাখ ৫০হাজার টাকা, ১ লাখ টাকা, ৫০ হাজার টাকা ও ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে বাবলু মোড়ল এবং হাবলু মোড়ল।

এব্যাপারে বাবলুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যখন কোম্পানি ছিল তখন কোম্পানির উপর ভরসা করে আমি টাকা নিয়েছিলাম একন কোম্পানি নেই আমি মানুষের কাছ থেকে আদায় করে আস্তে আস্তে পরিশোধ করার চেষ্টা করব।


বিশস্থ সূত্রে জানাযায়, বাবলু এবং হাবলু গ্রাহকের টাকা আদায় করে বাড়ি বানাচ্ছে বড় প্লটে জমি কিনেছে। কিন্তু এই বাবলুর চালবাজির শিকার গ্রামের একাধিক দরিদ্র পরিবার। তারা প্রশাসন এবং সরকারের নিকট সাহায্য প্রার্থী।

কিউএনবি /রিয়াদ/১৪ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং/সন্ধ্যা ৬:৫২