১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:২৩

পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়ার কারণ ও প্রতিকার: ডাঃ ফারহানা মোবিন

বিদায় নিতে শুরু করেছে শীতকাল। এই সময়ের অন্যতম একটি সমস্যা হলো পায়ের তলা বা গোড়ালি ফেটে যাওয়া। এর কারণগুলো হলো:

১. শীতকাল বা যেকোনো শুষ্ক আবহাওয়াতে পায়ের ত্বকে আদ্রতার পরিমান কমে আসে। তখন তৈরি হয় পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়ার প্রবণতা।

২. অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল, ধূলাবালি, তীব্র পানি শূন্যতা, দীর্ঘদিন ধরে যতেœর অভাব, অপরিচ্ছন্ন জুতা পরিধান, অতিরিক্ত পুষ্টির অভাব।

৩. দীর্ঘ বছর ধরে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা বংশগতভাবে পায়ের তলা বা গোড়ালি ফেটে যাওয়ার ইতিহাস।

৪. সারাক্ষণ কাঁদা-পানিতে পায়ের গোড়ালি ভিজে থাকলেও এই সমস্যা হতে পারে।

৫. অল্প ফেটে গেছে এমন জায়গার চামড়াকে জোরে জোরে টেনে তোলা বা ছিড়ে দেওয়া।

৬. অতিরিক্ত অমসৃণ জুতা ব্যবহার করা।

৭. পা সার্বিকভাবে পরিষ্কার না করা, ভ্যাসলিন বা ময়শ্চার ব্যবহারের পরে তা সঠিকভাবে পরিষ্কার না করে আবার লোশান, ক্রীম বা ময়শ্চার ব্যবহার করা।

৮. ঠান্ডা লাগে বেশি, এমন ব্যক্তিরা সঠিকভাবে মোজা বা জুতা ব্যবহার না করা।

উপরোক্ত বিষয়গুলো হলো পা ফেটে যাওয়ার কারণ, সামান্য কিছু পরিচর্যা পারে, আমাদের এই সমস্যা দূর করতে।

 

পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়া প্রতিরোধে আমাদের করণীয়:

১. নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থেকে, পায়ের গোড়ালি যেন লোশান বা ময়শ্চার দিয়ে মসৃণ রাখা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

২. স্বাভাবিক পানিতে গোসল করুন। খুব ঠান্ডা লাগলে, অতিরিক্ত গরম পানি পায়ের গোড়ালিতে ঢালবেন না।

৩. অপরিচ্ছন্ন নোংরা জুতা ব্যবহার করবেন না। যাদের পা খুব বেশি ঘেমে জুতা ভিজে যায়, তারা পায়ের প্রতি যতœশীল হউন।

৪. উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন। শীতকাল পার হয়ে গেলেও পায়ের যতœ নিন। পায়ের জুতা নিয়মিত রোদে দিন। এতে রোগ-জীবাণু মরবে। অ্যালার্জির কোনো সমস্যা থাকলে, পায়ের প্রতি বিশেষ যতœশীল হউন।

৫. প্রতিদিন নিয়মিত অন্তত এক লিটার পানি পান করুন। মৌসুমী শাক সবজি, ফলমুল দেহের জন্য ভীষণ উপকারী।

৬. কোনো ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৭. গোড়ালি ফেটে গেলে বা চামড়া উঠে গেলে, টেনে ছিড়বেন না। অপরিচ্ছন্ন পায়ে লোশান বা ময়শ্চার ব্যবহার করবেন না।