১৮ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৩রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:২৯

পদ্মার ভাঙ্গন কবলিত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতা


বিশেষ প্রতিবেদক : শরীয়তপুরের জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটা বৃহত অংশ পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে কবলিত হয়ে পদ্মাগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। সে সাথে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ বিলিন হয়েছে। একই সাথে জাজিরা উপজেলার জাজিরা ইউনিয়নের পাথালিয়া কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পদ্মার গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। সেই সাথে শিক্ষকদের দায়িত্ব-কর্তব্যবোধও বিলিন হয়ে গেছে।


পদ্মা নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুঃখ-দূর্দশার প্রতিবেদন করতে গিয়ে সময় জ্ঞানহীণ, মূল্যবোধের নৈতিক অবক্ষয়য়ের ভারে তলিয়ে যেতে দেখা শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার প্রতিবেদন করতে হলো।


১২ নভেম্বর রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা শহর থেকে ৩৫ কিলো মিটার দূরবর্তী পাথালিয়া কান্দির উদ্দেশে কয়েকজন সহকর্মীর সাথে রওয়ানা হই। সোয়া ১০টার মধ্যে পাথালিয়া কান্দি পৌছেছি। কিন্তু পাথালিয়া কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে একটি হেলে পড়া ব্রীজ দু’পাশে পল্লী বিদ্যুতের খুটি ফেলে সাকো তৈরী করা হয়েছে।

এলাকাবাসী সহ শিক্ষার্থীরা এই পথেই যাতায়াত করে। আমরাও মটর বাইক রেখে একই পথে হাটতে শুরু করলাম। আমাদের অতিক্রম করে ছাতা মাথায় একজন ভদ্র মহিলা দ্রুত চলে গেলেন। আমরাও প্রায় ৫ মিনিট হেটে রাস্তার উপর অস্থায়ী পাথালিয়া কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌছলাম। বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বুঝতে পারলাম তাড়াহুরো করে আসা ওই ভদ্র মহিলা এই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। সকাল সোয়া ১০টায় হলেও সে অন্যান্য শিক্ষকদের আগে বিদ্যালয়ে পৌছেছে। অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে ফোনে যোগাযোগ রক্ষা করতে কানে মোবাইল ফোন ধরে রাখছেন সে।


তার সাথে পরিচত হলাম। তার নাম আরিফা আক্তার। সে সহকারী শিক্ষক। তিনি জানায়, বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়ন রত রয়েছে। শিক্ষকদের ৬টি পদের মধ্যে ৪ জন পদায়ন আছেন। প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী বেগম শিক্ষা অফিসের মিটিং এ, সহকারী শিক্ষক মিলি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে, একমাত্র পুরুষ সহকারী শিক্ষক মেহেদী হাসান মিন্টু সেও বিদ্যালয়ে আসার পথে আছেন।


পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের দুপুর ১২টার পরে বিদ্যালয়ে আসার কাথা থাকলেও ওই সকল শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টা থেকেই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছে। উপস্থি পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী শিখা, আলো, রাব্বিদের সাথে কথা হয়। তারা জানায়, এবারের সমাপনী পরীক্ষায় তারা অংশগ্রহন করবে তাই মিন্টু স্যারের কাছে কোচিং ক্লাশ করতে এসেছে। মিন্টু স্যার কোথায় জানতে চাইলে অপেক্ষারত শিক্ষার্থীরা জানায়, স্যার আসবে। পৌনে ১১টার দিকে মিন্টু স্যার মটর বাইকারদের ব্যবহৃত একটি হেলমেট হাতে নিয়ে হুমরিতুমরি খেয়ে অস্থায়ী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলেন। সহকর্মী আরিফা মোবাইল ফোনে পূর্বেই সহকারী শিক্ষক মিন্টুকে সাংবাদিকদের উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন। তাই মিন্টু স্যার নিজের থেকেই দেরিতে আসার কারণ জানিয়ে বলেন, তার বাবার হাত কেটে যাওয়ায় তাকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন।


প্রায় ১০ মাস পূর্বে পাথালিয়া কান্দির পাশবর্তী বড়কান্দিতে একটা হত্যা কান্ড ঘটেছিল। হত্যার পরবর্তী ওই এলাকায় ব্যাপক বাড়ি-ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই প্রতিবেন করার জন্য প্রথম বার বড়কান্দি ও পাথালিয়া কান্দি গিয়েছিলাম। তখনও এসকল শিক্ষকগণ পাথালিয়া কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দাযিত্বরত ছিলেন। ওইদিনও এ শিক্ষকগণ দুপুর ১টা বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন নদী বাঙ্গন কবলিত এলাকা শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম তাই ছুটি দেয়া হয়েছে। এও বলেছিলেন শিক্ষার্থী উপস্থিত হোক বা না হোক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিদ্যালয়ে তারা অবস্থান করবেন। ১০ মাস পরেও তাদের কোন পরিবর্তন দেখা যায়ানি। তার মানে এটাই তাদের রুটিন ওয়ার্ক। দেখা যাক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ কি বলেন?


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়। তিনি বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকাল সারে ৪টা পর্যন্ত স্কুল টাইম। শিক্ষকদের অনিয়ম হলে নিউজ প্রচার করেন। তদন্তে কোন অনিয়ম ধরা পরলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

কিউএনবি/খায়রুজ্জামান/১৩ই নভেম্বর ,২০১৭ ইং/সন্ধ্যা ৬:৪৮