২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:২০

জিকার সঙ্গে স্নায়ু রোগের যোগসূত্র

নিউজ ডেস্ক : জিকা ভাইরাসের সঙ্গে স্নায়বিক রোগ ‘গিয়াঁ-বারে সিনড্রোম’ বা জিবিএস এর সম্পর্ক সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ জড়ো করছেন বিজ্ঞানীরা। এখন পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, তাতে স্নায়বিক রোগের পেছনে জিকার ভূমিকা খুব বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, জিকা ভাইরাসের সঙ্গে সম্ভবত বিরল এক স্নায়বিক রোগের সম্পর্ক আছে।

ধারণা করা হচ্ছে, মশাবাহিত রোগ জিকা যেসব অঞ্চলে ছড়িয়েছে সেসব অঞ্চলে স্নায়ুর রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে।

২০১৩ এবং ২০১৪ সালে ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ায় জিকা ভাইরাস ছড়িয়েছিল। সে সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফরাসি বিজ্ঞানীরা জিবিএস বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করেন। জিবিএস হলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে।

চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যাসেট’ এ বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা প্রকাশ হয়েছে।

তারা ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার ৪২ জন রোগীকে নিয়ে কাজ করেছেন, যাদের ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে জিবিএস হয়েছিল।

দেখা যায়, তাদের প্রত্যেকে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল এবং ৯৩ শতাংশের জিকা হওয়ার তিনমাসের মধ্যেই জিবিএস ধরা পড়েছিল।

ফরাসি বিজ্ঞানী আর্নো ফন্তানে জানান, জিকার সঙ্গে জিবিএস এর সম্পর্কটা এতটাই শক্ত যে ফুসফুসে ক্যান্সারের সঙ্গে তামাকের সম্পর্কের সাথে তার তুলনা চলে।

সাধারণত জিবিএস বা গিয়াঁ-বারে সিনড্রোমে আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ শতাংশের মৃত্যু হয়। তবে অনেকে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্ত মারাত্মক অসুস্থ থাকেন।

ফন্তানে বলেন, জিকা মহামারীতে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ‘ইনটেনসিভ কেয়ারের’ সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি আমাদের বিবেচনা করা উচিত।

প্রসঙ্গত, বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে জিকার সঙ্গে মাইক্রোসেফেলির, যার ফলে শিশুর মাথার আকার অস্বাভাবিক এবং ছোট হয়, সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। ব্রাজিলে গত অক্টোবর থেকে এখন অবধি ছয়’শ শিশুর জন্ম হয়েছে, যাদের মাথা স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট। জিকার সঙ্গে অন্যান্য রোগের এই সম্পর্কের লক্ষণ প্রকাশ হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।